কটিয়াদীতে গরম বাতাসে কৃষকের স্বপ্নে বাধা

2 weeks ago
9:50 pm
216
দেশজুড়ে ঢাকা কটিয়াদীতে গরম বাতাসে কৃষকের স্বপ্নে বাধা

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে গরম বাতাসে চুরমার হয়ে গেছে কৃষকের সোনালী স্বপ্ন। গত রোববার সন্ধ্যায় হঠাৎ দমকা বাতাসে কৃষকের বোরো ধানের পরাগরেনু ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় হতাশার ছাঁপ পড়েছে কৃষকের মুখে।

  • গরম বাতাসে ৫’শ হেক্টর জমির ব্যাপক ক্ষতি

  • লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা

  • আমগো সর্বনাশ হইলো : ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে ১২ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৫১ হাজার ৪ শত মে. টন। এদিকে দমকা গরম বাতাসে কৃষকের ফসলের প্রায় দুই হাজার ৩’শ হেক্টর জমির পরাগরেনু আক্রান্ত হয়েছে। যার ২৫ শতাংশের ৫৭৫ হেক্টর জমির কৃষক ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ফলে এবছর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

গরম বাতাসে পুড়ে গেছে কৃষকের মাঠভরা ফসলী জমি। মঙ্গলবার বিকালে তোলা। ছবি : কলম২৪

মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, রোববার দমকা গরম বাতাসে উপজেলার আচমিতা, মুমুরদিয়া, করগাঁও, চান্দপুর, বনগ্রাম, মসূয়া ও সহশ্রাম ধূলদিয়া হাওর এলাকার কৃষকের ফসর ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এ অঞ্চলের সিংহভাগ কৃষক বোরো ফসলের উপর নির্ভরশীল। এই ফসলের ওপর ভিত্তি করেই তাদের সংসার চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত ধান বিক্রি করেন। কিন্তু দমকা গরম হাওয়ায় এবার কৃষকদের সোনালী স্বপ্ন ভেঙে গেছে।

কৃষকরা বলছেন, চলতি মৌসুমে বোরো আবাদে সোনালী স্বপ্ন দেখছিলেন তারা। এজন্য বিগত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ জমিতে বোরো আবাদ করেন কৃষকরা। কিন্তু, হঠাৎ দমকা গরম বাতাস তাদের সোনালী স্বপ্নে বাধা হয়ে দাড়িলো। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের পাশে দাড়াতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান এই কৃষকরা।

নাগেরগ্রামের কৃষক মোহাম্মদ হাফিজ মিয়া ৭ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেছেন। বোরো আবাদ করতে গিয়ে এই পর্যন্ত তারর খরচ হয়েছে ৩৫ হাজার টাকা। তিনি জানান, ‘প্রতি বিঘা জমিতে ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। জমির প্রায় ৮০ শতাংশ ফসল ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ফলে এ বছর উৎপাদন খরচ আর উঠবে কি না জানেন না এ কৃষক।’

জমি দেখে মাথায় হাত কৃষকের। ছবি : কলম২৪

মুমুরদিয়া গ্রামের হিরণ মিয়াও পাঁচ বিঘা জমির প্রায় ৮০ ভাগ ধান নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি জানান, ‘তার বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রত্যাশার অর্ধেক ফসলও ঘরে উঠবে না।’ আচমিতা গ্রামের রমজান মিয়া জানান, গরম বাতাসে তার জমির অর্ধেকের বেশী পরাগরেনু সাদা হয়ে গেছে।

চান্দপুর ইউপির চেয়ারম্যান মাহতাব উদ্দিন বলেন, ‘তার ইউনিয়নের কৃষকদের জমিতেও এমন চিত্র দেখা গেছে। বেশীর ভাগ জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। তবে কিছু কিছু ধান ভালো রয়েছে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মুকশেদুল হক জানান, ‘গরম বাতাসে বিভিন্ন ইউনিয়নের ২ হাজার ৩ শত হেক্টর ফসলী জমি আক্রান্ত হয়েছে বলে প্রাথমিক জরিপে ধারনা করা হচ্ছে। আক্রান্ত জমির ২৫ ভাগ ফসল ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে।’