বিএনপির কৌশল, দুই সেট এজেন্ট প্যানেল প্রস্তুত

1 month ago
8:51 pm
11
বাংলাদেশ রাজনীতি বিএনপির কৌশল, দুই সেট এজেন্ট প্যানেল প্রস্তুত

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের গত ২১ দিনের প্রচারণাকালে ১২ মামলায় বিএনপির হাজারও নেতাকর্মীকে মামলার জালে বন্দি করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার করেছে প্রায় শতাধিক নেতাকর্মীকে। শুধু মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন একাই নির্বাচন কমিশনে ৩৯টি অভিযোগ দিয়েছেন ; যেখানে মেয়র কাউন্সিলর প্রার্থীরা সবাই মিলেই অভিযোগ করেছেন ৬০টি।

‘হুমকি, মামলা-হামলা ও হয়রানি’র পরও ভোটের মাঠে শেষটা দেখতে চান বিএনপির নেতারা। গত মেয়র নির্বাচন ও চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপ-নির্বাচনের মাঝপথে সরে আসলেও এবার লড়ে চেতে চান দলটির নেতারা। সেজন্য কৌশলগত কারণে ধরপাকড় ও হয়রানি এড়াতে মেয়র প্রার্থীর দুই সেট এজেন্ট প্যানেল তৈরি করে রেখেছে বিএনপি। সরকারদলীয় কর্মীরা কোন একজনকে বাধা দিলে যাতে অন্যজনকে ভোট কেন্দ্রে পাঠানো যায় এজেন্ট হিসেবে। তাদের একটিই দাবি, এজেন্টদের যাতে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় সেই বিষয়টি নিশ্চিত করে নির্বাচন কমিশন।

যদিও বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বলছেন, নির্বাচনের তিন দিন আগে থেকে বিএনপি ও সহযোগি সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের বাসায় অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। সেকারণে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে নেতাকর্মীদের মাঝে। নির্বাচনের আগে হঠাৎ করে গণগ্রেপ্তারের কারণে তাদের দলের কর্মীরা এখন এলাকাছাড়া। বিএনপির অনেক নেতাকর্মী এখন এলাকা ছেড়ে আত্মীয়স্বজনের বাসায় আত্মগোপন করেছেন। এমনকি বাসায় না পেলেও সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিচয়ে ভোটের দিন নেতাকর্মীদের এলাকা ছাড়ার হুমকি দিয়ে আসছে।

সেকারণে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে ভোটের দিন ৭৩৫টি ভোটকেন্দ্রের ৪ হাজার ৮৮৬টি ভোটকক্ষের জন্য ৪ হাজার ৮৮৬ জন পোলিং এজেন্ট পাবে কিনা ধানের শীষের প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন। যদিও বিএনপির প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন সিভয়েসকে বলেছেন, ‘ভোটের আগেই আতঙ্ক ছড়াতে নেতাকর্মীদের মামলা দিয়ে, পুলিশ দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। এতেও আমাদের নির্বাচন থেকে সরানো যাবে না। আমরা শেষটা দেখতে চাই। আমাদের এজেন্টদের ঘরে ঘরে গিয়ে হুমকি দমকি দিলেও আমরা কেন্দ্রে এজেন্ট নিয়োগ করব। কৌশলগত কারণে আমরা দুই সেট এজেন্ট নিয়োগ করেছি। কোনও কারণে একজন মিস হলে অন্যজনকে নিয়োগ করব।’

একই তথ্য জানিয়ে দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান সিভয়েস বলেন, ‘আগের নির্বাচনগুলোতে এজেন্টদের কেন্দ্রে ঢুকতে দেয়নি। আবার অনেক কেন্দ্রে এজেন্ট বের করে দিয়েছে। এবারও যদি সেরকম হয় তাহলে করার কিছু নেই। এরপরও বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মী এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে উন্মুখ হয়ে বসে আছে। আমরা কৌশলগত কারণে দুই সেটা এজেন্ট প্যানেল তৈরি করে রেখেছি। যতই বাধা আসুক আমরা ভোটের মাঠের শেষটা দেখে ছাড়ব।’

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ৪১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ভোটার সংখ্যা ১৯ লাখ ৩৮ হাজার ৭০৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৯ লাখ ৯২ হাজার ৩৩ জন ও নারী ভোটার ৯ লাখ ৪৬ হাজার ৬৭৩ জন। ৭৩৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৭৩৩টি স্থায়ী ও দুটি অস্থায়ী। ৭৩৫টি ভোটকেন্দ্রের ৪ হাজার ৮৮৬টি ভোটকক্ষে হিজড়ারা এবারও নারী ও পুরুষ সারিতে দাঁড়িয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন।

আগামী ২৭ জানুয়ারির নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতিতে ৭৩৫ জন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, ৪ হাজার ৮৮৬ জন সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা এবং ৯ হাজার ৭৭২ জন পোলিং কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। ইভিএমের মাধ্যমেই ভোটগ্রহণ হবে।

মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগের এম রেজাউল করিম চৌধুরী, বিএনপির শাহাদাত হোসেন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের এম এ মতিন, পিপলস পার্টির আবুল মনজুর, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মুহাম্মদ ওয়াহেদ মুরাদ ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. জান্নাতুল ইসলাম। সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ২২৩ জন কাউন্সিলর প্রার্থী লড়ছেন।