কলঙ্কিত ১৫, বাঙালির দুর্ভাগ্য

2 months ago
5:19 pm
28
অন্যান্য কলাম কলঙ্কিত ১৫, বাঙালির দুর্ভাগ্য

বাইগার নদীর তীর ঘেঁষে ছোট্ট একটি  গ্রাম। সেই নদীতে ঝাঁপিয়ে, সাতাঁর কেটে, গ্রামের মেঠো পথের ধুলোবালি গায়ে মেখে বড় হচ্ছিল ছোট এক বালক। অত্যন্ত ডানপিঠে স্বভাবের ছেলেটা মাত্র ১৪ বছর বয়সেই ক্লাস সেভেনে পড়া অবস্থায় বেরিবেরি রোগে আক্রান্ত হয়। এর দুবছর পরই আক্রান্ত হয় চোখের গ্লুকোমা রোগে। কলকাতার হাসপাতালে  ডাক্তার পরীক্ষা করে ছেলেটার চোখে চশমা পড়িয়ে দেয়।  তখন কেইবা আর জানত এই ছেলেটির চশমার কাঁচের  প্রতিফলিত আলোয় বাঙ্গালী জাতি দেখবে বাংলাদেশের মানচিত্র ।

বলছি এক অনন্য সাধারন ব্যক্তিত্বের কথা, হাজার বছরের শ্রেষ্ট বাঙালির কথা, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কথা। বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৭ মার্চ ১৯২০ সালে তৎকালীন ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার (বর্তমানে জেলা) টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।তার বাবা শেখ লুৎফর রহমান গোপালগঞ্জ দায়রা আদালতের সেরেস্তাদার (যিনি আদালতের হিসাব সংরক্ষণ করেন) ছিলেন এবং মা’র নাম সায়েরা খাতুন। চার কন্যা এবং দুই পুত্রের সংসারে তিনি ছিলেন তৃতীয় সন্তান।একটু দুষ্টু প্রকৃতির হলেও ছোট থেকেই তিনি ছিলেন মানবিক,  উদার, সত্যবাদি, ধৈর্যশীল ও অধিকার সচেতন।

মুজিবের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল ১৯৩৯ সালে মিশনারি স্কুলে পড়ার সময় থেকেই। এ বছর স্কুল পরিদর্শনে এসেছিলেন তদানীন্তন বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির মুখ্যমন্ত্রী শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক এবং পরবর্তীতে বাংলার প্রধানমন্ত্রী এবং এমনকি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকারী হোসেন মো, শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী। তিনি স্কুলের ছাদ সংস্কারের দাবির উপর ভিত্তি করে একটি দল নিয়ে তাদের কাছে যান যার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি নিজেই। এই ঘটনার জের ধরেই তাঁকে ৭দিন জেলে খাটতে হয়। যা বঙ্গবন্ধুর জীবনের প্রথম জেল। ১৯৪০ সালে তিনি নিখিল ভারত মুসলিম লীগের ছাত্র সংগঠন নিখিল ভারত মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনে যোগ দেন। কট্টরপন্থী এই সংগঠন ছেড়ে ১৯৪৩ সালে যোগ দেন উদারপন্থী ও প্রগতিশীল সংগঠন বেঙ্গল মুসলিম লীগে। এখানেই সান্নিধ্যে আসেন হুসেইন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অাইনবিভাগে থাকাকালীন সময়ে রক্ষণশীল কট্টরপন্থী নিখিল ভারত মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনের কর্তৃত্ব খর্ব করতে তিনি  ১৯৪৮ সালের জানুয়ারি মাসের ৪ তারিখে প্রতিষ্ঠা করেন পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্র লীগ।  যার মাধ্যমে তিনি উক্ত প্রদেশের অন্যতম প্রধান ছাত্রনেতায় পরিণত হন। এ সময় তিনি সমাজতন্ত্রের দিকে ঝুঁকে পড়েন এবং দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও জীবনযাত্রার নিম্নমানের উন্নয়নের জন্য এটিকেই একমাত্র সমাধান হিসেবে মনে করতে থাকেন।

পাকিস্তান সৃষ্টি হওয়ার পরই  পশ্চিম পাকিস্তানিরা প্রথমে পূর্ব পাকিস্তানিদের ভাষার ওপর তাদের কালো থাবা বসানোর প্রয়াস চালাই। যা বাঙালিরা কখনোই মানতে পারেনি। ভাষা আন্দোলনের সময় রাজনৈতিক নেতা হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৪৮ সালে ভাষার প্রশ্নে তাঁর নেতৃত্বেই প্রথম প্রতিবাদ এবং ছাত্র ধর্মঘট শুরু হয় যা চূড়ান্ত রূপ নেয় ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারিতে।   বাঙালিরা লাভ করেছে মাতৃভাষা   বাংলায় কথা বলার অধিকার। মূলত এ বিজয় ই পরবর্তী সকল অধিকার আদায়ের  আন্দোলনের স্ফুলিঙ্গ হিসেবে কাজ করে

পাকিস্তানের  কেন্দ্রীয় পরিষদের ১৯৫৪ খ্রীস্টাব্দের নির্বাচনে মুসলিম লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে অন্যান্য দল মিলে যুক্তফ্রন্ট নামীয় একটি সমন্বিত বিরোধী রাজনৈতিক মঞ্চ গঠন করার উদ্যোগ নেয়া হয় যা ৪ ই ডিসেম্বর গঠিত হয় । যুক্তফ্রন্ট ২১ দফার একটি নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করে। ঐ ইশতেহারের মধ্যে প্রধান দাবি ছিল লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পূর্ববঙ্গকে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন প্রদান করা, বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসাবে স্বীকৃতি দেয়া, ২১শে ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা, ভাষা শহীদদের স্মৃতিরক্ষার্থে শহীদ মিনার নির্মাণ করা ইত্যাদি।যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল “নৌকা”।  শেখ মুজিবুর রহমান গোপালগঞ্জ আসন থেকে মুসলিম লীগ প্রার্থী ওহিদুজ্জামান ঠাণ্ডা মিয়াকে পরাজিত করে প্রাদেশিক আইনসভার এমএলএ নির্বাচিত হন। গোপালগঞ্জ নির্বাচন সম্পর্কে শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, ‘নির্বাচনে দেখা গেল ওহিদুজ্জামান সাহেব প্রায় ১০ হাজার ভোটে পরাজিত হয়েছেন। জনসাধারণ আমাকে শুধু ভোটই দেয়নি, প্রায় ৫ হাজার টাকা নজরানা হিসেবে দিয়েছিল নির্বাচন খরচ চালানোর জন্য। আমার ধারণা হয়েছিল, মানুষকে ভালোবাসলে মানুষও ভালোবাসে। যদি সামান্য ত্যাগ স্বীকার করেন, তবে জনসাধারণ আপনার জন্য জীবন দিতেও পারে।

১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধী দলসমূহের একটি জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সম্মেলনেই শেখ মুজিব তার ঐতিহাসিক ছয় ৬ দাবী পেশ করেন যাতে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্ত্বশাসনের পরিপূর্ণ রূপরেখা উল্লেখিত হয়েছিল। শেখ মুজিব এই দাবিকে “আমাদের বাঁচার দাবি” শিরোনামে প্রচার করেছিলেন। এ দাবি আদায়ে শেখ মুজিবের নেতৃত্বে আন্দোলন হয়েছিল।

পাকিস্তান সরকার ১৯৬৮ সালের জানুয়ারি মাসে আওয়ামী লীগ প্রধান  শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রধান আসামি করে সেনাবাহিনীর কয়েকজন কর্মরত ও প্রাক্তন সদস্য এবং ঊর্ধ্বতন সরকারি অফিসারদের বিরুদ্ধে যে মামলা দায়ের করে তা আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা নামে পরিচিত। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে, তারা ভারত সরকারের সহায়তায় সশস্ত্র অভ্যুত্থানের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানকে পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন। ভারতের ত্রিপুরার আগরতলা শহরে ভারতীয় পক্ষ ও আসামি পক্ষদের মধ্যে এ ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে মামলায় উল্লেখ থাকায় একে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা বলা হয়। এই মামলায় বঙ্গবন্ধুকে এক নম্বর আসামি করা হয়। তবে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের তীব্র আন্দোলনের মুখে পাকিস্তান সরকার অচিরেই মামলাটি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়।

কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবের সম্মানে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এক সভার আয়োজন করে। লাখো জনতার এই সম্মেলনে শেখ মুজিবকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি দেওয়া হয়। উপাধি ঘোষণা দিয়েছিলেন তোফায়েল আহমেদ। এ সভায় রাখা বক্তৃতায় শেখ মুজিব ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের এগার দফা দাবির পক্ষে তার পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন।

১৯৬৯ সালের ৫ ই  ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক জনসভায় পূর্ব পাকিস্তানের নাম ‘বাংলাদেশ ‘ নামকরণ করেন।তিনি বলেন, “একসময় এদেশের বুক হইতে, মানচিত্রের পৃষ্ঠা হইতে ‘বাংলা’ কথাটির সর্বশেষ চিহ্নটুকুও চিরতরে মুছিয়া ফেলার চেষ্টা করা হইয়াছে। একমাত্র ‘বঙ্গোপসাগর’ছাড়া আর কোন কিছুর নামের সঙ্গে ‘বাংলা’ কথাটির অস্তিত্ব খুঁজিয়া পাওয়া যায় নাই। জনগণের পক্ষ হইতে আমি ঘোষণা করিতেছি- আজ হইতে পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশটির নাম পূর্ব পাকিস্তানের পরিবর্তে শুধুমাত্র বাংলাদেশ”।

১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বরে সাধারণ নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ প্রাদেশিক আইনসভায় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও ইয়াহিয়া খান সংসদ অধিবেশন ডাকা নিয়ে নানা টাল বাহানা শুরু করেন। শেখ মুজিব তখনই বুঝে যান যে, পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের দুঃশাসনের অবসান ঘটাতে লড়াইয়ের কোনো বিকল্প নেই। ফলশ্রুতিতে ১৯৭১ এর ৭ ই মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে এক বিশাল জনসমুদ্রে তিনি স্বাধীনতার ডাক দেন। বজ্র কন্ঠে ঘোষণা দেন, এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম”। ঐতিহাসিক এ ভাষণে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতিকে শৃংখল মুক্তির আহ্বান জানিয়ে ঘোষণা করেন, “রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেবো। এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ্।  প্রত্যেকে ঘরে ঘরে দূর্গ গড়ে তোলো। যার যা কিছু আছে তাই নিয়েই শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে”।

১৯৭১ সালের ১৭ই এপ্রিল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠিত হয় এবং শেখ মুজিবকে রাষ্ট্রপতি করা হয়। এ সরকারের অধীনেই গঠিত হয় মুক্তিবাহিনী এবং শুরু হয় পাক সেনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। দির্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বাঙালি লাভ করে প্রিয় স্বাধিনতা।পৃথিবীর মানচিত্রে জন্ম নেয় বাংলাদেশ নামের নতুন একটি দেশ।

১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু ফিরে আসেন তাঁর প্রিয় মাতৃভূমি বাংলায়।১২ জানুয়ারি বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। নেমে পড়েন যুদ্ধ বিধ্বস্ত   বাংলাদেশ পুনঃনির্মানে। কিন্তু স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের কারনে প্রতিবারই বাধার সম্মুখীন হতে হয়।বঙ্গবন্ধু বুঝতে পারেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। ১৯৭৪ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ বা ‘বাকশাল’। তিনি একে ২ য় বিপ্লব বলে অভিহিত করেন। একই সাথে অন্যান্য সকল রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা হয়। যা স্বাধীনতা বিরোধীদের গালে চপেটাঘাত পড়ার সামিল।ফলে কুচক্রি মহল বাকশাল সম্পর্কে  জনগনের মনে বিভ্রান্তি ও সন্দেহের বীজ  বপনের দৌড়ে লেগে পড়ে। অথচ  দেশের এমন দুঃসময়ে দেশকে সকল প্রকার স্বাধীনতা বিরোধী চক্র ও সংগঠন থেকে মুক্ত রাখার জন্য ‘বাকশাল’ গঠন ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

১৯৭৫ সাল। ইতিহাসের সবচেয়ে  কলঙ্কিত অধ্যায়। যে মুজিব  জাতির জন্য নিজের জিবনকে উৎসর্গ করেছিলেন,  জিবনের মায়া ত্যাগ করে জেল খেটেছেন, অনশন করেছেন সেই জাতিরই কিছু  বিপথগামি সেনা নরপিশাচ কেবল ক্ষমতার লোভে ১৫ ই আগস্ট ভোরে নৃশংসভাবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে । খুব অল্প সময়ের মধ্যে বঙ্গবন্ধুসহ তার পরিবারের ১৮ জনকে এই পৃথীবি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। সেই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে পাষন্ড ঘাতকদের হাত থেকে রেহাই পায়নি শিশু রাসেল,শিশু বাবু,এমনকি অস্তঃসত্ত্বা বধূও। রক্তের দাগ সেদিন বাংলাদেশের মানচিত্রকে আরও অনেকগুন বেশি লাল করে তুলেছিল। শেখ হাসিনা ও শেখ রেহেনা বিদেশে অবস্থান করছিলেন বলে তাঁরা প্রানে বেঁচে যায়।বাঙালি জাতি এই দিনটিকে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালন করে এবং সাথে সাথে স্মরণ করে বিশাল হৃদয়ের সেই মহাপ্রাণ মানুষটিকে যিনি তাঁর সাহস, শৌর্য, আদর্শের মধ্য দিয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবেন বাঙালি জাতির অন্তরে।

বঙ্গবন্ধুকে দৈহিকভাবে হত্যা করা হলেও তিনি বাঙালির অন্তরে চিরন্জীব। বাংলার আকাশে, বাতাসে বেসে বেড়ায় তাঁর অমিয় বাণী,  এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম”…….। তিনি  সপ্ন দেখেছিলেন  দারিদ্র্যতা ও ক্ষুধা মুক্ত এক বাংলার। যেখানে প্রতিটি মানুষরই তার মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হবে,পাবে তার ন্যায্য অধিকার। দুর্ভাগ্য শুধু এই, যে চোখে মানুষটি সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন সেই সোনার বাংলা গড়ার আগেই কিছু পিশাচের গুলিতে তাঁর চোখ দুটো চিরতরে বন্ধ হয়ে গেল।

লেখক: অনিক তুষার