পূজাই সম্বল প্রতিমা শিল্পীদের আর্থিক দৈনদশা থেকে মুক্তির

3 weeks ago
7:23 pm
39
অন্যান্য বিশেষ প্রতিবেদন পূজাই সম্বল প্রতিমা শিল্পীদের আর্থিক দৈনদশা থেকে মুক্তির

আসছে মঙ্গলবার স্বরসতী পূজা উদযাপন করবেন হিন্দু ধর্মালম্বীরা। আর এই পূজার জন্য প্রতিমা তৈরিকে ঘিরে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন কিশোরগঞ্জের প্রতিমা শিল্পীরা। তবে পৃষ্ঠপোষকতার অভাবসহ নানা সংকটে এখানকার প্রতিমা শিল্পীদের চরম দুর্দিন চলছে। পূজা ছাড়া প্রতিমা তৈরির কাজ হয়না বললেই চলে। পূজাই একমাত্র সম্বল তাদের অর্থনৈতিক দৈনদশা থেকে মুক্তি পাবার।

বেশ কয়েকজন প্রতিমা শিল্পীর সাথে কথা বলে জানা যায়, আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি সনাতন ধর্মালম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব স্বরসতী পূজা। চাহিদা অনুযায়ী এখন প্রতিমা তৈরি করছেন প্রতিমা শিল্পীরা। এছাড়াও দুর্গাপূজা, কালীপূজা, লক্ষী পূজাতেও তাদের ব্যস্ততা থাকে। তবে পূজাকেন্দ্রীক এই সময়গুলো ছাড়া বছরের বাকি সময়গুলোতে তাদের কোন কাজ থাকে না। ফলে ওই সময়টাতে তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে কষ্টে দিনাতিপাত করতে হয়।

সরেজমিন কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের সতাল, বত্রিশ এবং কটিয়াদী উপজেলার গচিহাটা ধূলদিয়া এলাকায় গিয়ে জানা যায়, এসব এলাকায় এক সময় অসংখ্য প্রতিমা শিল্পীর বাসস্থান ছিল। এসব এলাকায় ঘুরতে আসা মানুষ প্রতিমা শিল্প দেখে পুলকিত হতেন। কিন্তু জীবিকার তাগিদে অনেকেই পেশা বদল করে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন। ফলে সেই সুদিন আর নেই প্রতিমা শিল্পের।

কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের সতাল এলাকার ভজন পাল, বত্রিশ এলাকার গনেশ পাল এবং কটিয়াদী উপজেলার গচিহাটা ধূলদিয়া গ্রামের প্রতিমা শিল্পী নারায়ণ পাল জানান, শুধুমাত্র পূজার সময়গুলোতে আমরা কাজ করি আর বছরের বাকি সময় বসে থাকতে হয়। এছাড়া অনেক নদী ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে প্রয়োজনীয় মাটি পাওয়া যায় না। মাটির অভাব ছাড়াও প্রতিমা গড়ার জন্য অন্যান্য জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি, মূলধনের অভাবে কারণে তারা লাভের মুখ দেখতে পারেন না। এছাড়া এক্ষেত্রে কোন পৃষ্ঠপোষকতাও নেই। তাই দিন দিন বাপ-দাদার এই পেশা পরিবর্তন করে অনেকেই অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন।

কিশোরগঞ্জ শহরের কালীবাড়ী মন্দিরের সাবেক সহ-সম্পাদক সত্যজিত সরকার অপু বলেন, আমরা সনাতন ধর্মালম্বীরা স্বরসতী মা’র আরাধনা করি। মা আমাদের আরাধনায় তুষ্ট হলে আমাদের জীবনে জ্ঞান দান করেন। প্রতি বছর আমাদের ধমর্ীয় উৎসবগুলোর সময় প্রতিমা শিল্পীরা মন্দিরের জায়গা ভাড়া নিয়ে প্রতিমা তৈরি এবং তা বিক্রি করেন। এবছরও তারা প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

কিশোরগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট ভূপেন্দ্র ভৌমিক দোলন বলেন, প্রতিমা শিল্প একটি ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন শিল্প। এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন। প্রতিমা শিল্পীদের মূলধনের ঘাটতিসহ নানা সংকট থাকার কারণে অনেকেই এ শিল্প হতে নিজেদেরকে গুটিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছে। সারা বছর যেন তারা কাজটা করতে পারে সেজন্য সরকারের সহযোগিতা দরকার। আধুনিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রতিমা শিল্পীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে বিদেশে এ শিল্পের বাজার সৃষ্টি করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন অ্যাডভোকেট ভূপেন্দ্র ভৌমিক দোলন।