একজন রাজনৈতিক চারণ কবি’র মৃত্যু : তানিয়া সুলতানা হ্যাপি

4 weeks ago
1:20 am
137
সাহিত্য একজন রাজনৈতিক চারণ কবি’র মৃত্যু : তানিয়া সুলতানা হ্যাপি

গত ২৫ ডিসেম্বর রাত ৯টা ৫৫ মিনিটে চলে গেলেন কিশোরগঞ্জের রাজনৈতিক চারণ কবি খ্যাত গুরু আবদুল ওয়াহাব আইন উদ্দিন । আমাদের মাঝ থেকে তিনি এভাবে চলে যাবেন তা ভাবতেই মনটা গুমরে মুচড়ে হাহাকার করে উঠে। আসলে উনার এমন মৃত্যুর সংবাদের জন্য আমরা কেউই অপেক্ষমান ছিলাম না। স্রষ্টা হয়তো উনাকে দিয়ে যে যে কাজগুলো করানোর প্রয়োজন মনে করেছিলেন, তা পূরণ হওয়াতে ডাক দিয়ে নিয়ে গেলেন।

২২ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ফেইসবুকে ঢুকেই দেখি কটিয়াদির মরণ ফাঁদ খ্যাত রোডে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জনাব আবদুল ওয়াহাব আইন উদ্দিন কাকা এক্সিডেন্ট করেছেন। কেউ কেউ আমাকে ট্যাগ করায় ফেইসবুক নোটিফিকেশন আসতেছিল বারবার। কিছুক্ষণ পর আবার দেখতে পেলাম আইন উদ্দিন কাকা কে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছেন নেতাকর্মীবৃন্দ। খুব দ্রুতই আবার কারো কারো পোস্টে দেখতে পেলাম পঙ্গু হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে । শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে পপুলার হাসপাতালে নিয়ে আসা হলো আইসিইউ সাপোর্টের জন্য। এবং শারীরিক অবস্থা আরো খারাপ হতে থাকায় লাইফ সাপোর্টের প্রয়োজন হলে বঙ্গভবনের নির্দেশে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল সিএমএইচে চিকিৎসা সেবা দেয়া হলো। কিন্তু তবুও শেষ রক্ষা হলো না গুরুর! চিকিৎসা রত অবস্থায় তিনি সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন।

সবকিছুই কেমন যেন খুব দ্রুতই ঘটে গেল! চিরতরে নিভে গেল প্রিয় নেতার জীবন প্রদীপটা! চারিদিকে শোকের ছায়া নেমে এলো। রাজনীতির অন্তপ্রাণ এই মানুষটি এতো দ্রুত পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করবেন, তা কিছুতেই মেনে নেয়া যায় না!

ঠিক কবে থেকে আবদুল ওয়াহাব আইন উদ্দিন কাকাকে চিনি মনে নেই। যদ্দূর মনে পড়ে ছোটবেলা থেকেই আব্বার মুখে আইন উদ্দিন কাকার নাম শুনে শুনেই বড় হয়েছি। আব্বা আর আইন উদ্দিন কাকা ছিলেন একে অপরের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা।

সময়টা ছিল ১/১১
আবদুল ওয়াহাব আইন উদ্দিন কাকার কাছে গিয়েছিলাম আমার ছোট ভাই এ্যামিলকে নিয়ে । বঙ্গবন্ধু কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে বৃত্তির জন্য স্হানীয় আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে উনার সুপারিশপত্র আনার জন্য। সে সময় দেশে চলছিল রাজনৈতিক নিকষ কালো অধ্যায়। সারাদেশে ধরপাকর চলছে। শীর্ষ নেতারা কারাগারে । স্হানীয় নেতারাও কেউ কেউ ছিলেন আত্মগোপনে। কিন্তু আবদুল ওয়াহাব আইন উদ্দিন কাকা সেদিন ও ছিলেন কটিয়াদির মাটিকে আঁকড়ে ধরে, প্রিয় নেতাকর্মীদের কাছাকাছি।

সেদিন তিনি আমাদের অনেক কথা বলেছিলেন। অনেক পরামর্শ ও দিয়েছিলেন। বলেছিলেন এখন দলের দুঃসময়। এই দুসঃময়ে তোমরা দুই ভাই -বোনই রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেও। এটা দলের জন্য ভালো। কিন্তু পরিবারের জন্য ভালো নাও হতে পারে। তারপরও তোমরা যেহেতু রাজনৈতিক পরিবারে জন্মেছো, দলের দুঃসময়ে রক্তের জানান দিবে এটাই স্বাভাবিক। সাবধানে থেকো। রাজনীতি করো আর যাই করো পড়ালেখাটা ঠিকমতো করো।

এই বলে তিনি একটু ইতস্তত বোধ করলেন…. বললেন তোমরা আমার সন্তান তুল্য। তোমরা সবই জানো, সবই বুঝ। তোমাদের কিছু খাওয়াবো বলে এতোক্ষণ গল্পের ছলে আটকে রাখলাম। কিন্তু আজ কেউই এখনো খাবার নিয়ে এলো না। বুঝছি তোমাদের কিসমতে নাস্তাপানি নাই। এই বলে সুপারিশ পত্রে সই করে আমাদের বিদায় দিতে চাইলেন। আমরা তখনো কিছুটা সময় বসে রইলাম। আরো কিছুটা সময় উনার কাছাকাছি থাকার জন্য। রাজনৈতিক গল্প শোনার জন্য। প্রিয় নেতার রাজনৈতিক জীবনের গল্প শোনার জন্য। যেমনটা আব্বার কাছে শুনি।

আবদুল ওয়াহাব আইন উদ্দিন কাকা সেদিন যেখানে থাকতেন সেখানে ছিল একচালা টিনের ঘর। আমার ধারণা বৃষ্টির দিনে পানি চুইয়ে চুইয়ে পড়তো। তখন পার্টির কাজকর্ম সেখান থেকেই পরিচালিত হতো এবং দিনশেষে প্রিয় নেতার সেখানেই ছিলো বাসস্থান।

আইন উদ্দিন কাকার রুমের একপাশে সেদিন দেখেছিলাম অনেকগুলো টিফিন ক্যারিয়ার। কাকা কে জিজ্ঞেস করলাম- “কাকা এতো টিফিন ক্যারিয়ার কেন”? তিনি বললেন – “নেতাদের বউ – মাইয়ারা মাঝে মাঝে ভালো ভালো রাইন্ধ্যা দেয়া পাঠায়, একেক দিন একসাথে তিন- চারটি টিফিন ক্যারিয়ার ও আসে। আবার কোনদিন একটাও আসে না। তোমার মা কেমন রাঁনধে তা তো আর কইতে পারি না, কারন কোনদিন ও খাওয়াই নাই। তোমাদের মা কিপ্টা। মাস শেষে বেতন তুইল্যা নিয়ে যাইগ্যা আমাদের সামনে দিয়্যা।” এ্যামিল তখন বললো, “আমার আম্মা বিলাতি ধনে পাতা দিয়া কাইক্যা মাছের ঝুল খুব ভালো রানতে পারে। এরপর আসলে নিয়ে আসবো নে কাকা।”

বিএনপি – জামায়াত জোটের দুঃশাসন ও ১/১১ দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রাম শেষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলো। কটিয়াদির রাজনৈতিক পরিমন্ডলে যখনই কোন সংকটের তৈরি হয় গুরু আবদুল ওয়াহাব আইন উদ্দিন কাকা নির্দেশ দিলেই সকল স্তরের নেতাকর্মীরা একত্রিত হয়ে কাজ করেন। অর্থাৎ তিনি দলের দুঃসময়ে কান্ডারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। কারন গুরু আবদুল ওয়াহাব আইন উদ্দিন কাকা ছিলেন একজন দক্ষ রাজনৈতিক সংগঠক। সুদীর্ঘ ৪০ বছর ধরে তিনি কটিয়াদি রাজনীতিতে অধিষ্ঠিত। ছাত্রজীবনে ছিলেন ছাত্রনেতা, তারপর হলেন টগবগে যুবনেতা। ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা এবং জনপ্রতিনিধি ও। রাজনৈতিক কর্মী তৈরী করার এবং দীর্ঘদিন নেতৃত্ব ধরে রাখার সুকারিগর ও ছিলেন তিনি।

ব্যক্তিগত ভাবে তিনি আমাকে খুবই স্নেহ করতেন। ভালবাসতেন। রাজনীতিটা ধরে রাখার পরামর্শ দিতেন। বলতেন, “তুমি ইডেন কলেজে রাজনীতি করেছো, যে কলেজে একসময় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন স্বয়ং আমাদের দলীয় প্রধান,নেত্রী শেখ হাসিনা, মতিয়া চৌধুরী । রাজনীতিতে একদিন তুমি ভালো করবা বলে আমার মনে হয়। লাইগ্যা থাকো। লাইগ্যা থাকলে একদিন কটিয়াদি – পাকুন্দিয়ার এমপি ও হতে পারবা। নারী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য বৈশ্বিক চাপ ও আছে। আর এই চাপ একসময় বাংলাদেশে ও পড়বে। কাজেই রাজনীতিতে লাইগ্যা থাইকো।”

২০১৫ সালের ৩০ শে ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছিল কটিয়াদি পৌরসভা নির্বাচন। আমি ঢাকা থেকে গিয়েছিলাম বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও কটিয়াদি পৌরসভার নির্বাচনী প্রচারণার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা জনাব আহমদ হোসেন ভাইয়ের সাথে কটিয়াদিতে। আইন উদ্দিন কাকা আমাকে দেখে একরকম রাগ করলেন। বললেন- “আরে বেডি, কটিয়াদির ছেরি তুমি, তোমাকে ঢাকার রাজনীতির পাশাপাশি এলাকার রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হউন লাগবো। এলাকার মানুষ চিনন লাগবো। একদিন বুঝবা কাকার কথা।” তিনি “স্হানীয় মহিলা মেম্বার ও মেয়েদের নিয়ে একটি টিম গঠন করে দিয়ে তাদের নিয়ে কটিয়াদি পৌরসভার প্রতিটি ঘরে ঘরে ভোট চাওয়ার নির্দেশ দিলেন।” আইন উদ্দিন কাকার নির্দেশ মতো আমি কটিয়াদি পৌরসভা নির্বাচনে ক্যাম্পেইন শুরু করলাম। ছিলাম টানা ১৭ দিন। ঘরে ঘরে ভোট চেয়েছি নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে। নৌকার জয়ের পাশাপাশি স্হানীয় নেতৃবৃন্দ এবং জনগণের অনেকেই সেসময় বলেছিলেন- যে হ্যাপি মাঠে ব্যাপক কাজ করেছে, গণসংযোগ করেছে, নারী ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আনতে। কটিয়াদি পৌরসভাতে আমার তখন যে পরিচিতিটা হয়েছিল, তার সম্পূর্ণ কৃতিত্ব ছিলো আবদুল ওয়াহাব আইন উদ্দিন কাকার।

যুবলীগ ছেড়ে যুব মহিলা লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়েছি ২০১৭ সালে। তখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ছিল নারী ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আনতে তৃণমূলের নারীদের রাজনীতিতে অন্তর্ভুক্ত করার। তার জন্য নারীদের সমন্বয়ে প্রতিটি ভোটকেন্দ্র ভিত্তিক কমিটি গঠন করতে হবে। বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগের সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক অপু উকিল দিদি বললেন “যাও,এলাকায় যাও। যার যার এলাকার গিয়ে স্হানীয় নেতাদের সহযোগিতা নিবে প্রথমে। কাজ করো। ঢাকার রাজনীতির পাশাপাশি এলাকায় কাজ করো।” তখন আমি আবার ও ছুটে গেলাম আবদুল ওয়াহাব আইন উদ্দিন কাকার কাছে। তিনি আমাকে একটি ডায়েরিতে সমস্ত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতাদের নাম, মোবাইল নাম্বার লিখে দিলেন। সবাইকে ফোন করে দিয়ে বললেন, “আপনারা হ্যাপিকে কমিটি গঠনের কাজে সহযোগিতা করেন। আর হ্যাপি কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের নির্দেশে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারী ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে নিয়ে এসে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে কাজটি করছে। আমি সহযোগিতা করছি। আপনারাও দলের কাজে সহযোগিতা করেন।” সত্যিই প্রিয় নেতার সেদিনের সে সহযোগিতার কথা ভুলবার মতো নয়। এবং কমিটি কমিটি করে দৌড়াদৌড়ি করায় এলাকায় আমার পরিচিতি আরো কিছুটা বাড়লো। এবার পৌরসভার বাইরে মানে ধূলদিয়া থেকে লোহাজুরী, মসূয়া থেকে করগাঁ সমস্ত এলাকার নেতাদের কাছে তিনি আমাকে পরিচিত করিয়ে দিয়েছেন। স্হানীয় রাজনীতিতে তিনি আমার অভিভাবক। এবং সত্যিই অভিভাবকের সুচারু কাজটি তিনি অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথেই করেছিলেন।

২০১৮ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার ৭২ তম জন্মদিন উপলক্ষে আমি সামান্য কিছু কুরআন মাজীদ বিতরণ করে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছিলাম বনগ্রাম আনন্দ কিশোর উচ্চ বিদ্যালয়ে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে মিলাদ মাহফিল সুন্দরভাবে সম্পন্ন হওয়ার জন্য তিনি সমস্ত ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতাদের দাওয়াত দিতে পরামর্শ দিয়েছিলেন। উনারা ও আসলেন। এবং তিনি সেদিন প্রধান অতিথি হিসেবে থেকে প্রোগ্রামটি সফলভাবে সম্পন্ন করে দিয়েছিলেন। কটিয়াদির বাইরে সাধারণত খুব কমই সব নেতাদের নিয়ে এমন প্রোগ্রাম আয়োজন হয়। তিনি সেদিন আমার খুব প্রশংসা করে বলেছিলেন , “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে আল কুরআন মাজীদ বিতরণ উনার দেখা প্রথম আয়োজন।” এবং আরো বলেছিলেন – “কটিয়াদিতে নারীদের রাজনীতির মাঠে উৎসাহিত করতে তানিয়া সুলতানা হ্যাপিই প্রথম নারী যে ছুটে চলছে বনগ্রাম থেকে মুুমুরদিয়া, মসূয়া থেকে চান্দপুরের প্রতিটি গ্রামে গ্রামে ।

এছাড়াও কাকার সাথে প্রায়ই কথা হতো, প্রয়োজনে অপ্রয়োজনেই কথা হতো। বাড়িতে গেলে সবসময়ই কাকার সাথে দেখা করতে চেষ্টা করতাম। দেখা হলে তিনি বলতেন, “রাজনীতি করার সবচেয়ে বড় যোগ্যতা হলো ধৈর্য্য ধরে লেগে থাকা। বুকে বিশ্বাস রাখা। দলীয় আনুগত্য থাকা।”

উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আমি যখন প্রার্থী হবো সিদ্ধান্ত নিলাম সেদিন ও আইন উদ্দিন কাকার মাঝে রাজনীতিতে অপেক্ষাকৃত নবীন হলে উৎসাহ পেয়েছি । এবং আমি যখন উনাকে সরাসরি বললাম, “কাকা আমি উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে চাই।” তিনি সাথে সাথেই বললেন, “অবশ্যই প্রার্থী হবা। ভবিষ্যতে তো তোমরাই রাজনীতি করবা। আমরা আর কয় দিন!”

তিনি দলীয় আদর্শের প্রতি আনুগত্যের যে শিক্ষা আমাকে দিয়েছিলেন তার প্রতিফলন দেখেছি, “কাকার মাঝে বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের সময়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা আপা যখন সব প্রার্থী থেকে বেছে নিয়ে আমাকে দলীয় মনোনয়ন দিলেন, তখন ও কাকা দলীয় প্রধানের সিদ্ধান্তের বাইরে বিরুদ্ধাচারণ করেননি। যদি ও সেদিন অনেক প্রবীণ নেতা ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্য দলীয় আদর্শচ্যূত হয়েছিল।” আমার মনে হয়েছিলো “ব্যক্তিগত লোভ লালসা পরিত্যাগ করে আইন উদ্দিন কাকা সেদিনই দলের স্বার্থে সবচেয়ে বড় আত্মত্যাগ করেছিলেন।” এবং তখন ও তিনি আমাকে তথা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার প্রার্থীকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে ছুটে চলেছিলেন বনগ্রাম থেকে জালালপুর,কটিয়াদি থেকে চান্দপুর।

ঠিক এভাবেই তিনি দলের প্রতি ছিলেন একনিষ্ঠ, ত্যাগী এবং ধৈর্য্য ধরে লেগে থাকা মানুষ। ছিলেন ভদ্র, নম্র ও মার্জিত রুচির সুকুমার মনের একজন মানুষ। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সম্পর্কে ও কখনো আক্রমণাত্নক ও অশালীন মন্তব্য করতেন না। যে কারনে দলমত নির্বিশেষে সবাই আবদুল ওয়াহাব আইন উদ্দিন কাকাকে পছন্দ করতেন। তিনি তাঁর নিজ কর্মগুনেই কটিয়াদির আপামর জনসাধারণের আপনজন হয়ে উঠেছিলেন।

আইন উদ্দিন কাকা কটিয়াদিবাসীর কতটা আপনজন ছিলেন তারই প্রতিচ্ছবি দেখতে পেলাম উনার জানাজার নামাযে। কটিয়াদির স্মরণ কালের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি মানুষ হয়েছে গুরু আইন উদ্দিন কাকার জানাজার নামাজে। রাজনৈতিক চারণ কবি খ্যাত এই কিংবদন্তী মানুষটির মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন স্বয়ং দেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমপি এবং দলমত নির্বিশেষে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ।

প্রিয় আইন উদ্দিন কাকা আজ আপনি আমাদের মাঝে নেই। ক্লিন ইমেজ নিয়ে আপনি পৃথিবী থেকে চির বিদায় নিয়েছেন। প্লিজ কাকা! আপনি যদি একবার চোখ মেলে দেখতেন আপনার মৃত্যুসংবাদের সঙ্গে সঙ্গে আপনার বর্নাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের কথা চারিদিকে কতটা সুগন্ধির মতো ছড়িয়ে পড়েছে।

ইতিহাস ঘেঁটে জেনেছি কিংবদন্তির মৃত্যু নেই। প্রিয় নেতা আপনার মৃত্যুর মাধ্যমে আমি আবারো দেখেছি সত্যি কিংবদন্তির মৃত্যু নেই। হে প্রিয় নেতা! হে প্রিয় অভিভাবক! কে বলে আপনার ঘরবাড়ি নেই! আপনি নিঃসন্তান! কটিয়াদির প্রতিটি ঘর, আপনার ঘর। আওয়ামী রাজনীতির প্রতিটি আদর্শিক কর্মী, আপনার সন্তান। তারা আপনার জন্য কাঁদছে। আপনার জন্য দু’হাত তুলে দোয়া করছে। আপনার আত্মার শান্তি কামনা করছে।

কথা ছিল “মুজিববর্ষে আমরাই মুজিব” এবং “বঙ্গবন্ধুর গল্প বলি” শিরোনামে স্কুলভিত্তিক প্রোগ্রামটি বৈশ্বিক করোনা মহামারির ছুটি শেষে স্কুল খুললেই আপনি উদ্বোধন করে দিবেন। আমাকে কটিয়াদি – পাকুন্দিয়ার মাঠ চষে বেড়ানোর দিকনির্দেশনা দিবেন কিন্তু তা আর হলো না কাকা !

তবুও কায়মনোবাক্যে দোয়া করি
আপনি ভালো থাকুন ওপারেতে,
হে প্রিয় নেতা!