Notice: Function add_theme_support( 'html5' ) was called incorrectly. You need to pass an array of types. Please see Debugging in WordPress for more information. (This message was added in version 3.6.1.) in /home/kolom24/public_html/wp-includes/functions.php on line 5831 একটি সিজারিয়ান অপারেশনের গল্প

একটি সিজারিয়ান অপারেশনের গল্প

0

রাত তখন সাড়ে এগারোটা। তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে নান্দাইল উপজেলার গাঙ্গাইল ইউনিয়নের এক গর্ভবতী মা স্বর্ণাকে (১৮) নিয়ে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে আসেন তাঁর আত্মীয়স্বজনেরা। কর্তব্যরত ডাক্তার রেফার্ডের কাগজ দেখে হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মোঃ হেলাল উদ্দিনের সাথে কথা বলে আত্মীয় স্বজনদের পরামর্শ দেন শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার। যখন তাঁরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে পৌঁছায় তখন ঘড়ির কাটায় সময় প্রায় সাড়ে বারোটা। চারিদিকে শুনশান নীরবতা। জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বার্ণাকে গাইনী এন্ড অবস বিভাগ থেকে ভর্তি হতে বলা হয়। স্বর্ণার আত্মীয় স্বজনরা তাকে নিয়ে যান গাইনি এন্ড অবস বিভাগে। কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. জেরিন গর্ভবতী মা স্বর্ণার সাথে কথা বলে জানতে পারেন এটাই তার প্রথম বাচ্চা। বাচ্চা প্রসবের যে তারিখ ছিলো তার চেয়ে বেশি হয়ে যাওয়ায় পানি এবং রক্তপাত হচ্ছিল প্রসবের রাস্তায় পাশাপাশি  বাচ্চার ব্রীচ প্রেজেন্টেশন ছিলো। বুধবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ১০টার দিকে তাঁর নিকট আত্মীয়রা তাকে তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। দিন গড়িয়ে সন্ধ্যা নামে, সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত যখন ৯টা তখন তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তাকে রেফার্ড করা হয় কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে। ততক্ষণে কাতর স্বর্ণা।

ডা. জেরিন গর্ভবতী স্বর্ণার প্যাথলজিক্যাল রিপোর্ট দেখতে চান। স্বর্ণার আত্মীয় স্বজনরা শুধু আলট্রাসনোগ্রাফির রিপোর্ট দেখায়। কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. জেরিন চোখ কপালে উঠে যাবার অবস্থা। একেতো সকাল ১০টা থেকে স্বর্ণার পানি ভাঙা এবং প্রস্রাবের রাস্তায় রক্তপাত হচ্ছে অন্যদিকে গর্ভবতী মায়ের হিস্ট্রি না জেনে কিভাবে চিকিৎসা দিবেন। এমনকি স্বার্ণার রক্তের গ্রুপ পর্যন্ত জানেন না কেউ! ধাঁধায় পড়ে যান তিনি। পরামর্শ করেন হাসপাতালের পরিচালক ডা. হাবিবুর রহমানের সাথে। কি করা যায় এখন। ততক্ষণে ঘড়ির কাটায় রাত দেড়টা বেজে গেছে। ডা. হাবিবুর রহমান নির্দেশ দেন সিজার অপারেশন করার। ডা. জেরিন, ডা. সাজন, ডা. মামুন ও ডা. শামীম গর্ভবতী মা স্বর্ণাকে নিয়ে যান অপারেশন থিয়েটারে। ২০ মিনিট পর ডা. সাজন অপারেশন থিয়েটারের বাইরে এসে বলেন যেভাবেই হউক রক্ত লাগবে। এখন কি করবে ভাবনায় পড়ে যায় স্বর্ণার পিতা মোবারক, চাচা তবারক ও স্বামী আনিসুল। স্বর্ণার রক্ত পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে। ক্লিনিকে কর্মরত প্যাথলজিস্টের সহযোগিতায় রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করা সম্ভব হয়। স্বর্ণার চাচার রক্তের গ্রুপের সাথে রক্তের গ্রুপ মিলে যাওয়ায় রক্তের ব্যবস্থা হয়ে যায়। রাত তিনটায় চাচা তবারক ভাতিজি স্বর্ণাকে রক্ত দেন।

সিজার অপারেশন শেষে ডা. জেরিন বলেন, স্বর্ণার কোনো ধরনের প্যাথলজিক্যাল রিপোর্ট ছিল না। মা ও বাচ্চা দুজনেই মৃত্যু ঝুঁকিতে ছিলো। ডা. হাবিবুর রহমান স্যারের নির্দেশে তৎক্ষনাৎ অপারেশন করায় মা এবং বাচ্চা দুজনেই ভালো আছেন এখন।

ডা. সাজন বলেন, শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সব সময় কিশোরগঞ্জে রোগীদের সেবায় এক আস্থার প্রতীক৷ কিশোরগঞ্জের আপামর জনগণকে স্বাস্থ্যসেবা দিতে বদ্ধপরিকর এই হাসপাতাল টি। লোকবলের সংকট থাকলেও হাসপাতালটি ২৪ ঘন্টা পরিসেবা দিয়ে যাচ্ছে  কিশোরগঞ্জবাসিকে।

এনেস্থিসিয়া ডা. শামীম বলেন, প্যাথলজিক্যাল রিপোর্ট ছাড়া এনেস্থিসিয়া দেয়া অসম্ভব একটা বিষয়। ডা. হাবিবুর রহমান স্যারের সাথে আলোচনা করে আমরা এই সিজারিয়ান অপারেশনে সাফল্য অর্জন করতে পেরেছি। মা ও শিশু দুজনেই এখন সুস্থ আছেন।

শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, রাত সাড়ে বারোটার দিকে স্বার্ণাকে হাসপাতালে নিয়ে আসলে আমার পরামর্শে কর্তব্যরত ডাক্তার প্যাথলজিক্যাল রিপোর্ট দেখতে চায়। শুধু মাত্র আলট্রাসনোগ্রাফ ছাড়া তারা আর কোনো রিপোর্ট দেখাতে পারেনি। এমনকি রক্তের গ্রুপটাও জানা ছিলো না তাদের। মা ও বাচ্চা দুজনের জীবনই ঝুঁকিতে ছিলো তাই আমি পরামর্শ দেই সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য। আল্লাহর অশেষ রহমতে এখন মা ও শিশু দুজনেই সুস্থ আছেন।

স্বর্ণার বাবা মোবারকের সাথে কথা বলে জানা যায়, তাঁরা নান্দাইল উপজেলার গাঙ্গাইল ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রামের বাসিন্দা। দরিদ্র হবার কারণে পল্লী চিকিৎসকই তাদের ভরসা। মেয়ে স্বর্ণাকে পল্লী চিকিৎসক দিয়ে গর্ভবতীকালীন চিকিৎসা দিয়েছেন। দরিদ্রতার কষাঘাতে পরীক্ষা নিরীক্ষাও করাতে পারেননি তাঁরা।

স্বর্ণার স্বামী আনিসুল বলেন, হাসপাতালের স্যারেরা যদি সময়মত চিকিৎসা না দিতেন তাহলে আমার বউকে আর বাঁচানো সম্ভব হতো না।

জানা যায়, শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ২০২১ সালের ১৫ জুলাই ডা. হাবিবুর রহমান যোগদান করার পর থেকে চিত্রটাই পাল্টে ফেলার চেষ্টা করছেন। লোকবল সংকট থাকলেও রোগীদের সেবা দিচ্ছেন ২৪ ঘন্টা।

Comments

comments

শেয়ার করুন.

About Author

মন্তব্য করুন