পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় সচেতনতা জরুরি : জুনায়েদ

প্রকাশিত: ৮:৩৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২২, ২০২১

নিজের শোবার ঘর বা পড়ার টেবিল যতটা যত্ন করে গুছিয়ে রাখি, বাড়ির সামনের রাস্তাটি কি তার অর্ধেক গুরুত্বের সাথেও পরিচ্ছন্ন রাখি? খুব অবাক করা প্রশ্ন, না? আপনার শোবার ঘরের সাথে রাস্তার তুলনা? কথা বলতে চাচ্ছি আমাদের দেশের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা নিয়ে। তবে এরকম চিন্তা ভাবনা নিয়ে চলতে থাকলে দূর দেশের বিদেশীরা এসে আমাদের দেশ পরিষ্কার করে চোখে আঙ্গুল দিয়ে বার বার বুঝিয়ে দিয়ে যাবে, কত সুন্দর আমাদের এই দেশ! আর আমরা হাত গুটিয়ে দেখবো, অবাক হব।

নিজের দেশকে পরিচ্ছন্ন রাখতে অভিযান নয়, প্রয়োজন আমাদের সচেতনতা। দশের লাঠি একের বোঝা, এটা আমরা সবাই জানি। নিজে সচেতন হয়ে কিভাবে দেশটাকে পরিচ্ছন্ন রাখা যায়, সেই সম্পর্কে জেনে নিই।

আপনার আমার সবার বাসাতেই ময়লা হয়। নিয়মিত পরিষ্কার করে অনেকেই সেই ময়লাগুলো নিয়ে যেখানে সেখানে ফেলে দেই। একটু কষ্ট করে ডাস্ট বিনে ময়লা ফেললে কিন্তু আপনার আশেপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন থাকে। আপনাদের সুবিধার্থে এবং নগরের পরিষ্কার পরিছন্নতা রক্ষার্থে প্রায় কয়েক হাজার কর্মী নিয়জিত আছে ডাস্টবিনের ময়লা নিয়ে যাওয়ার জন্য।

আশেপাশে ডাস্টবিন না থাকলে মাটিতে একটা গর্ত খুঁড়ে তার ভেতর ময়লা ফেলে গর্তটি চাপা দিয়ে দিই।
বাসার বা অফিসের ময়লা সাময়িকভাবে রাখার জন্য একটি পাত্র ব্যবহার করি। চাইলে ময়লা ফেলার জন্য ব্যাগ ব্যবহার করতে পারি।

এলাকায় কয়েকটি ছোট ছোট ঢাকনাযুক্ত ডাস্টবিন রাখি। একটি ডাস্টবিন থাকলে সেখানে অনেক ময়লা জমে দুর্গন্ধ ছড়াতে পারে। সেক্ষেত্রে পরিষ্কার পরিছন্নতা তো বজায় থাকেই না, উলটো পরিবেশ দূষিত হয়ে পড়ে।

খাবারের প্যাকেট, পানির বোতল, ক্যান ইত্যাদি যেখানে সেখানে না ফেলে ডাস্টবিনে ফেলি। একটা ছোট ম্যাচের কাঠি বা থুতু থেকে শুরু করে বড় বড় ব্যাগ সব কিছু ডাস্টবিনে ফেলি।

বাসে বা পাবলিক যানবাহনে চলাচলের সময় যেখানে সেখানে ময়লা না ফেলি। ধূমপান করা থেকে বিরত থাকি। জানালা দিয়ে বাইরে থুতু না ফেলি।

আমরা অনেকেই রাস্তা দিয়ে যেতে যেতে ধূমপান করে থাকি। এটা শুধুমাত্র আপনার পরিবেশের ক্ষতিই করেনা আশেপাশের মানুষদেরও ক্ষতি করে।

ময়লা আবর্জনা না পোড়াই। এগুলোতে প্লাস্টিক থাকলে তা দূষিত ধোয়া নিঃসরণ করে। এতে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা যেমন নষ্ট হয়, পরিবেশও দূষিত হয়।

বাজার করার জন্য চট বা মশারীর কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহার করি। পলিথিন পরিবেশের জন্য ভাল না। আর বাজারের ব্যাগ ফেলে না দিয়ে পরিষ্কার করে রাখি। পরে আবার ব্যবহার করি।

খাবার বেঁচে গেলে সেগুলোকে যেখানে সেখানে ফেলে না দিয়ে কম্পোস্ট তৈরি করি। মাটির নিচে রেখে দিলে তা জৈব সারের ন্যায় কাজ করবে।

যেখানে সেখানে মলমুত্র ত্যাগ না করে টয়লেট ব্যবহার করি। বাসার বাইরে থাকলে পাবলিক টয়লেট ব্যবহার করি এবং টয়লেট করার পর প্রচুর পানি ঢেলে দিই। বাচ্চাদেরকেও সঠিক উপায়ে টয়লেট ব্যবহার করা শিখাই।

পরিবেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার সিংহভাগ দায়িত্ব ই আমাদের। আসুন নিজেরাও সচেতন হই অন্যদের ও সচেতন করে তুলি।

মাহমুদুর রহমান জুনায়েদ
অনার্স ২য় বর্ষ, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ
গুরুদয়াল সরকারি কলেজ।

Comments

comments