কটিয়াদীতে ৮ মাসের অন্তসত্ত্বা প্রতিবন্ধী স্কুলছাত্রী, ধর্ষক পলাতক

প্রকাশিত: ৭:৩৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৩, ২০২১

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে ৯ম শ্রেণীর এক শারীরিক প্রতিবন্ধী স্কুল ছাত্রীকে কৌশলে ধর্ষণ ও ৮ মাসের অন্তসত্ত্বা করার অভিযোগ উঠেছে চাচাতো ভাই সৈয়দ মিয়ার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মুমুরদিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম চাতল গ্রামে। এ ঘটনায় মেয়ের মা বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার দুই মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত অভিযুক্ত ধর্ষক সৈয়দকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

মামলার সূত্র মতে, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি শনিবার রাতে বসত ঘরে পড়াশোনা করছিলেন চাতল বাগহাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। এ সময় বাড়িতে কেউ না থাকায় বারান্দার দরজা দিয়ে প্রবেশ করেন অভিযুক্ত ধর্ষক সৈয়দ মিয়া। পরে প্রতিবন্ধী ওই শিক্ষার্থীকে নানা প্রলোভনে জোরপূর্বক দৈহিক মেলামেশা করে সে। এক পর্যায়ে তাকে (প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে) বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে পালিয়ে যায় সৈয়দ। পরবর্তীতে লোকলজ্জার ভয়ে পরিবারের কাছে বিষয়টি গোপন রাখে ওই স্কুলছাত্রী। ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে অভিযুক্ত ধর্ষক সৈয়দ মিয়া।

ওই স্কুলছাত্রী পরিবারের দাবি, সে বর্তমানে ৮ মাসের অন্তসত্ত্বা। বিষয়টি জানার পর চাচাতো ভাই সৈয়দ মিয়ার বাড়িতে বিয়ের দাবি নিয়ে অবস্থান নেয়। এসময় সৈয়দের বড় বোন পারভিন ওই ছাত্রীর পরিবারকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এই ঘটনায় চরম অপমানিত হয়ে বর্তমানে আত্মসম্মানের ভয়ে নিজ বাড়িতেই আত্মোগোপন করেন ভুক্তভোগী প্রতিবন্ধী স্কুলছাত্রী।

এদিকে, ঘটনা জানাজানির পর থেকে ছাত্রীর পরিবার বিচার পাওয়ার আশায় অনেকের দ্বারে দ্বারে ঘুরলেও সামাজিক ভাবেও কারো সহযোগিতা না পেয়ে হতাশ প্রকাশ করেন পরিবারটি। পরে সুষ্ঠু বিচারের আশায় আদালতের দারস্থ হয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

ওই ছাত্রীর মা জানান, আমার প্রতিবন্ধী মেয়ের সাথে চরমভাবে অন্যায় করা হয়েছে। আমি সামাজিকভাবে কারো কোন সহযোগিতা পাইনি। বরং আমাকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছে। আসামি সৈয়দ আমার মেয়েকে ধর্ষণ করেছে। আমি তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ফাঁসি চাই।

অন্যদিকে অভিযুক্ত সৈয়দ পলাতক থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে, তার বড়বোন পারভিনের বক্তব্য নিতে গেলে তিনি সাংবাদিকদের সাথে অসদাচরণ করেন। বলেন, আমার ভাই ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত নয়। পলাতক কেন জানতে চাইলে তিনি কোন সঠিক উত্তর দিতে পারেনি।

কটিয়াদী মডেল থানার ওসি শাহাদত হোসেন জানান, ‘আদালত থেকে গ্রেফতারের ওয়ারেন্ট পেয়েছি। আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছে। তবে, শিগগিরই অভিযান চালিয়ে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।’

Comments

comments