home icon
Login

অনুসরণ করুন

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on

Google Play

Download on the

App Store


মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভরাডুবির পর আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারেন ট্রাম্প

মো. নূর নবী শেখ
ডেস্ক রিপোর্টকলম২৪.কম

আপডেট: ৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৪৯

Facebook
Twitter

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভরাডুবির পর আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাশাপাশি তার প্রশাসনের সদস্যদেরও অভিশংসনের মুখে পড়তে হতে পারে। দুর্নীতির অভিযোগে তদন্তের আওতায় আসতে পারেন তার পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনেরা। তবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর দেশের অভ্যন্তরীণ সংকট থেকে মানুষের মনোযোগ সরাতে ট্রাম্প পররাষ্ট্রনীতিতে আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারেন। এমন আশঙ্কা বিশ্লেষকদের।

সংবিধানের তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা অনুযায়ী, পরিস্থিতি হওয়ার কথা এর উল্টো। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেলে ট্রাম্প প্রশাসনের বাড়াবাড়ি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ তৈরি হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে তা কতটা সম্ভব, সে প্রশ্ন রয়েছে। ‘দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট’-এর এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, কংগ্রেসের বিরোধিতার মুখেও নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথ আগে থেকেই ভেবে রেখেছেন ট্রাম্প ও তার সহযোগীরা।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেট নিয়ন্ত্রণ করে কংগ্রেস। তাত্ত্বিকভাবে নির্বাহী বিভাগকে নির্দিষ্ট খাতে অর্থ ব্যয় করতেও বাধ্য করতে পারে আইনসভা। নির্বাহী বিভাগের বিভিন্ন পদে নিয়োগের ক্ষেত্রেও কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। কিন্তু এসব সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা উপেক্ষা করার নজির রয়েছে ট্রাম্পের। অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ থেকে মনোযোগ সরাতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশৃঙ্খলা তৈরি করাও তার জন্য একটি কার্যকর কৌশল হতে পারে। ক্ষমতা বাড়াতে তিনি জরুরি পরিস্থিতি তৈরির পথও বেছে নিতে পারেন।

কংগ্রেসের উভয় কক্ষে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকার সময়ও ট্রাম্প আইনসভার ক্ষমতাকে উপেক্ষা করেছেন। ক্ষমতা নিজের হাতে কেন্দ্রীভূত করার প্রক্রিয়াও অনেকটা এগিয়ে নিয়েছেন। কূটনৈতিক বিভিন্ন পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়ার বাধ্যবাধকতা উপেক্ষা করেছেন তিনি। সামরিক বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও কার্যত দুর্বল হয়ে পড়েছে। স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে সক্ষম—এমন অনেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিনেটের অনুমোদন প্রয়োজন—এমন কেন্দ্রীয় সরকারের প্রায় ৩৫৯টি পদ এখনো শূন্য রয়েছে। কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেন ট্রাম্প। পরে ৬০ দিনের মধ্যে কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়ার বাধ্যবাধকতা এড়াতে যুদ্ধ শেষ হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। যদিও বাস্তবে যুদ্ধ শেষ হয়নি। এভাবে অনির্দিষ্টকাল ধরে একই অবস্থান বজায় রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

কংগ্রেস তাকে অভিশংসনের উদ্যোগ নিলে কিংবা তার ক্ষমতা সীমিত করতে চাইলে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের অন্য কোনো সংঘাতে জড়িয়ে ফেলতে পারেন। কারণ, যুদ্ধের ঝুঁকিতে মার্কিন সেনাদের জীবন বিপন্ন হলে ট্রাম্পকে থামানোর চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া কংগ্রেসের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে। ক্ষমতায় টিকে থাকতে তিনি মার্কিন সেনাদের এমন ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারেন। এ ছাড়া পররাষ্ট্র ও সামরিক নীতির যেসব ক্ষেত্রে রাশিয়ার স্বার্থ জড়িত, সেসব ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বদলে মস্কোর স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

আগামী দুই বছর কয়েক দশকের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী মিত্রদের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক সময়গুলোর একটি হতে পারে। ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের জন্য হুমকি হয়ে থাকা থেকে সরাসরি শত্রুতে পরিণত হতে পারেন—এমন আশঙ্কাও করা হচ্ছে। কিউবা থেকে তাইওয়ান, ইরান থেকে কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র—সব ক্ষেত্রেই ভ্লাদিমির পুতিনের স্বার্থ এবং নিজের দেশ ও পরিবারের সম্পদ বাড়ানোর বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিতে পারেন তিনি। গত বছর আবার হোয়াইট হাউসে ফেরার পর ট্রাম্পের আচরণে এমন আশঙ্কার কারণ দেখছেন বিশ্লেষকেরা।

এ পরিস্থিতিতে ইউক্রেনকে কঠিন সময়ের মুখোমুখি হতে হতে পারে। চীন যখন তাইওয়ানে হামলার প্রস্তুতি নেবে, তখন ট্রাম্পের সম্মতিতেই সেই আগ্রাসন ঘটতে পারে। শি জিনপিংয়ের স্বার্থে তাইওয়ানকে পরিত্যাগ করার আশঙ্কাও রয়েছে। এ কারণে সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য তাইওয়ানকে প্রস্তুতি নিতে হবে।

কিউবার জনগণকেও ভেনেজুয়েলার মতো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হতে পারে। এমন হামলার মধ্য দিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতাচ্যুত করা হতে পারে। একই সঙ্গে কিউবার বর্তমান ও ভবিষ্যৎ অর্থনীতির নিয়ন্ত্রণও দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রের হাতে চলে যেতে পারে। ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে যেমনটি ঘটেছে, হাভানাতেও তেমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আরব উপসাগর বা পারস্য উপসাগরের অপর পারে থাকা ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোকে ইতিমধ্যে সতর্ক করা হয়েছে, ট্রাম্প দেশটির বিরুদ্ধে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করছেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তিনি এমন হামলা চালাবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফল না পেয়ে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প মনে করতে পারেন, ইরানের টিকে থাকার কারণেই জীবাশ্ম জ্বালানির দাম বেড়েছে। এ কারণে খুব শিগগির তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করতে পারেন তিনি। লক্ষ্য হতে পারে ইরানের শাসনব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস করা। মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলের জন্য ইরানকে শাস্তি দিতে নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহারের পাশাপাশি সাংবিধানিক রীতিনীতি উপেক্ষা করা প্রেসিডেন্টকে নিয়ন্ত্রণে কংগ্রেসের সীমিত সক্ষমতারও সুযোগ নিতে পারেন তিনি।

ইরানের কাছে ট্রাম্পের পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। দেশটির অবিচল প্রতিরোধের মুখে তার প্রশাসনও অপমানিত হয়েছে। বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া, ব্যাপক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করা এবং পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করার অভিযোগ রয়েছে যে শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে, সেই গোষ্ঠীই এখন যুক্তরাষ্ট্রকে নাস্তানাবুদ করেছে। এমন একটি শাসকগোষ্ঠীর কাছে যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয়ের পর অনেকে ইরানকে দুর্বল হলেও সাহসী প্রতিপক্ষ হিসেবে সহানুভূতির চোখে দেখছেন। ট্রাম্প এ পরিস্থিতি মেনে নিতে পারবেন না। তিনি ওই প্রতিপক্ষকে গুলি করে নিশ্চিহ্ন করতে চাইতে পারেন।

বিশ্বের উচ্চপ্রযুক্তির প্রায় সব খাত সচল রাখতে প্রয়োজনীয় অর্ধপরিবাহী চিপের প্রায় ৯০ শতাংশ উৎপাদিত হয় তাইওয়ানে। চীন ক্রমেই আগ্রাসী হয়ে উঠছে এবং দ্বীপরাষ্ট্রটির ওপর নিজেদের সার্বভৌমত্ব দাবি করছে। এ পরিস্থিতিতে চীনের বিরুদ্ধে তাইওয়ানকে রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নেবে কি না, সে বিষয়ে আগের প্রেসিডেন্টদের মতো ট্রাম্পও ‘কৌশলগত অস্পষ্টতা’ বজায় রেখেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের চিপ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাইওয়ানের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে উৎসাহ দিয়েছেন তিনি।

একই সঙ্গে তাইওয়ানকে প্রতিরক্ষা খাতে আরও বেশি অর্থ ব্যয় করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। ‘ব্লুমবার্গ’কে তিনি বলেন, তার মনে হয় প্রতিরক্ষার জন্য তাইওয়ানের যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থ দেওয়া উচিত। তার ভাষায়, ‘আমরা আর কোনো বীমা কোম্পানির চেয়ে আলাদা নই।’ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির একটি প্যাকেজ অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে তাইওয়ান। এসব অস্ত্রের মূল্য তাইওয়ানকেই পরিশোধ করতে হবে। তবে ট্রাম্প এখনো ওই বিক্রির অনুমোদন দেননি। স্বৈরশাসক শি জিনপিং যে ধরনের ক্ষমতা ভোগ করেন, তা দেখে ট্রাম্প ঈর্ষান্বিত হন। তিনি সেই ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করতে চান না; বরং নিজেও একই ধরনের ক্ষমতা ভোগ করতে চান।

তবে ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে ইউক্রেন ও ইউরোপে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক জোট ন্যাটোর ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর। সংবিধান অনুযায়ী, ট্রাম্প আরেক মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন না। ফলে তার ক্ষমতার মেয়াদ এখন শেষের দিকে এগোচ্ছে।

পররাষ্ট্রনীতির প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে, এমনকি অভ্যন্তরীণ নীতির অনেক ক্ষেত্রেও ট্রাম্প এমন আচরণ করেছেন, যেন তিনি সরাসরি ক্রেমলিনের হয়ে কাজ করছেন—এমন অভিযোগ রয়েছে বিশ্লেষণে। নিজের দেশের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তিনি এ পথেই চলতে পারেন। ইরানকে রাশিয়ার গোয়েন্দা তথ্য ও অত্যাধুনিক অস্ত্রপ্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি তিনি উপেক্ষা করেছেন। উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন নাগরিকদের মৃত্যুর পেছনে রাশিয়ার এই সহায়তার ভূমিকা রয়েছে। এতে ট্রাম্প কোন পক্ষের স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সহায়তা কমে যাওয়ার পরও টিকে আছে ইউক্রেন। দেশটির রাজধানী কিয়েভের জন্য জো বাইডেন প্রায় ১৩০ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র ব্যয় করেছিলেন। ট্রাম্প ক্ষমতায় এসে সেই সহায়তা বন্ধ করে দেন। পরে ইউরোপকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অস্ত্র কিনে ইউক্রেনকে দেওয়ার সুযোগ দেন তিনি। তবে সেই সুযোগও বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ইলন মাস্ক প্রকাশ্যেই স্বীকার করেছেন, ইউক্রেনের যেসব অস্ত্রব্যবস্থা তার প্রতিষ্ঠানের স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সংযোগের ওপর নির্ভরশীল, সেগুলোতে তিনি হস্তক্ষেপ করেছেন।

এর ফলে ইউক্রেনের অনেক মানুষ নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণে এসব সংযোগ ব্যবহার করা হয়। একই সঙ্গে দূরপাল্লার হামলা ও সম্মুখসারির সামরিক অভিযানও বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মাস্ক ও ট্রাম্প মিলে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে কার্যত অকার্যকর করে দিয়েছেন।

ট্রাম্প ইউক্রেনকে রাশিয়ার জ্বালানি তেল অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন। অথচ রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা দুর্বল করতে এবং দেশটির অভ্যন্তরে জ্বালানির সংকট তৈরিতে কিয়েভ কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার সাধারণ মানুষকে যে বাস্তব মূল্য দিতে হচ্ছে, জ্বালানির এই সংকট তারই একটি উদাহরণ।

পুতিনকে ডিজেল রপ্তানির সুযোগ দিতে রাশিয়ার ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছেন ট্রাম্প। চলতি মাসের শুরুতে নিষেধাজ্ঞার একটি প্যাকেজ কার্যকর করা থেকেও বিরত থাকেন তিনি। ওই প্যাকেজে রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের ক্রেতাদের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক এবং রাশিয়ার পণ্যের ওপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা ছিল। এ ছাড়া ট্রাম্পের আলোচক দল রাশিয়ার ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে আবার দেশটিতে ব্যবসা শুরুর সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

ইউক্রেনকে আরও সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগেও ট্রাম্প ভেটো দিতে পারেন। কংগ্রেসের উভয় কক্ষের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য তার ভেটো বাতিল করে কোনো সিদ্ধান্ত নিলেও সেটি বাস্তবায়ন না করার পথ তার হাতে রয়েছে। কারণ, নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণ তার কাছেই। কংগ্রেসের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় যে সিদ্ধান্তই নিন না কেন, ট্রাম্পকে তা বাস্তবায়নে বাধ্য করার কার্যকর ব্যবস্থা নেই।

যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন, বাল্টিক অঞ্চলের দেশগুলো, পোল্যান্ড, স্ক্যান্ডিনেভিয়ার সব দেশ এবং কানাডার বক্তব্য, রাশিয়া ইতিমধ্যে পশ্চিমা বিশ্বের বিরুদ্ধে বহুমুখী সংঘাত চালাচ্ছে। এ সংঘাত আরও তীব্র হয়ে সরাসরি যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে তাদের গুরুতর উদ্বেগ রয়েছে। ট্রাম্প এসব আশঙ্কায় বিশ্বাস করেন না। তবে কানাডা ও ডেনমার্কের অধীন গ্রিনল্যান্ডে সামরিক অভিযান চালানোর হুমকি দিয়ে তিনি ন্যাটোকে দুর্বল করেছেন।

ন্যাটোকে দুর্বল করতে যুক্তরাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিকভাবে জোট থেকে বের করে নেওয়ার প্রয়োজন নেই ট্রাম্পের। শুধু ইউরোপ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার কিংবা ন্যাটোর সামরিক নেতৃত্ব কাঠামো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নিলেই পুরো জোট অকার্যকর হয়ে পড়তে পারে। এতে পুতিন বিপুলভাবে সন্তুষ্ট হবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক মিত্রদের মধ্যে আরও বিশৃঙ্খলা তৈরিতে সহায়তা করার চেয়ে ভালো কৌশল আর কী হতে পারে? কারণ, এসব দেশ সব সময়ই পুতিনের শত্রু হিসেবে পরিচিত। এটিই মূলত রাশিয়ার সামরিক কৌশলের সারকথা। ট্রাম্পকে প্রায়ই মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন বলে মনে হয়েছে— এমন মন্তব্যও রয়েছে বিশ্লেষণে। তবে এই সপ্তাহের ঘটনার পর তার সামনে আর কোনো বাধা থাকবে না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।





অনুসরণ করুন

logologologologologo

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on

Google Play

Download on the

App Store

সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে সর্বশেষ খবরের নির্ভুল গন্তব্য কলম২৪। বাংলাদেশ ও বিশ্বমঞ্চের ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলাধুলা কিংবা বিনোদনের সব খবর—সবার আগে আপনার হাতের মুঠোয়। খবরের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে এখনই ভিজিট করুন।

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মনিরা রওনক বুবলি

স্বত্ব© কলম২৪ (২০২৬)

ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।