কিশোরগঞ্জে ডিজিটাল আইনের মামলায় অব্যাহতি পেতে আসামির প্রতারণার ফাঁদ

3 weeks ago
12:45 pm
686
দেশজুড়ে ঢাকা কিশোরগঞ্জে ডিজিটাল আইনের মামলায় অব্যাহতি পেতে আসামির প্রতারণার ফাঁদ

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার গজারিয়া গ্রামে এক মৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফেসবুক ও মেসেঞ্জারে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ছড়ানোর অভিযোগে ডিজিটাল আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয় কয়েকমাস আগে। এ ঘটনায় কটিয়াদী আদর্শ বিদ্যানিকেতনের সহকারি শিক্ষক শামীম শিকদার বাদী হয়ে দুই জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন।

  • মামলায় অব্যাহতি পেতে গণমাধ্যমের আশ্রয়

  • মামলা রেকর্ডের ৫ মাস পর প্রধান আসামি আল-আমিন গ্রেফতার

  • শিগগিরই তদন্ত রিপোর্ট আদালতে দাখিল করা হবে : পুলিশ

মামলার আসামিরা হলেন, গজারিয়া বিলপাড় এলাকার আলা উদ্দিনের পুত্র আল-আমিন (২৫) ও গজারিয়া গ্রামের মৃত হাছেন আলীর পুত্র আবু জামান (৪৫)। এদিকে মামলা দায়েরের ৫ মাস পর প্রধান আসামি আল আমিন (২৫) কে আটক করে আদালতে প্রেরণ করতে পারলেও আবু জামানকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়নি পুলিশ। আটকের পর এ নিয়ে শুরু হয় এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা।

জানা গেছে, আবু জামানের বাড়ির পাশে মরহুম গিয়াস উদ্দিনের কবরস্থানে আজাব হচ্ছে এমন কুরুচিপূর্ণ মানহানিকর বক্তব্য এলাকায় ছড়িয়ে দেন আবু জামান। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিদের কাছে নালিশও করেন তিনি। এরপর স্থানীয় যুবক আল-আমিনকে এ বিষয়ে ফেসবুকে পোস্ট করার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন আবু জামান। পরে আল আমিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও মেসেঞ্জারে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যটি ছড়িয়ে দেয়। বিষয়টি এলাকার মানুষের মধ্যে জানাজানি হলে এক পযার্য়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে ওই ঘটনায় দুইজনের নাম উল্লেখ করে কটিয়াদী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন মরহুম গিয়াস উদ্দিনের পুত্র শামীম সিকদার। মামলা দায়েরের ৫ মাস পর ডিজিটাল আইনের মামলা থেকে অব্যাহতি পেতে নিরক্ষর কৃষক সেজে প্রতারণার ফাঁদ তৈরি করে গণমাধ্যমকে ব্যবহার করেন প্রবাসী আবু জামান দাবি বাদীর পরিবারের।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ অক্টোবর গজারিয়া গ্রামে মরহুম গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও মেসেঞ্জারে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ছড়ানোর অভিযোগে ডিজিটাল আইনে মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নং ১৯।

সরজমিনে গিয়ে জানা গেছে, ডিজিটাল আইনে করা মামলা নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। মৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফেসবুক মেসেঞ্জারে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ছড়ানোর অভিযোগে এই মামলাটি করা হয়। এদিকে মামলা দুই নাম্বার আসামি আবু জামান নিজেকে নিরক্ষর কৃষক দাবি করলেও স্থানীয়রা বলছেন, মামলা থেকে অব্যাহতি পেতে আবু জামান মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছেন। আর এ ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি পরিবাবের।

৫৩ নং খাশলা গজারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক আবু নেছার বলেন, ‘আবু জামান আমার ছাত্র ছিল। সে আমার প্রতিষ্ঠান থেকে পড়াশোনা করেছে।’

আবু জামানের স্ত্রী রেহেনা আক্তার ও বড়ভাই মোবারক হোসেন জানান, ‘মামলার বিষয়টি জানার পর বেশ কয়েকবার মিমাংসার চেষ্টা করলেও মিমাংসা হয়নি।’

মামলার বাদী শামীম শিকদার অভিযোগ করে বলেন, ‘মামলা দায়েরের পর থেকে আবু জামান গণমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে মামলাটিকে ভিন্নখাতে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন। আমি এ ঘটনার তীব্র নিন্দার পাশাপাশি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচার দাবি করছি।’

কটিয়দী ওসি এস এম শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘ডিজিটাল আইনে করা মামলার প্রধান আসামি আল আমিনকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠিয়েছি। শিগগিরই তদন্ত কাজ সম্পূর্ন করে পুলিশ রিপোর্ট বিজ্ঞ আদালতে দাখিল করা হবে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।’