ক্ষুধার তাড়নায় করোনাকে তোয়াক্কা করছেন না কিশোরগঞ্জের মধ্যবিত্ত ও হতদরিদ্ররা

2 weeks ago
4:58 pm
16
দেশজুড়ে ঢাকা ক্ষুধার তাড়নায় করোনাকে তোয়াক্কা করছেন না কিশোরগঞ্জের মধ্যবিত্ত ও হতদরিদ্ররা

করোনা মহামারীর জন্য সারা দেশে ১৪ এপ্রিল থেকে কঠোর লকডাউন শুরু হলে বিশেষ করে কাপড় ব্যবসায়ীরা মাথায় হাত দিয়ে বসে। তাদের একমাত্র ঈদ এবং পূজা উপলক্ষে এছাড়া পহেলা বৈশাখ কাপড়ের চাহিদা বাড়ে।

কিন্তু কঠোর লকডাউন থাকার কারণে ১৪ এপ্রিল পহেলা রোজার দিন কাপড়ের দোকান বন্ধ থাকে। ইতিমধ্যে প্রায় পনেরশ দোকান মালিক নিঃস্ব হওয়ার পথে। সরকারি ত্রাণ বিভিন্ন খাতে থাকলেও ক্ষুদ্র কাপড় ব্যবসায়ীর কথা কেউ চিন্তা করে না। কিছু কিছু কাপড় ব্যবসায়ী বাধ্য হয়ে কৃষিকাজে লেগেছে। এমনই দুঃসময় পার করছেন কিশোরগঞ্জসহ সকল কাপড় ব্যবসায়ীরা।

বাংলাদেশ সরকারের নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২৫ এপ্রিল সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত দোকান খোলার অনুমতি পায়। তাই ২৪ এপ্রিল অধিকাংশ দোকানই তাদের দোকানে সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার জন্য পরিস্কার পরিচ্ছন্ন ও জামা কাপড় গোছাচ্ছে। ক্রেতার দৃষ্টি আকর্ষন করার জন্য রং বেরঙের জামা সাজাতে ব্যস্ত ছিলেন কিশোরগঞ্জের কাপড় ব্যবসায়ীরা।

পাটসুতা গার্মেন্টসের কর্তৃপক্ষ জানান, গত ৮ মাস যাবত দোকানের ভাড়া এবং বিদ্যুৎ বিল নিজ পকেট থেকে দিতে হচ্ছে এবং মাল ক্রয় করে দোকানে ঝুলিয়ে রাখা কাপড়ে ঘ্রাণ শুকে দিন কাটাচ্ছি। বিক্রিও করিতে পারছি না এবং নিজের চলাফেলার জন্য যথেষ্ট পরিমাণ উপর্জনও করতে পারছি না। পারিবারিকভাবে আমরা খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছি। এ কষ্ট শোনার কেউ নেই। এরই মধ্যে শেষ বারের মত দুপুর ১টার দিকে কিশোরগঞ্জের কালেক্টরেটের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসান একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে স্বাস্থ্যবিধির জন্য ৯ জন এবং সড়ক পরিবহন আইনে ৬ জনসহ মোট ১৫ জনকে অর্থদন্ড করেন।

অর্থদন্ড প্রাপ্ত এক পথচারী কামরুজ্জামান জানান, কর্ম নেই এবং বাসায় অসুস্থ রোগী, সর্বশেষ সম্বল মাত্র ২০০ টাকা নিয়ে বের হয়েছিলেন ঔষধ ক্রয়ের জন্য। মাস্ক পড়া থাকলেও স্বাস্থ্য বিধি আইনে এ টাকা জরিমানা গুনতে হলো। মাত্র ৪ টাকা হাতে নিয়ে বুকভরা কষ্ট নিয়ে বাড়ি ফিরলাম। এ কষ্টের শেষ কোথায়। ঘুমড়ে মরা চাপা কষ্ট ও অভাবের চাপে করোনা মহামারীকে কিছু মনে করছেন না হতদরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো। একুলও ধ্বংস অকুলও ধ্বংস জেনে রাস্তায় বের হয়েছেন হাজারো পথচারী। মুখে হাসি নেই কারও। জনতার প্রশ্ন আসলে ত্রাণ পাচ্ছে কে।