কটিয়াদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫০ শয্যা হাসপাতাল

পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ব্যবহৃত হয় না চিকিৎসার যন্ত্রপাতি; সেবা বঞ্চিত লাখো মানুষ 

3 weeks ago
4:37 pm
141
অন্যান্য স্বাস্থ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ব্যবহৃত হয় না চিকিৎসার যন্ত্রপাতি; সেবা বঞ্চিত লাখো মানুষ 

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলা ৫০ শয্যা হাসপাতালে এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রাফ মেশিনসহ লাখ লাখ টাকার যন্ত্রপাতি বিকল হয়ে পড়ে আছে। এ কারণে এখানে রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি তাদের অতিরিক্ত টাকা খরচ করে বাইরে বিভিন্ন ডায়াগনষ্টিক সেন্টার কিংবা ক্লিনিকে গিয়ে সেবা নিতে হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে এক্স-রে ও আল্ট্রাসনোগ্রাফ মেশিন বিকল অবস্থায় আছে। মাঝে মধ্যে মেশিন গুলো মেরামত করলেও বিভিন্ন কারণে তা আর চালু রাখা সম্ভব হয় না। এ কারণে রোগীদের বাইরে থেকে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে এক্স-রে ও আল্ট্রাসনোগ্রাফ করাতে হচ্ছে। এই দুটি মেশিন সচল থাকলে অল্প টাকায় রোগীরা এই সেবা পেত এই হাসপাতাল থেকে। সবশেষ ২০১৭ সালে হাসপাতালের এক্স-রে যন্ত্র নষ্ট হয়ে যায়। এরপর আর যন্ত্রপাতি গুলো মেরামত করা হয়নি। যার ফলে রোগীদের ৩০০ টাকা দিয়ে বাইরে থেকে এক্স-রে করাতে হচ্ছে। মেশিন গুলো সচল থাকলে মাত্র ৮০ টাকায় ওই কাজ করা সম্ভব হতো বলে চিকিৎসকরা জানান।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, যেখানে রোগীদের এক্স-রে পরীক্ষা করার কথা সেখানে বাক্সের পর বাক্স ঔষুধের স্তূপ রাখা হয়েছে। জনবল না থাকায় এক্স-রে পরীক্ষা করানো তো দূরে থাক কোন স্বাভাবিক মানুষও এসব রুমে যেতে চাইবে না। কারণ, ২৪ ঘন্টায় রুমগুলো বন্ধ থাকায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তাই বছরের পর বছর এক্স-রে রুম তালাবদ্ধ থাকে। এদিকে আল্টাসনোগ্রাফ রুমে গিয়ে দেখা গেল, বৃষ্টি হলেও রুমটিতে পানি জমে থাকে। অন্যদিকে বছরের পর বছর আল্টাসনোগ্রাফ পরীক্ষা চালু না থাকায় এই যন্ত্রগুলোও অচল হয়ে পড়েছে। ফলে সরকারের লাখ লাখ টাকার যন্ত্রপাতি সাধারণ মানুষের সেবায় কোন কাজেই আসছে না।

কলম২৪ ডট কমের অনুসন্ধান বলছে, গত ২ বছরে এই হাসপাতালে একজন রোগীকেও এক্স-রে কিংবা আল্ট্রাসনোগ্রাফ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পারেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকলেও নেই টেকনিশিয়ান। যার ফলে এসব সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এই অঞ্চলের সাড়ে চার লক্ষ মানুষ। তাই বাধ্য হয়ে ক্লিনিক গুলোতে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে এক্স-রে ও আল্ট্রাসনোগ্রাফ পরীক্ষা-নিরিক্ষা করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক চিকিৎসক জানান, ‘বর্তমানে হাসপাতালে প্রতিদিন ৫-৬’শ রোগীকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। সে অনুযায়ী ৪০ শতাংশ রোগীই এক্স-রে, আল্ট্রা ও ইসিজি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে আসে। কিন্তু জনবল সংকট থাকায় রোগীদের বাহির থেকে এসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে হচ্ছে।’

ফাতেমা খানম, মীম রহমান, রাসেল মিয়া ও সাদেক হোসেন জানান, ‘হাতপাতালে এক্স-রে ও আল্ট্রা মেশিন আছে কি না আমরা জানি না। কারণ, কখনো হাসপাতালে এসব পরীক্ষা করার সুযোগ হয়নি। তাই ডাক্তারদের পরামর্শেই প্রাইভেট ক্লিনিক কিংবা ডায়াগনষ্টিক সেন্টার গুলোতে স্বজনদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে থাকি।’

কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তানভীর হাসান বলেন, ‘প্রতিদিন এ হাসপাতালে ৫-৬’শ রোগী সেবার জন্য আসে। দীর্ঘদিন ধরে যন্ত্রপাতি বিকল থাকায় রোগীদের প্রত্যাশিত সেবা দিতে বেগ পেতে হচ্ছে।’