শাবিতে ত্যাগ আদর্শের প্রতীক ‘বঙ্গবন্ধু’

2 months ago
2:02 pm
11
অন্যান্য বিশেষ প্রতিবেদন শাবিতে ত্যাগ আদর্শের প্রতীক ‘বঙ্গবন্ধু’



বাঙালির গৌরবময় স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রাণপুরুষ, চেতনার অগ্নিমশাল; যার নেতৃত্বে সৃষ্টি এ দেশের ইতিহাস। পরাধীনতার গ্লানি থেকে মুক্ত করে একটি জাতিকে দেখিয়েছেন স্বাধীনতার উদিত সূর্য। তিনি বাঙালি জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা ও স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যার স্বপ্ন ছিল ক্ষুধা, দারিদ্রমুক্ত ও সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার।



কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকের নির্মমতায় প্রাণ দিতে হয় তাকে। বাধাগ্রস্ত হয় একটি জাতির অগ্রযাত্রা। তিনি শারীরিকভাবে তিনি আজ আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তার আত্মা-প্রেতাত্মা বাংলার প্রতিটি প্রান্তে বহমান। তিনি ঠাঁই পেয়েছেন বাংলার মানুষের হৃদয়ের গভীরে।



আর তাঁর এই স্মৃতি সংরক্ষণ ও আদর্শের প্রতীককে ধারণ করতে দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্মিত হয়েছে অসংখ্য ভার্স্কয-প্রতিকৃতি। এরই অংশ হিসেবে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েও নির্মিত হয়েছে জাতির পিতার প্রতিকৃতি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক থেকে প্রবেশদ্ধার ‘কিলোরোড’ পেরিয়েই গোলচত্বর। গোলচত্বর ও  প্রশাসনিক ভবন-২ এর মাঝে এ মুর‌্যালটির অবস্থান। ফলে আনমনেই ক্যাম্পাসে চলাচলরত যে কারো নজরে পড়ে মুর‌্যালটি। মনে হয় যেন শীর উঁচু করে এখানে দাঁড়িয়ে আছে ‘বঙ্গবন্ধু’।



রড-সিমেন্ট ও বিভিন্ন ধরণের সিরামিক টাইলস দিয়ে তৈরি মুর‌্যালটির উচ্চতা ৬ ফুট বাই ১০ ফুট আর মূল বেদি ৪০ ফুট বাই ২৫ ফুট। প্রায় ১২ লাখ ৮ হাজার টাকা ব্যায়ে নির্মিত এ প্রতিকৃতির ডিজাইনার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও স্থাপত্য শিল্পী শেখ নাঈম উদ্দিন টিপু।

জাতির পিতাকে স্মরণীয় করে রাখতে এই মুর‌্যাল নির্মাণের দাবি জানিয়ে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ফলে এ উদ্যোগ গ্রহণ করেন তৎকালীন প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা।



২০১৬ সালের ১৩ আগস্ট এ মুর‌্যালের উদ্বোধন করেন তৎকালীন বাংলাদেশ   বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আব্দুল মান্নান ও  শাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আমিনুল হক ভূইয়া।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ সমারোহে নান্দনিক স্থাপত্যে নির্মিত এ মুর‌্যালটির চারদিক ঘিরে রেখেছে অসংখ্য কদম, কৃঞ্চচূড়া, কড়ইসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ। যা ক্যাম্পাসের সৌন্দর্যকে বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে।



মুর‌্যালের পাদদেশে এসে দর্শনার্থী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা শ্রদ্ধাভরে বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করে। তারা অনুভব করেন বঙ্গবন্ধুর রেখে যাওয়া আদর্শ।

আর এই অনুভবের কথা বলতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের  নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০১১-১২ সেশনের শিক্ষার্থী শাহারিয়ার জামান ও পিএমই বিভাগের একই সেশনের মোঃ জুয়েল মিয়া  বলেন, বঙ্গবন্ধুর এই মুর‌্যালের দিকে যখন আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়, তখন গর্বের সহিত অনুভব করি বাঙালি জাতির প্রতি তাঁর অবদান ও ত্যাগের কথা।



অন্যদিকে গনিত বিভাগের ২০১২-১৩ সেশনের শিক্ষার্থী খালেদ সাইফুল্লাহ ইলিয়াছ কাছে অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, বঙ্গবন্ধু মিশে আছে বাঙালির রক্তে। শিক্ষার্থীদের ভেতরে অধিকার সচেতন, আপোষহীন সত্ত্বাকে বারবার মনে করিয়ে দেয় ক্যাম্পাসে জাগ্রত বঙ্গবন্ধুর মুর‌্যাল। বঙ্গবন্ধু আর মুক্তিযুদ্ধ চর্চার এক অন্যতম নিদর্শন হিসেবে দাড়িয়ে আছে এই মুর‌্যাল, যা যুগে যুগে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ন্যায় ও সাম্যের চেতনাকে সঞ্চারিত করে যাবে বলে আমাদের দৃঢ় প্রত্যাশা।

মুর‌্যালটির দেখে নতুন প্রজন্ম বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অনুপ্রানিত হচ্ছে বলে মনে করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের উচ্চমান সহকারী মোঃ ফয়সাল খান।



তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে বঙ্গবন্ধুর মুর‌্যাল থাকায় নিয়মিতই এটি দেখা হয়। আর মুর‌্যালটি দেখলেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনা স্মৃতিতে পুনঃজাগরিত হয়। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয় ও আত্মবিশ্বাস খুঁজে পাই।

বিশ্ববিদ্যালয় কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন অফিসে আসা-যাওয়ার সময় মুর‌্যালটির দিকে একপলক দৃষ্টিতে থাকিয়ে থাকি। ভাবি, বঙ্গবন্ধু জন্মেছিল বলেই আমরা স্বাধীন বাংলাদেশের স্বাদ পাচ্ছি। তিনি এমনিতেই হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি হননি। জীবনের বড় একটি অংশ জেলখানায় অতিবাহিত করেছেন। তাঁর সম্পর্কে যখন পড়ি জানতে পারি ত্যাগ ও তিতীক্ষার কথা। আর মুজিববর্ষে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে একটি স্মারক গ্রন্থ প্রকাশ করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কাজ করছে বলে তিনি জানান।