কটিয়াদীতে স্বাক্ষর জালে ভূয়া ইস্তফায় কাজী নিয়োগ

2 weeks ago
8:56 pm
697
অন্যান্য বিশেষ প্রতিবেদন কটিয়াদীতে স্বাক্ষর জালে ভূয়া ইস্তফায় কাজী নিয়োগ

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের নিকাহ রেজিষ্ট্রার মোসলেহ উদ্দিনের স্বাক্ষর জাল করে ভূয়া ইস্তফাপত্র সাজিয়ে ১০ নং জালালপুর ইউনিয়নের মো. ছিদ্দিকুর রহমানকে অস্থায়ী নিকাহ রেজিষ্ট্রার নিয়োগ প্রদানের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয়, কিশোরগঞ্জ জেলা রেজিষ্ট্রার কার্যালয়ের ৩০৭ নং স্মারক জাল করেও মো. ছিদ্দিকুর মন্ত্রণালয় থেকে একটি অস্থায়ী নিয়োগ হাসিল করেন। যদিও এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দফতরে অভিযোগ করেও ভুক্তভোগীরা কোন প্রতিকার পায়নি। অথচ তার বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণ থাকলেও স্থানীয় প্রশাসন ছিদ্দিকুর রহমানের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দায়ের করেছেন মো . জিল্লুর রহমান।

  • ১৫ বছর ধরে জালিয়াতি করে চলছে কার্যক্রম
  • অভিযোগ করেও মেলেনি প্রতিকার
  • রহস্যজনক কারণে নিরব প্রশাসন

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, জালালপুর ইউনিয়নের নিকাহ রেজিষ্ট্রার হিসেবে কর্মরত ছিলেন মোসলেহ উদ্দিন। মূলত তাকে বাদ দেওয়ার জন্য তার স্বাক্ষর জাল করে ভূয়া ইস্তফাপত্র সাজানো হয়। পরবর্তীতে কিশোরগঞ্জ জেলা রেজিষ্ট্রার কার্যালয়ের ৩০৭ নং স্মারক জাল করে ১০ নং জালালপুর ইউনিয়নে অস্থায়ী নিকাহ রেজিষ্ট্রার নিয়োগ দেওয়া হয় মো. ছিদ্দিকুর রহমানকে। নিয়োগের পরবর্তী সময়ে ছিদ্দিকুর রহমানের বিরুদ্ধে স্বাক্ষর জাল করে ইস্তফা ও জেলা রেজিষ্ট্রারের স্বারক জাল করে ভূয়া স্মারকে নিকাহ রেজিষ্ট্রারের নিয়োগের অভিযোগ উঠে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় হতে ১২-০৪-০৬ ইং তারিখে বিচার-৭/২এন/২০০০/২৩৭ নং স্মারকে তদন্ত পূর্বক দাখিল করার জন্য কিশোরগঞ্জের জেলা রেজিষ্ট্রারকে নির্দেশ দেন। পরে তৎকালীন জেলা রেজিষ্ট্রার মো. রফিকুল ইসলাম ০৩-০৫-০৬ ইং তারিখ ৮৫৮ নং স্মারকে মন্ত্রণালয়ে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রতিদেবন দাখিল করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জেলা রেজিষ্ট্রার অফিসে তৎকালীন নিকাহ রেজিষ্ট্রার মোসলেহ উদ্দিনের পদ হতে অব্যাহতি সংক্রান্ত কোন পত্র বিগত ০৫/০২/২০০৫ তারিখে অত্র কার্যালয়ে দাখিল হয়নি। এ সংক্রান্ত কোনপত্র পাওয়া যায়নি এবং প্রাপ্তি রেজিষ্ট্রারে এ ধরণের কোন রেকর্ড নেই। তাছাড়া নিকাহ রেজিষ্ট্রার নিয়োগ বা ইস্তফা সংক্রান্ত বিষয়ে অত্র কার্যালয়ের ১০/০২/২০০৫ তারিখের ৩০৭ স্মারক মূলে কোন পত্রও আইন সচিব বরাবর প্রেরণ করা হয়নি।

পরে আনীত অভিযোগের ভিত্তিতে ছিদ্দিকুর রহমানকে ১০ নং জালালপুর ইউনিয়নের নিকাহ রেজিষ্ট্রার লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না এই মর্মে একটি কারণ দর্শানো নোটিশ হয়। ছিদ্দিকুর রহমান কারণ দর্শানোর জবাব মন্ত্রণালয়ের বিচার শাখা-৭ এর জমা হলে তা অজ্ঞাত কারণে দীর্ঘদিন যাবৎ বিশেষ কোন ব্যক্তি বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টায় লিপ্ত হয়। সে কারণে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সঠিক ও সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত সংশ্লিষ্ট নথিতে উপস্থাপন করার সুযোগ না থাকায় জাল-জালিয়াতির আশ্রয়ে নিয়োগ প্রাপ্ত ১০ নং জালালপুর ইউনিয়নের নিকাহ রেজিষ্ট্রার মো. ছিদ্দিকুর রহমানকে আনীত অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। যা প্রশাসন জটিলতা ও মন্ত্রণালয়ের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হওয়ার সামিল। এই বিষয়ে বারবার অভিযোগ করেও কোনরূপ প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলেও ভুক্তভোগীরা জানান।

অভিযুক্ত নিকাহ রেজিষ্ট্রার সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘আইন মন্ত্রণালয়ের আমার লোক দিয়ে নিকাহ রেজিষ্ট্রার নিয়োগ এনেছি। নিয়োগের পর জাল-জালিয়াতির অভিযোগ উঠলে এ বিষয়ে তদন্ত হয়। সেই তদন্ত থেকে আমাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।’

অভিযোগকারী মো . জিল্লুর রহমান বলেন, ‘সিদ্দিকুর রহমান তৎকালীন নিকাহ রেজিষ্ট্রার ও জেলা রেজিষ্ট্রারের স্বাক্ষর জাল করে নিকাহ রেজিষ্ট্রারের নিয়োগপত্র আনেন। যা প্রতারণার সামিল। আমি একজন নাগরিক হিসেবে এর সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে একজন প্রতারকের উপযুক্ত বিচার দাবি করছি।’

কিশোরগঞ্জের জেলা রেজিষ্ট্রার মোহাম্মদ আবু তালেব বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে অবগত নই। আমি এ বিষয়ে কিছ্ইু জানিনা।’ কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী বলেন, ‘ এ ব্যাপারে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’