ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৪ আগস্ট ২০২২
  1. অন্যান্য
  2. আন্তর্জাতিক
  3. খেলাধুলা
  4. দেশজুড়ে
  5. পজিটিভ বাংলাদেশ
  6. ফটো গ্যালারি
  7. ফিচার
  8. বিনোদন
  9. ভিডিও গ্যালারি
  10. সারাদেশ
  11. সাহিত্য
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সফল যুব সংগঠক আমিনুল হক সাদী

প্রতিবেদক
Kolom 24
আগস্ট ৪, ২০২২ ৩:৫৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মানব কল্যাণে নিবেদিত এক দিপ্ত যুবক। তার নাম আমিনুল হক সাদী। মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্যে, এই স্লোগানে বলিয়ান কিছু মানুষ শত বাধা বিপত্তি উপেক্ষা করে ও বাস্তবতার মধ্যে নিজেকে নিয়োজিত রাখেন যুব সমাজ তথা মানব সেবায়। আবার কিছু কিছু দুঃখী মানুষের দুঃখে পীড়ীত হন। দুঃখী মানুষের দুঃখ দূর্দশা দূর করার জন্য সমাজ ও দেশের মাঝে রাখেন অনন্য অবদান।

কিশোরগঞ্জের সফল যুব সংগঠক আমিনুল হক সাদী যুব সংগঠক হিসেবে অনন্য ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। তিনি ২০০৪ সালে কিশোরগঞ্জ যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হতে গবাদী পশু, হাস মুরগী, মৎস্য চাষ, গরু মোটাতাজা করণ, কৃষি বিষয়ক ট্রেডে প্রশিক্ষণ নিয়ে অন্যান্য যুব ও যুব মহিলাদের আত্নকর্মসংস্থান তৈরীতে দিকে মনোযোগি হন। প্রশিক্ষণলব্দ জ্ঞান বাস্তবে কাজে লাগিয়ে একজন যুব সংগঠক হিসেবে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। এখনও তিনি কাজ করে চলেছেন।

গুরুদয়াল সরকারী কলেজ থেকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ে মাস্টার্স পড়াশোনা করেও যুব সংগঠক সাদী সরকারী চাকুরীর দিকে না তাকিয়ে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিস থেকে প্রথম দফায় ৬০ হাজার টাকা ঋন নিয়ে সাদী সমন্বিত কৃষি খামার’ গড়ে তোলেন। এই খামারের পুকুরে মাছ চাষ, নিজস্ব জমিতে কৃষি ফসল ও বনায়ন নার্সারী তৈরী করেন।

সাদী বেকার জনগোষ্ঠীকে নিয়ে ২০১০ সালে গড়ে তোলেন “যুব উন্নয়ন পরিষদ’ নামে একটি যুব সংগঠন। এ সংগঠনটির মাধ্যমে বেকার জনগোষ্ঠীর কল্যাণে কাজ করে চলেছেন তিনি। এ সংগঠনের মাধ্যমে এলাকার দরিদ্র বেকার জনগোষ্ঠীর প্রায় আড়াই হাজার যুব ও যুব মহিলাকে বিভিন্ন সরকারী বেসরকারী দফতরের মাধ্যমে প্রশিক্ষিত হিসেবে গড়ে তোলেন। অনেকেই প্রশিক্ষণকে কাজে লাগিয়ে দেশ ও বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। স্থানীয় বেকার যুবকরা প্রশিক্ষণ পেয়ে পোল্ট্রিসহ বিভিন্ন কর্মকান্ডে নিজেদেরকে সফল হিসেবে গড়ে তোলেছেন।

২০০৬ সালে সাদী নিজ গ্রামে গড়ে তোলেন মহিনন্দ ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণ পরিষদ নামে আরও একটি সংগঠন। সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধিত হয়ে সংগঠনটির উদ্যোগে স্বেচ্ছাসেবামুলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিপুলভাবে প্রশংসিত হন এবং নানা পুরস্কারে ভূষিত হন। ২০১৯ সালে সাদী গড়ে তোলেন কিশোরগঞ্জ আর্কিওলজিক্যাল সোসাইটি নামে আরও একটি সংগঠন। যার মাধ্যমে জেলার ইতিহাস ঐতিহ্য ও পুরাকীর্তির উন্নয়ন ও সংরক্ষণে অবদান রেখে যাচ্ছেন তিনি। ২০২১ সালে গড়ে তোলেন ‘বয়স্ক ও যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’। এ প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে বয়স্কদেরকে শিক্ষা দান ও বেকার যুব সম্প্রদায়কে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রদান করে স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এসব প্রশংসনীয় কার্যক্রমে সাদী পেয়েছেন সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠান থেকে শতাধিক সম্মাননা সনদ ও পুরস্কার।

আমিনুল হক সাদী বলেন, আমার পথচলাটা ছিলো খুবই কঠিন পরিস্থিতিতে। নানা প্রতিকূল অবস্থা অতিক্রম করে আজ এক যুগে পা দিয়েছে আমার যুব উন্নয়ন পরিষদটি।

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা জেড এ সাহাদাৎ হোসেন বলেন, যুব সংগঠক আমিনুল হক সাদীর প্রতিষ্ঠিত যুব উন্নয়ন পরিষদকে আমরা নিবন্ধন দিয়েছি। তার সংগঠনের উদ্যোগে জাতীয় যুব দিবসসহ বিভিন্ন প্রশংসনীয় কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।

কিশোরগঞ্জ যুব উন্নয়ন অধিদফতরের উপপরিচালক ফারজানা পারভীন বলেন, যুব সংগঠক আমিনুল হক সাদীর প্রতিষ্ঠিত যুব উন্নয়ন পরিষদ নামের সংগঠনটি একাধিকবার পরিদর্শনে গিয়েছি। সে মুজিববর্ষে মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের যুব শক্তি বিষয়ে রচনা লিখে প্রথমে সদরে প্রথম হয়। পরে জেলা পযার্য়েও প্রথম স্থান লাভ করায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে তিন হাজার টাকার প্রাইজবন্ড ও ক্রেষ্ট এবং সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়েছে।