কিশোরগঞ্জের আদালতে অভিনব সাজা

4 weeks ago
4:34 pm
755
অন্যান্য আইন-আদালত কিশোরগঞ্জের আদালতে অভিনব সাজা

কিশোরগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বিচারক সাদ্দাম হোসেন এক ব্যতিক্রমধর্মী অভিনব সাজার আদেশ দিয়েছেন। মাদকের এক মামলায় তিনি মো. রহিম মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে এক বছরের সাজা প্রদান করেন। বিচারক সাদ্দাম হোসেন দ্যা প্রবেশন অব অফেনডার্স অর্ডিন্যান্স ১৯৬০ এর অনুচ্ছেদ (৫) মোতাবেক তাকে কারাগারে না পাঠিয়ে সংশোধনের জন্য একজন প্রবেশন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানের শর্তসাপেক্ষে নিজ বাড়িতে থেকে ঐ সাজা ভোগের ব্যক্তিক্রমী অভিনব এক আদেশ দিয়েছেন।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) কিশোরগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেটের আদালতে এ রায় প্রদান করেন। সাজাপ্রাপ্ত আসামী কিশোরগঞ্জ সদরের নীলগঞ্জ এলাকার মো. সিরাজ মিয়ার পুত্র। অপরদিকে মো. লালন মিয়া ওরফে লাল মিয়াকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন।

উল্লেখ্য যে, কারাগারের উপর চাপ কমানো এবং ‘সংশোধনমূলক’ সাজার নীতি কার্যকর করায় ১৯৬০ সালের একটি অব্যবহৃত আইনকে কার্যকর করতে বিচারকদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। এর আওতায় অনেক দন্ডিত অপরাধী শর্ত সাপেক্ষে জেলের ঘাণি না টেনে মুক্ত জীবন যাপন করার সুযোগ পাবেন। দোষী সাবস্ত্য হলেই দন্ড পেতে বা জেলের ভাত খেতে হবে না।

আদালত সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও পুলিশের তত্ত্ব মোতাবেক মামলা পরিচালিত হয়ে আসছে। আসামী পক্ষ ও রাষ্টপক্ষের আইনজীবী যুক্তিতর্কে আসামীদ্বয় মাদক আসক্ত বলে প্রমাণিত হয়। এতে আদালত সিদ্ধান্তে অবণত হয় যে, আসামীরা সঙ্গদোষে মাদকাসক্ত হয়েছিল। তাই আদালত আসামীদ্বয়কে বেকসুর খালাস দিলেও মো. রহিম মিয়াকে (৫৫) বয়স বিবেচনা করে প্রতি দুই মাস অন্তর অন্তর রিপোর্টের শর্ত সাপেক্ষে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরের ৩১ তারিখে প্রবেশন থেকে উত্তীর্ণ হবে। মো. রহিম মিয়া প্রতি মাসে নিজ জমিতে অথবা সরকারী রাস্তার ধারে কমপক্ষে দু’টি বৃক্ষ রোপন, দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায়, মুক্তিযোদ্ধ বিষয়ক বাংলাদেশী সিনেমা দেখা ও দেশের প্রচলিত আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ এমন কোনো অপরাধে লিপ্ত না হওয়া এরকম সাতটি শর্তসাপেক্ষে নিজ বাড়িতে সাজা ভোগ করবে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এপিপি এ্যাড. মো. ইফতেখারুল ইসলাম পাভেল জানান, আসামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তবে প্রচলিত বিধান অনুযায়ী আসামীকে কারাদন্ড ভোগের পরিবর্তে এক বছরের জন্য সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রবেশন কর্মকর্তার হেফাজতে দেয়া হয়েছে। মাদকসেবীদের নির্মূল করার লক্ষ্যে রায়টি একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

আসামীপক্ষের আইনজীবী এ্যাড. প্রদীপ চন্দ্র দে জানান, ঘোষিত রায়ের কারণে সে ভালো পথে ফিরে আসার সুযোগ পাবে।