‘ইউজিসি কি উপাচার্যদের তলব করতে পারে?’

2 months ago
9:22 pm
17
অন্যান্য খোলামত ‘ইউজিসি কি উপাচার্যদের তলব করতে পারে?’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক (একাডেমিকও নয় কি?) প্রধানকে বলা হয় ভাইস চ্যান্সেলর। আর চ্যান্সেলর হলেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি (কিছু কিছু ক্ষেত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী)। ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সে যা-ই থাকুক না কেন, আক্ষরিক অর্থে একজন উপাচার্যের মর্যাদা মহামান্য রাষ্ট্রপতির কিংবা ক্ষেত্র বিশেষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরেই। কিন্তু শিক্ষকদের অপরাজনীতির প্রত্যক্ষ ফল হিসেবে এই পদটির মর্যাদা ভূলুন্ঠিত হতে হতে এমন স্তরে পৌঁছেছে যে একজন উপাচার্যের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ তদন্ত করার জন্য অভিযুক্ত ও অভিযোগকারী-উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার জন্য ইউজিসি গণশুনানীর ব্যবস্থা করে উভয় পক্ষকে ঢাকায় তলব করেছে! অভিযুক্ত উপাচার্য একে স্বাগত: জানিয়েছেন কারণ সম্ভবত: তিনি তার সৎসাহসের দ্বারা চালিত হয়ে মনে করেছেন যে এর মাধ্যমে তিনি তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলির যথাযথ জবাব প্রদান করে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে সক্ষম হবেন। সন্দেহ নেই এটি একটি ইতিবাচক স্পিরিট। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, ইউজিসির তদন্ত দল তাকে এভাবে ডাকতে পারে কি’না? কিংবা এরূপ ডাকে সাড়া দেয়া শোভনীয় হবে কি’না?

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত ১৯৭৩ সালের এক্ট দ্বারা পরিচালিত। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যালেন্ডারেই পাওয়া যাবে কোন উপাচার্যের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ তদন্ত ও বিচারের উপায়। ১৯৭৩ সালের এক্টকে উপেক্ষা করে ইউজিসি যে প্রক্রিয়ায় গণশুনানী করতে যাচ্ছে তা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য মানহানিকর। ইউজিসির উচিত তার তদন্তদলকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রেরণ করা। কেননা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মর্যাদা সুরক্ষা করা ইউজিসির দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। যারা অভিযোগ উত্থাপন করেছেন, তারাও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানীত শিক্ষক। তলবী গণশুনানীতে তারা যাবেন কি’না এটা তাদেরও বিবেচনা করা জরুরী। কেননা ইতোপূর্বে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং গোপালগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে একইরকম পরিস্থিতি তদন্ত করতে ইউজিসির তদন্তদল উক্ত বিশ্ববিদ্যালয় দুটিতে গিয়েছিলো, তলব করে নি।

মজার ব্যাপার হলো, এই তদন্তে কারা লাভবান হবেন কিংবা কী ফলাফল বয়ে আনবে তা সুস্পষ্ট না হলেও, অভিযোগকারী পক্ষের কেউ কেউ ইতোমধ্যেই পরবর্তীতে উপাচার্য হওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। তা উপাচার্য হওয়ার স্বপ্ন দেখা অস্বাভাবিক কিছু নয়। কেউ চিরদিন উপাচার্য থাকেন না। ফলে পরবর্তী সৌভাগ্যবান ব্যাক্তিটি আপনিও হতে পারেন (এই পদলাভ আদৌও সৌভাগ্যের কিনা তা প্রশ্ন সাপেক্ষ বৈকি!) ইউজিসিকে ব্যবহার করে কাউকে অপমান করে বিদায় করার যে পরিকল্পনা আপনি করছেন, আমি নিশ্চিত আপনি সফল হলে আপনার আজকের সারথি আপনি পদে বসার পরদিন থেকেই একই সূত্র আপনার বিরুদ্ধে প্রয়োগ করবে। কেননা, এ রাজচক্র! এর মর্মভেদ করা বড়ই কঠিন।

আমি বলি কি, যে চেয়ারটাতে আপনি বসতে চাচ্ছেন, সেই চেয়ারটার মর্যাদা যেন আগেই নষ্ট হয়ে না যায় তা নিশ্চিত করা কি শ্রেয় নয়?

লেখক: ড. সৈয়দ আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী
সভাপতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।