১৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন বৈঠক

1 week ago
8:05 pm
11
বাংলাদেশ জাতীয় ১৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন বৈঠক

বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ঢাকায় ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের বিষয়ে আলোচনার লক্ষ্যে আগামী ১৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও চীনের মধ্যে এই ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। চীনের উদ্যোগে বৈঠকটি হচ্ছে।

বুধবার (১৩ জানুয়ারি) রাজধানীর লালমাটিয়া হাউজিং সোসাইটি স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে সুরের ধারার আয়োজনে ‘পৌষ উৎসব-১৪২৭’ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

তিনি বলেন, গত বছর জানুয়ারিতে আমাদের মধ্যে যে বৈঠক হয়েছিল তাতে কিছুটা ডেভেলপমেন্ট হয়েছিল। মিয়ানমার এমনিতে কোনো কিছুর উত্তর দিতে চায় না। খালি বলে পরে জানাবে। এরপর করোনা ও তাদের দেশে নির্বাচনের অজুহাত দিয়ে বৈঠক করেনি। গত ৯ জানুয়ারি চীনের মধ্যস্থতায় সচিব পর্যায়ে একটি বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্ত মিয়ানমার সেটা পিছিয়ে দেয়। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই মুহূর্তে মিয়ানমার সফরে রয়েছেন। সেই কারণে মিয়ানমার বৈঠকটি পিছিয়ে দিয়েছে। সচিব পর্যায়ের ওই বৈঠকটি ১৯ জানুয়ারি ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। এতে বাংলাদেশ, চীন ও মিয়ানমারের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।

ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য মিয়ানমারকে এ পর্যন্ত আট লাখ ৪০ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা আমরা পাঠিয়েছে। কয়েক দফায় তা পাঠানো হয়। সম্প্রতি পাঠানো হয়েছে দুই লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা। কিন্তু দুঃখজনক হলো মিয়ানমার খুব ধীরগতিতে এগোচ্ছে। দেশটির আন্তরিকতার খুব অভাব। তারা এ পর্যন্ত ৪২ হাজার রোহিঙ্গার পরিচয় যাচাই-বাছাই করেছে। এর মধ্যে প্রায় ২৮ হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের অধিবাসী ছিলো বলে স্বীকার করেছে। বাকি ১৪ হাজারের কোনো তথ্য মিয়ানমার তার তথ্যভাণ্ডারে নেই বলে জানিয়েছে। আগে যেসব রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে তাদেরও বায়োমেট্রিক তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।

এদিকে, বাংলাদেশের কক্সবাজারে আশ্রিত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের রাখাইনে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারকে নতুন করে আরও দুই লাখ ৩০ হাজার জনের তালিকা দিয়েছে বাংলাদেশ। তবে এর মধ্যে ২৮ হাজার জনকে নিজেদের নাগরিক বলে স্বীকার করেছে দেশটি। তালিকার ১৪ হাজার জনের তথ্য তাদের ডাটাবেজেই নেই বলে জানিয়েছে মিয়ানমার।

এ বিষয়ে নাম না প্রকাশের শর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, সম্প্রতি মিয়ানমারকে এই তালিকা হস্তান্তর করেছে বাংলাদেশ। দুই লাখ ৩০ হাজারের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৪২ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা যাচাই-বাছাই করে সেখান থেকে ২৮ হাজার জনকে তাদের বাসিন্দা বলে স্বীকার করেছে মিয়ানমার। এদের মধ্যে ১৪ হাজার রোহিঙ্গার নাম দেশটির ডাটাবেজেই নেই বলে ঢাকাকে জানিয়েছে নেইপিদো। যাচাই-বাছাই করাদের মধ্যে ৩৫০ জনকে মিয়ানমারের পক্ষ থেকে সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন, মিয়ানমারের পক্ষ থেকে নতুন করে রোহিঙ্গাদের তালিকা গ্রহণ করার বিষয়টি ইতিবাচক। তবে পূর্ব অভিজ্ঞতায় বিষয়টি বাংলাদেশকে স্বস্তি দিচ্ছে না বলেও ভাষ্য বিশ্লেষকদের।

মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গারা ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে বাংলাদেশের কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া শুরু করেন। বিভিন্ন সংস্থার হিসাব মতে, প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রিত হিসেবে রয়েছেন। এরপর থেকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারকে প্রথমবারের মতো ২০১৮ সালে ফেব্রুয়ারিতে আট হাজার ৩২ জনের তালিকা দেওয়া হয়। দ্বিতীয়বার ২২ হাজার ৪৩২ জনের তালিকা দেওয়া হয় একই বছরের অক্টোবরে। এরপর ২০১৯ সালের অক্টোবর পর্যন্ত মোট চার দফায় মিয়ানমারকে এক লাখ ছয় হাজার রোহিঙ্গার তালিকা দেয় বাংলাদেশ।

আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে ২০১৭ সালের শেষ দিকে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করলেও সেটি আজও শুরু হয়নি। গত বছর দুই দফায় প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও রাখাইন রাজ্যের পরিবেশ নিয়ে শঙ্কার কথা তুলে ধরে ফিরতে রাজি হয়নি রোহিঙ্গারা।

এদিকে, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের জন্য ভাসানচরে আবাসন প্রকল্প নির্মাণ করেছে সরকার। সেখানে দুই দফায় তিন হাজার ৪৪৬ জন রোহিঙ্গাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। গত ৪ ডিসেম্বর এক হাজার ৬৪২ আর ২৯ ডিসেম্বর এক হাজার ৮০৪ জন রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে পাঠানো হয়। সেখানে পর্যায়ক্রমে এক লাখ রোহিঙ্গাকে পাঠানো হবে।