তাড়াইলে বড় ভাইয়ের অত্যাচারে ছোট ভাই দিশেহারা, সাংবাদিককে হুমকি

5 days ago
2:53 pm
46
দেশজুড়ে ঢাকা তাড়াইলে বড় ভাইয়ের অত্যাচারে ছোট ভাই দিশেহারা, সাংবাদিককে হুমকি

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার লক্ষীপুর গ্রামে আপন বড় ভাই ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার হেলাল উদ্দিন, নজরুল ইসলাম, সুলতানা উদ্দিন, ভাতিজা আলম গং কর্তৃক অত্যাচারে মঞ্জিল উদ্দিনের পরিবার এখন দিশেহারা। থানা পুলিশ, ইউএনও, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানও পারিবারিক ভাগ বাটুয়ারার সমাধান করতে পারছেন না। এমনকি তার সাফকাওলা জমিতেও ঢুকতে দিচ্ছে না ভাতিজা আলম।

জানা যায়, তাড়াইল উপজেলার হাজী আঃ জব্বারের চার ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে মেঝো ছেলে মঞ্জিল উদ্দিন কৃষি কাজ করে জীবন নির্বাহ করে বড় ভাই ও ছোট ভাইদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন। স্বপ্ন পূরণ করেছেন যৌথ পরিবারের সকল সদস্যের।

গত ৩১ জানুয়ারি রবিবার সংবাদ সম্মেলনে মঞ্জিলের উদ্দিনের পক্ষে তার ছেলে শামীম লিখিত বক্তব্য পাঠ করে জানান, ধান চাষ করি আমি কিন্তু ধান পাকার পর তা কেটে নিয়ে যায় ভাই ও ভাতিজারা। জমি পত্তনে আমার অংশে ৮ লাখ টাকা হলেও আমার জমি পত্তন দিয়ে দেয় বড় ভাই ও ভাতিজারা। কোর্ট কাচারী দৌড়েও কোন সুরাহা পাচ্ছি না। গত ৭ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখ উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী বরাবর একটি আবেদন করি। তখন আমার ভাইদের কথামত উপজেলা নির্বাহী অফিসের কার্যালয়ে ৩০ ডিসেম্বর একটি সালিশ বসে। সালিশের ঘন্টখানেক আগে দুই বছরের আগের প্রেসক্রিপশন দেখিয়ে এক মাসের সময় চান। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয় ২৫ জানুয়ারি পুণরায় সালিশের সময় দেন। ২৫ জানুয়ারি একই আবেদনের মাধ্যমে পুণরায় সময় চান। পরে ১৬ ফেব্রুয়ারি সময় নির্ধারণ করা হয়। ঐ দিন রাতে বাড়িতে গিয়ে ঘুমালে মধ্যরাতে আলম ও আমার বড় ভাই হেলালসহ ৬/৭ জন মিলে ঘরের দরজা ভেঙ্গে আমাকে এবং আমার স্ত্রীকে মারপিট করে। এ খবর থানায় জানালে পুলিশ আমাদেরকে তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ৫ দিন পর বাড়িতে গেলে ঘরের সামনে দাঁড় করিয়ে রেখে ঘরের বিছানাপত্র সকল কিছু ভিজিয়ে দেয়। জমি খুব খারাপ জিনিস। এ জন্য এমন কষ্ট ভোগ করতে হবে।

মঞ্জিল উদ্দিন জানায়, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি পুণরায় আবেদন করে এক মাসের সময় চায় তারা। এভাবে সময় চাইতে থাকলে আমার জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আমার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত থাকব বলে মনে হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা চেয়ারম্যান ও অফিসার ইনচার্জ তাদের সহযোগিতার হাত কতটুকু আমি এখনও বুঝে উঠতে পারছি না। আপনাদের মাধ্যমে সমাজের সচেতন ব্যক্তি ও প্রশাসনের কাছে এই অত্যাচারের সমাপ্তি কোথায় সাংবাদিক ভাইদের মাধ্যমে আমার জিজ্ঞাসা।

হেলাল উদ্দিনের সাথে ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, আমাদের কোন ঝামেলা নেই। ইউএনও কাছে কোন আবেদন জানা নেই। হেলাল উদ্দিনের কাছে তার সময়ের আবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে সে বলে আমি শহরে আসতেছি এক ঘন্টার ভিতরে আপনাকে দেখে নেব। আমার ভাইকে আমি সম্পদ দিব না মারব তা আমার বিষয়। পুলিশ কিছু করে না আপনার কি ?

এ বিষয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ তারেক মাহমুদ জানান, আমরা কাউকে নোটিশ করতে পারি সে না আসলে তাকে ফোর্স করতে পারি না। তবে হেলাল উদ্দিনের হটকারিতা দেখে মনে হচ্ছে সে লোক হিসেবে অত্যান্ত দুষ্টপ্রকৃতির। সরলসোজা মঞ্জিল উদ্দিনের ভাগ বুঝিয়ে দিতে কালক্ষেপন করাটাই তার উদ্দেশ্য মনে হচ্ছে। আরও দুইএকবার দেখে আমরা তার আবেদনটুকু রেখে দেয়া ছাড়া কোন উপায় নেই।

তাড়াইল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মজিবুর রহমান জানান, আমরা তাকে কন্ট্রোলে আনার চেষ্টা করেছি কিন্তু আইনগত যতটুকু দায়িত্ব ছিল মামলা নিয়েছি এবং তার বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়েছি। সে সময় চেয়েছিল দুই দিনের। পরে আর যোগাযোগ করে নাই।