কটিয়াদীতে ৫’শ শিক্ষকের চাকুরি স্থায়ীকরণ ঝুঁলছে; গ্রেডেশনে জটিলতা

2 weeks ago
11:40 pm
67
অন্যান্য বিশেষ প্রতিবেদন কটিয়াদীতে ৫’শ শিক্ষকের চাকুরি স্থায়ীকরণ ঝুঁলছে; গ্রেডেশনে জটিলতা

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার ১২০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ প্রাপ্ত ৫ শতাধিক শিক্ষকের চাকুরি স্থায়ীকরণ ঝুলে আছে। স্থায়ীকরণ না হওয়ায় গ্রেডেশন তালিকা তৈরির জন্য তথ্য ফরম পূরণে শিক্ষকদের মাঝে জটিলতা দেখা দিয়েছে। গ্রেডেশনের তালিকার জন্য তথ্য প্রদানের শেষ তারিখ ছিল ১৭ ফেব্রুয়ারি বুধবার।

  • স্থায়ীকরণ নিয়ে হতাশ শিক্ষকরা

  • প্রধান অফিস সহকারির অনৈতিক প্রস্তাবে অতিষ্ঠ শিক্ষক সমাজ

  • অফিসের বিরুদ্ধে মুখ খুললেই শোকজ

জানা গেছে, ২০২০ সনের ১০ নভেম্বর তারিখে কটিয়াদী উপজেলার ১২০টি প্রতিষ্ঠানের ৬৬৫ জন শিক্ষকের চাকুরী স্থায়ীকরণের জন্য যাবতীয় তথ্য জেলা শিক্ষা অফিসে জমা দেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। আবেদন জমার পর এ পর্যন্ত দায়িত্বে থাকা প্রধান শিক্ষক ও কিছু সংখ্যক সহকারী শিক্ষকের চাকুরী স্থায়ীকরণ হয়। আর বাকিদের স্থায়ীকরণ না হওয়ায় অধিসংখ্যক শিক্ষকদের মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে গত ৩০ নভেম্বর ২০২০ তারিখে ১৭৩৭/৩১৫ নং স্মারকে শতাধিক শিক্ষকের চাকুরী স্থায়ীকরণ হয়েছে জেলা শিক্ষা অফিস জানায়।

সূত্র জানায়, এই উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে তথ্য প্রদানের ছকে ১১ নং এ চাকুরী স্থায়ীকরণের তারিখ লিখতে হয়। সেখানে ১২০ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ শতাধিক সহকারী শিক্ষকের চাকুরী স্থায়ীকরণের আদেশ না পাওয়ায় শিক্ষকগণ তথ্য ছকটি পূরণ করতে পারছেন না। কোন কোন শিক্ষক তথ্য ছকের ১১ নং এ উল্লেখিত চাকুরী স্থায়ীকরণের তারিখের স্থানটি ফাঁকা রাখছেন। আবার কেউ কেউ চাকুরীতে যোগদানের তারিখটিই লিখে দিয়েছেন। যার কোন নিশ্চয়তা নেই। এ নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে কর্মরত সহকারী শিক্ষকগণ হতাশায় ভুগছেন।

এদিকে কটিয়াদী উপজেলার পাশ্ববর্তী কুলিয়ারচর ও পাকুন্দিয়া উপজেলাসহ ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম উপজেলার সকল শিক্ষকদের চাকুরী স্থায়ীকরণ হয়ে গেলেও কটিয়াদীতে না হওয়ায় সর্বমহলে ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে।

অপরদিকে চাকুরী স্থায়ী করণের নামে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের প্রধান সহকারী আব্দুল হক শিক্ষকদের নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও তিনি উৎকোচ গ্রহনের বিষয়টি নাকচ করেছেন।

এ বিষয়ে কটিয়াদী উপজেলা শিক্ষা অফিসার সৈয়দ হোসেন জানান ‘২০২০ সনের ১০ নভেম্বর তারিখে আমি উপজেলার ১২০টি প্রতিষ্ঠানের ৬৬৫ জন শিক্ষকের চাকুরী স্থায়ীকরণের জন্য যাবতীয় তথ্য জেলা শিক্ষা অফিসে জমা প্রদান করেছি। এ পর্যন্ত উপজেলার বিদ্যালয় সমূহের প্রধান শিক্ষক ও চলতি দায়িত্বে থাকা প্রধান শিক্ষক ও কিছু সংখ্যক সহকারী শিক্ষকের চাকুরী স্থায়ীকরণ হয়েছে। অন্যদের চাকুরী স্থায়ীকরণ না হওয়ার কারণ আমার জানা নেই।’

কিশোরগঞ্জ জেলা শিক্ষা অফিসার সুব্রত কুমার বণিক জানান, ‘কটিয়াদী উপজেলা হতে শিক্ষকদের চাকুরী স্থায়ীকরণের প্রাপ্ত আবেদন হতে গত ৩০ নভেম্বর ২০২০ তারিখে আমি ১৭৩৭/৩১৫ নং স্মারকে শতাধিক শিক্ষকের চাকুরী স্থায়ীকরণ হয়েছে। আমার নাম ব্যবহার করে শিক্ষকদের নিকট হতে কেউ টাকা হাতিয়ে নিলে তদন্ত পূর্বক তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’