ঢাকাসোমবার , ৩১ অক্টোবর ২০২২
  1. অন্যান্য
  2. আন্তর্জাতিক
  3. খেলাধুলা
  4. দেশজুড়ে
  5. পজিটিভ বাংলাদেশ
  6. ফটো গ্যালারি
  7. ফিচার
  8. বিনোদন
  9. ভিডিও গ্যালারি
  10. সারাদেশ
  11. সাহিত্য
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কিশোরগঞ্জের হাওর হতে পারে ডেইরির দ্বিতীয় রাজধানী

প্রতিবেদক
Kolom 24
অক্টোবর ৩১, ২০২২ ২:৪৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সিরাজগঞ্জকে বলা হয় বাংলাদেশের ডেইরি রাজধানী। তবে পর্যাপ্ত পরিমাণে পতিত জমির সু-ব্যবহারের দ্বারা কিশোরগঞ্জের হাওর হতে পারে ডেইরির দ্বিতীয় রাজধানী। হাওর অঞ্চলের ৭০% মানুষ কৃষিজীবী। প্রায় ৯৫ ভাগ বাড়িতে রয়েছে গবাদিপশু। বর্ষাকাল এলেই চরম গো-খাদ্যের অভাব দেখা দেয় এ অঞ্চলে। অনেক কৃষক তাদের গবাদিপশু বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়। তবে কৃষক ভুট্টার সাইলেজ দ্বারা বর্ষাকালে হাওরে গো-খাদ্যের অভাব দূর করতে পারবে।

ভুট্টা গবাদিপশুর সবচেয়ে প্রিয় খাবার। খড় বা ঘাসের বিকল্প হিসেবে সাইলেজ অতুলনীয়। বিশেষ করে যে সমস্ত এলাকায় কৃষকেরা খড় বা ঘাসের সংকটে ভুগে থাকেন তাদের গরুর জন্য এটি খুবই উপযোগী। গরু খামারিরা অনেক সময় ফিড খাওয়ান। এই ফিডের দাম বেশি। সেসব ছোট খামারিদের খরচ কমানোর জন্য উন্নত গোখাদ্য হল ‘ভুট্টা সাইলেজ’। ভুট্টার সাইলেজ গবাদি পশু বিশেষ করে দুধাল গাভীর জন্য অত্যন্ত উপকারী। ভুট্টার সাইলেজে বেশি পরিমাণে শক্তি উপাদান থাকে। ১ কেজি ‘ভুট্টা সাইলেজ’ এর দাম ১২ টাকা এবং ৫০ কেজি বস্তার দাম ৬০০ টাকা।

প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর বলছে, খামারে গবাদিপশু উৎপাদনের প্রধান শর্ত হচ্ছে পুষ্টিকর খাদ্য প্রদান করা। কিন্তু কম খরচে পর্যাপ্ত পুষ্টি সরবরাহ করা বর্তমানের খামারিদের জন্য বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সমস্যা দূর করতে ভুট্টা সাইলেজ হতে পারে একটি অপার সম্ভাবনা। সাইলেজ তৈরির বিশেষ উপকরণ হচ্ছে; ভুট্টা গাছ কাটার মেশিন, পলিথিনের ব্যাগ, ব্যাগ রাখার জন্য মাঁচা, ইউরিয়া সার, চিটাগুড়, ছাঁয়াযুক্ত স্থান। সংরক্ষণের পর বছরের যে কোন সময় সংরক্ষিত ঘাস তুলে সরাসরি গরুকে খাওয়ানো যায়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ৫-৬ বছর আগেও জেলায় ভুট্টা আবাদ হত নামমাত্র। তবে গত ৪ বছর ধরে আবাদ বাড়ছে। ২০১৮-১৯ সালে জেলায় ৬ হাজার ১২০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা আবাদ হয়েছিল। উৎপাদন হয়েছিল ৫৪ হাজার ৭৭৪ মেট্রিক টন। ২০১৯-২০ সালে জেলায় ভুট্টা আবাদ হয়েছিল ৬ হাজার ৬৭০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন হয়েছিল ৬১ হাজার ৩৬৪ মেট্রিক টন। ২০২০-২১ সালে জেলায় ৭ হাজার ৪৬৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ হয়েছিল। উৎপাদন হয়েছিল ৭২ হাজার ৭৮৪ মেট্রিক টন। ২০২১-২২ সালে নির্ধারিত ৮ হাজার ২৮৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়। উৎপাদন হয়েছিল ৮১ হাজার ২৭ মেট্রিক টন। ২০২২-২৩ সালে ৯ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৭ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন।

ডেইরি ফার্মারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আজমল খান বলেন, দানাদার খাদ্যের দাম যখন বেড়েই চলেছে, তখন খামারিদের প্রাণিখাদ্য, বিশেষ করে ঘাস যাওয়ানোর জন্য ঘাস সংরক্ষণ করার প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্ষাকালে ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় ঘাসের অভাব পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে সাইলেজ। এতে করে নিত্য নতুন লোকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। হাওর হতে পারে ডেইরির দ্বিতীয় রাজধানী।

জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ নজরুল ইসলাম বলেন, হাওরাঞ্চলে অনেক পতিত জমি আছে যেখানে ভুট্টা চাষ করা যায় এবং ভুট্টার সাইলেজ তৈরি করা যায়। সাইলেজ গো-খাদ্য হিসেবে খুবই উপযোগী। হাওরাঞ্চল নিচু এলাকা তাই ঘাসের স্বল্পতা থাকে। সাইলেজ বেশি তৈরি করলে দানাদার খাদ্যের উপর চাপ কম পড়বে এবং গবাদিপশুর প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করবে ও কৃষক লাভবান হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুস সাত্তার বলেন, ভুট্টা অত্যন্ত পুষ্টিকর দানাদার খাদ্য। ধানের চেয়ে ভুট্টা লাভজনক হওয়ায় কৃষক ভুট্টা চাষে ঝুঁকছেন। হাওর অঞ্চলে ভুট্টার আবাদ বেড়েছে। আমরা কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছি ভুট্টার আবাদ বাড়াতে।

কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অস্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ের অনেক কৃষকদের ভুট্টা চাষে সরকার প্রণোদনা হিসেবে বীজ, সারসহ সেবা দিচ্ছে। দরিদ্র জনগোষ্ঠির মাথাপিছু প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তার উন্নয়নে কাজ করছে সরকার। আমাদের হাওরাঞ্চলও হবে ডেইরির রাজধানী।