কিশোরগঞ্জ ও কুলিয়ারচর পৌরসভা নির্বাচন

কিশোরগঞ্জ পৌরসভায় নৌকার সমর্থনে লিমনের প্রার্থীতা প্রত্যাহার

1 week ago
5:08 pm
852
দেশজুড়ে ঢাকা কিশোরগঞ্জ পৌরসভায় নৌকার সমর্থনে লিমনের প্রার্থীতা প্রত্যাহার

আগামী ১৬ জানুয়ারি দ্বিতীয় ধাপে কিশোরগঞ্জ ও কুলিয়ারচর পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তাই প্রধান দুই রাজনৈতিক দলসহ প্রতিদ্বন্দ্বি অন্যান্য প্রার্থীরা এখন মাঠে। গভীর রাত অবধি চলছে প্রার্থীদের প্রচারণা।

কিশোরগঞ্জ পৌরসভায় মেয়র পদে ৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মোঃ পারভেজ মিয়া নৌকা প্রতীক নিয়ে টানা দ্বিতীয় বার মেয়র হতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি মোঃ শফিকুল গনি ঢালী লিমন (স্বতন্ত্র) মোবাইল ফোন প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে মোঃ ইসরাইল মিঞা ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি একক প্রার্থী হলেও দলের আভ্যন্তরিন কোন্দলে সুবিধাজনক অবস্থানে নেই। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মোঃ নজরুল ইসলাম হাতপাখা প্রতীক নিয়ে ও ন্যাশনাল পিপলস্ পার্টি (এনপিপি) মোঃ স্বপন মিয়া আম প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এরই মধ্যে মঙ্গলবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শফিকুল ইসলাম ঢালী লিমন বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা, শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন করে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার নিমিত্তে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিপ্লবী সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এমপি মহোদয়ের অনুরোধক্রমে আমার প্রার্থীতা প্রত্যাহার করলাম এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ও নৌকা প্রতীককে সমর্থন করলাম।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাড. কামরুল আহসান শাহজাহান, সহ-সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ জিল্লুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাড. এম.এ আফজল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ আজিজুল হক, ৫ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মীর আব্দুল করিম।

কিশোরগঞ্জ পৌরসভায় মোট ভোটারের সংখ্যা ৭১ হাজার ৮৪ জন। এর মধ্যে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোট ২৩ হাজার ৪০০ ও ৪৭ হাজার ৬৮৪ জন মুসলিম ভোটার। মোট ভোটারের মধ্যে ৩৪ হাজার ২৮৫ জন পুরুষ ও ৩৬ হাজার ৭৯৯ জন মহিলা ভোটার রয়েছে। নির্বাচনে সংখ্যালঘু হিন্দু ভোটারদের ভোটাধিকারের উপরেই নির্ভর করে মেয়র প্রার্থীদের জয় পরাজয়।

মেয়র পদ ছাড়াও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলরের ৩টি পদে ২১ জন ও কাউন্সিলর ৯টি পদে ৬১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এদিকে আসন্ন কুলিয়ারচর পৌরসভা নির্বাচনে ১২টি কেন্দ্রে ২৫ হাজার ১৪৩ জন ভোটারের মধ্যে পুরুষ ১২ হাজার ৬০০ ও মহিলা ১২ হাজার ৫৪৩ জন ভোটার ইভিএমের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলরের ৩টি পদে ১২ জন ও কাউন্সিলরের ৯টি পদে ৪১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ নির্বাচনে বৃহত্তর দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে সরাসরি ভোট যুদ্ধ অনুষ্ঠিত হবে। মেয়র প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে সৈয়দ হাসান সারোয়ার মহসিন ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)র ধানের শীষ প্রতীকে নূরুল মিল্লাত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দুই প্রার্থীরাই জনপ্রতিনিধিত্ব করার পূর্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে। সৈয়দ হাসান সারোয়ার মহসিন উসমানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি ৪র্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হন। অন্যদিকে নূরুল মিল্লাত কুলিয়ারচর ইউনিয়নের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। পরে তিনি কুলিয়ারচরকে পৌরসভায় উন্নীত করলে পৌরসভার চেয়ারম্যান ও পরে কুলিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন। রাজনৈতিকভাবে সৈয়দ হাসান সারোয়ার মহসিন এক সময় কমিউনিস্ট পার্টি করলেও বর্তমানে তিনি আওয়ামী লীগের উপজেলা সহ-সভাপতি। স্থানীয়ভাবে তিনি আপোষহীন ও অন্যায়ের প্রতিবাদী হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে নূরুল মিল্লাত উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য-সচিব। জনপ্রতিনিধি হিসেবে উভয় প্রার্থীরই জনসমর্থন রয়েছে। এ আসনে নির্বাচন হবে উভয় প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি।

এ ব্যাপারে রিটার্নিং অফিসার ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশ্রাফুল আলম জানান, নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচন করার লক্ষ্যে প্রতি ওয়ার্ডে ১ জন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে র‍্যাব, বিজিবি, পুলিশসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনী দায়িত্ব পালন করবেন। তাছাড়া নির্বাচনের কোন অনিয়ম পরিলক্ষিত হলে তাৎক্ষণিক বিচারের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ইলেক্ট্রোরাল ট্রাইব্যুনাল মাঠে থাকবে।