ঢাকাশুক্রবার , ২৯ জুলাই ২০২২
  1. অন্যান্য
  2. আন্তর্জাতিক
  3. খেলাধুলা
  4. দেশজুড়ে
  5. পজিটিভ বাংলাদেশ
  6. ফটো গ্যালারি
  7. ফিচার
  8. বিনোদন
  9. ভিডিও গ্যালারি
  10. সারাদেশ
  11. সাহিত্য
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কিশোরগঞ্জে নজর কাড়া উন্নয়নে দিনদিন বদলে যাচ্ছে গ্রামীণ দৃশ্যপট

প্রতিবেদক
Kolom 24
জুলাই ২৯, ২০২২ ১২:২৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

শোষণ বঞ্চনার শিকল ছিঁড়ে বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর দেশ বাংলাদেশ। শোষকদের বিষদাঁত ভেঙে দিয়ে বিশ্বের নির্যাতিত নিপীড়িত মানুষের ঘুরে দাঁড়ানোর প্রেরণাও বটে। মার্কিন কূটনীতিক হেনরি কিসিঞ্জার বলেছিল, বাংলাদেশ তলাবিহীন ঝুড়ি। বিশ্বে ভিক্ষুকের দেশ হবে বাংলাদেশ। পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, আমি বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছি। বঙ্গবন্ধুর বাণী অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়িত হয়েছে। দিনদিন কিশোরগঞ্জের গ্রামীন জনপদের নজর কাড়া উন্নয়ন দেখে এমনটাই বলছে সাধারণ জনগণ। জেলার সব স্তরেই উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে বদলে যাচ্ছে গ্রামীণ দৃশ্যপট। পাল্টে গেছে গ্রামীণ জনপদের জীবন যাত্রার মান।

কিশোরগঞ্জের বদলে যাওয়া গ্রামীণ এ দৃশ্যপটের মূল কারিগর হলেন দেশের অন্যতম বৃহৎ প্রকৌশল সংস্থা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কিশোরগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আমিরুল ইসলাম। তিনি কিশোরগঞ্জে যোগদান করেছেন গত বছরের ৭ নভেম্বর। যোগদানের পর থেকেই তার কর্মযজ্ঞে উন্নয়ন কর্মকান্ড যেন বেড়েই চলছে। তিনি বর্তমান সরকারের ভিশন ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ দেশের মর্যাদা অর্জনের লক্ষ্যে এলজিইডির মাধ্যমে আর্থসামাজিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়ন করে আধুনিক শহর ও গ্রাম উন্নয়নের মাধ্যমে নাগরিক সুবিধা প্রদানে সরকার ঘোষিত সকল কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। মূলত তার কারণেই গ্রামীণ জনপদের নজর কাড়া উন্নয়ন ঘটেছে যা ইতিপূর্বে কিশোরগঞ্জে হয়নি।

অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ মাসে বিভিন্ন উপজেলায় নির্মিত পাকা সড়ক প্রায় ২০ কিলোমিটার, বিভিন্ন ইউনিয়নে নির্মিত পাকা সড়ক প্রায় ১৩ কিলোমিটার, নির্মিত গ্রামীন পাকা সড়ক প্রায় ২৮ কিলোমিটার, নির্মিত ব্রিজ ও কালভার্ট প্রায় ৫৬৮ মিটার, উপজেলা কমপ্লেক্স ভবন ১টি, বৃক্ষরোপন করা হয়েছে প্রায় ৭ হাজার ৫০০টি, রক্ষনাবেক্ষনকৃত পাকা সড়ক প্রায় ২১৩ কিলোমিটার, মোবাইল রক্ষণাবেক্ষণকৃত পাকা সড়ক প্রায় ১০২ কিলোমিটার, রক্ষণাবেক্ষণকৃত ব্রিজ ও কালভার্ট প্রায় ৫৪১ মিটার, খননকৃত সেচ খাল প্রায় ৩৩ কিলোমিটার, নির্মিত ও সংস্কারকৃত বাঁধ প্রায় ১১ কিলোমিটার, নির্মিত প্রাইমারী স্কুলের সংখ্যা ২০টি সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া ৬টি পৌর ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

দীর্ঘদিন আটকে থাকা হোসেনপুর টু পাকুন্দিয়ার প্রায় ৪ কিলোমিটার সড়ক, হোসেনপুর টু বাকচান্দার প্রায় ১০ কিলোমিটার জিসি সড়ক, যশোদল মধ্যপাড়া টু যশোদল ইশাসুরের প্রায় ২ কিলোমিটার সড়কের কাজ শতভাগ সম্পন্ন করা হয়েছে। নীলগঞ্জ জিসি সড়কের উপর আটকে থাকা ৬৬ মিটার দীর্ঘ আরসিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করা হয়েছে। এছাড়াও বাজিতপুর উপজেলার আটকে থাকা সরারচর ভূমি অফিস ও দিঘীরপাড় ভূমি অফিসের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এমনকি এলাকার শ্রমিকগণের ২২ লক্ষ জন কর্মদিবস কাজের সুযোগ হয়েছে। নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আমিরুল ইসলাম যোগদান করার পর ২৩৬ কোটি ৫৫ লাখ ৯৮ হাজার টাকার উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে বলে জানা গেছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, সড়ক, সেতু, কালভার্ট খাল নির্মান হওয়ায় সড়ক যোগাযোগে স্বচ্ছলতার পাশাপাশি কৃষি ক্ষেত্রে হয়েছে কল্পনাতীত উন্নয়ন। নিকলীতে ২ কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যয়ে সাড়ে আট কিলোমিটার দৈর্ঘ বুরুলিয়া খালটি হাওরের ৫ হাজার হেক্টর ফসলি জমিকে সেচের আওতায় এনেছে। বদলে দিয়েছে নিকলীর কৃষির চিত্র। এতে গ্রামীণ জীবন যাত্রার উন্নয়নের পাশাপাশি ফিরে এসেছে গ্রাম বাংলার মানুষের প্রাণ। পল্লী অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে গতিশীল করতে কিশোরগঞ্জ এলজিইডি যে অবদান রাখছে তা আজ দৃশ্যমান। উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে উন্নয়নের শক্ত ভিত নির্মাণ করেই চলেছে এলজিইডি। অন্যদিকে কিশোরগঞ্জ এলজিইডি অফিসটির সৌন্দর্য বর্ধন করা হয়েছে। যা দেখলে প্রাণ জুড়িয়ে যায় আগত মানুষদের।

কিশোরগঞ্জ জেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, আমরা প্রতিটি নাগরিকের সুবিধা যেন সমানভাবে অর্জন করতে পারি সেজন্য একটি মহাপরিকল্পনা প্রনয়ন করে প্রতিটি উপজেলার উন্নয়ন করে যাচ্ছি। প্রতিটি উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থার মান বৃদ্ধি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশন ২০৪১ মোতাবেক ‘আমার গ্রাম, আমার শহর’ হবে। হাওর এলাকায় একসময় ধান কেটে কৃষকরা বাসায় নিয়ে যেতে পারতো না। আমরা সেখানে সাবমার্সেবল রোড করেছি এখন কৃষকেরা পানি আসার আগেই ধান কেটে তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে।

তিনি আরও বলেন, প্রায় একশ কোটি টাকা ব্যয়ে ইটনা উপজেলার বাদলা ইউনিয়নের ধনু নদী তীরবর্তী বর্শিকুড়া হইতে শেরপুর গ্রাম পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ নামে প্রস্তাবিত ৫৯০ মিটার দৈর্ঘ্য একটি ব্রিজের কাজ সমাপ্তির পথে। এই ব্রিজটি তিনটি জেলার মধ্যে সংযোগ স্থাপন করবে। মহামান্য রাষ্ট্রপতির হাত ধরে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করার জন্য এ উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে। এ উন্নয়নের সুফল কিশোরগঞ্জের মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে যাবে। সে লক্ষ্যে এলজিইডি কাজ করে যাচ্ছে।