১৭ বছর ধরে সাংগঠনিক কার্যক্রম নেই

কটিয়াদীতে প্রাণহীন শিল্পকলা একাডেমী; কার্যক্রম নেই ১৭ বছর!

1 week ago
8:40 pm
114
অন্যান্য বিশেষ প্রতিবেদন কটিয়াদীতে প্রাণহীন শিল্পকলা একাডেমী; কার্যক্রম নেই ১৭ বছর!

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে ১৭ বছর ধরে সাংগঠনিক কার্যক্রম নেই সংস্কৃতিকর্মীদের অভিভাবক সংগঠন শিল্পকলা একাডেমী। ২০০৩ সনের পর থেকে সংস্কৃতিকর্মীদের সম্পৃক্ততা না থাকায় বলতে গেলে প্রাণহীন হয়ে আছে শিল্পকলা একাডেমী। সাংস্কৃতিক বিকাশের জন্যই যে শিল্পকলা একাডেমী প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল সেটি নানা জটিলতায় বন্ধ হয়ে আছে। বলা যেতেই পারে জোড়াতালির এ সংসারে কারো যেনো কোনো দায় নেই।

  • সংস্কৃতি অঙ্গনে স্থবিরতা
  • ১৭ বছরেও নেই নির্বাচন  
  • শিল্পকলা চালুর দাবি সংস্কৃতিকর্মীদের 

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে কটিয়াদী উপজেলা শিল্পকলা একাডেমীতে নির্বাচিত কোন কমিটি নেই। সর্বশেষ ১৯৯৪ সনে নির্বাচনের মাধ্যমে এই উপজেলায় শিল্পকলা একাডেমীর কমিটি গঠন হয়। ১ বছরের জন্য সেই কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন প্রয়াত আবু বকর সিদ্দিক। ওই কমিটি দিয়ে ২০০২ সাল পর্যন্ত শিল্পকলা একাডেমীর কার্যক্রম সরব থাকে। পরবর্তীতে নের্তৃত্ব নিয়ে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে আর কমিটি হয়নি। এরপর পর্যায়ক্রমে সারাদেশে শিল্পকলা একাডেমী গুলোকে নির্বাচন হলেও কটিয়াদী উপজেলায় নির্বাচনের বন্ধ দুয়ার আর খুলেনি। প্রায় ১৭ বছর ধরে নির্বাচন নেই। ২ মাস ধরে অ্যাডহক কমিটি দিয়ে কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে প্রশাসন। তাই স্বাভাবিকভাবেই স্থবিরতা নেমে এসেছে কটিয়াদীরের সংস্কৃতি অঙ্গনে।শিল্পকলা একাডেমির নিষ্ক্রিয়তায় সংস্কৃতিকর্মীদের মাঝে একদিকে যেমন অসন্তোষ বিরাজ করছে, অন্যদিকে জাতীয় পর্যায়ের শিল্পী গড়তে ব্যর্থ হচ্ছে কটিয়াদীবাসী।

একাধিক সূত্র জানায়, ২০১৭ সনের ৩১শে মে তখনকার নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি অ্যাডহক কমিটি করে অনুমোদনের জন্য বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর মহাপরিচালক বরাবর প্রেরণ করেন। প্রায় তিন বছর পর ২০২০ সনে ওই অ্যাডহক কমিটির অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী। কমিটিতে পদাধিকার বলে অ্যাডহক কমিটির আহ্বায়ক উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. আকতারুন নেছা, সদস্য সচিব আবদুল মান্নান মহিলা কলেজের প্রভাষক শামসুজ্জামান সেলিম, সদস্য নাট্যকার শফিকুল ইসলাম মজনু, সদস্য গৌরাঙ্গ চন্দ্র, সদস্য রণবীর সিংহকে রাখা হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখে যায়, কিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক মহাসড়কের কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ডে অবস্থিত শিল্পকলা একাডেমীর ভবনটি বর্তমানে তালাবদ্ধ। ভিতরের আসবাবপত্র গুলো অকেজো অবস্থায় পরে আছে। নীতিমত ভবনটিতে তালাবদ্ধ করে রাখায় ক্ষুব্ধ সংস্কৃতিকর্মীরা।

এদিকে সংস্কৃতিকর্মীরা বলছেন, শিল্পকলা একাডেমী চালু থাকলে সংস্কৃতি অঙ্গন সরব থাকতো। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আনন্দ বিরাজ করতো। দীর্ঘদিন এ প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ থাকায় দিন দিন সংস্কৃতি অঙ্গন হারিয়ে যাচ্ছে। আবারো আগের মতো শিল্পকলা একাডেমীর কার্যক্রম সরব হবে এমনটাই সংস্কৃতিকর্মীদের প্রত্যাশা।

নাট্যকার শফিকুল ইসলাম মজনু মনে করেন, ‘শিল্পকলা একাডেমী চালু থাকলে সংস্কৃতি অঙ্গন সরব থাকে। এতে করে সমাজের অপরাধ প্রবণতা কমতে থাকতে। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কৃতি কার্যক্রম বন্ধ থাকায় মানুষের মধ্যে এক ধরণের হিংস্রতা কাজ করছে। দ্রুত শিল্পকলা একাডেমীর ভবনটি সংস্কার করে কার্যক্রম চালু করার দাবি জানান তিনি।

সদ্য অনুমোদন পাওয়া অ্যাডহক কমিটি সদস্য সচিব শামসুজ্জামান সেলিম বলেন, ‘দীর্ঘদিন শিল্পকলা একাডেমীর কার্যক্রম বন্ধ ছিল। আমরা নতুন রুপে শিল্পকলাকে চালুর করার পদক্ষেপ গ্রহণ করছি।’

পদাধিকার বলে অ্যাডহক কমিটির আহ্বায়ক ও কটিয়াদী নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. আকতারুন নেছা বলেন, ‘পুরাতন ভবনটি সংস্কারের প্রক্রিয়া চলছে। শিগগিই শিল্পকলা একাডেমীর নির্বাচনের মাধ্যমে একটি কমিটি গঠন করে পূণরায় কার্যক্রম চালু করার প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে।’