কিশোরগঞ্জে প্রেম, বিয়ে, নির্যাতন অতঃপর মৃত্যু

4 weeks ago
4:29 pm
3075
দেশজুড়ে ঢাকা কিশোরগঞ্জে প্রেম, বিয়ে, নির্যাতন অতঃপর মৃত্যু

প্রেম মধুর পাশাপাশি বিষও বটে। রোমা আক্তারের (২৪) জীবনেও তার ব্যতয় ঘটেনি। কিশোরগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজে পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক অধ্যায়নকালীন সময়ে টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলার বাইচাইল গ্রামের আব্দুল মজিদের পুত্র কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের কারারক্ষি (নং- ৫১৮৯) মোঃ খাইরুল ইসলামের সাথে মোবাইল ফোনে পরিচয় হয়। সেই পরিচয় থেকেই প্রেম অতঃপর বিয়ে। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই খাইরুল ইসলামের পরিবার থেকে যৌতুকের দাবীতে চাপ সৃষ্টি করত। স্বামী খাইরুল ইসলামের দ্বারাও নির্যাতনের শিকার হত। সেই নির্যাতনের কারণে গত মঙ্গলবার (২৯ ডিসেম্বর) অবশেষে জীবন হারালো কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলার মানিকখালী পূর্ব মন্ডলভোগ গ্রামের আব্দুল মান্নানের কন্যা রোমা।

রোমা আক্তারের পরিবারের অভিযোগ, কিছুদিন আগে মা ছিনু বেগমকে রাতে ফোন দিয়ে রোমা আক্তার বলেন, তুমি বাসায় আস আমাকে হাসপাতাল নিয়ে যেতে হবে। আমাকে মেরেছে। তারপর ছিনু বেগম কিশোরগঞ্জ এসে রোমাকে প্রথমে সদর হাসপাতাল পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি এবং অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি তারপর শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পথে মারা যায়। আমরা জানতে পারি বিভিন্নভাবে রোমাকে যৌতুকের দাবীতে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করত। খাইরুলকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারও দেয়া হয়েছে।

পুলিশ সুত্র জানায়, কারারক্ষি খাইরুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কটিয়াদী বাট্টা তদন্ত কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরে কটিয়াদী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

মা ছিনু বেগম জানান, প্রেম করে আমার মেয়ে বিয়ে করে। বিয়ে করার সময় খাইরুল সরকারি চাকরী করত তা জানায়নি। খাইরুল বলেছিল সে ব্যবসায়ী। পরে জানতে পারি সে কারারক্ষি। আমার মেয়ের স্বামী খাইরুল এবং তার পরিবারের চাপে আমরা নগদ ৩ লাখ টাকা এবং সাড়ে ৩ ভরি স্বর্ণ দিয়েছিলাম। আমার মেয়েকে এভাবে নির্যাতন করবে তা আমাদের জানা ছিল না। আমার মেয়ে নির্যাতনের কারণেই মারা গেছে।

কিশোরগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবু বকর সিদ্দিক জানান, অভিযোগের প্রেক্ষিতে মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে।

কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার বজলুর রশিদ জানান, খাইরুল ইসলাম অসুস্থ্যতার জন্য চিকিৎসাজনিত কারণে ছুটিতে আছে। এ ব্যাপারে আমরা শুনেছি যদি আমাদের কাছে কোনো মামলার কাগজ আসে তখন আমরা এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।