কটিয়াদীতে কর্মক্ষেত্রে মজুরি বৈষম্যের শিকার ৬০ শতাংশ নারী

2 months ago
11:45 am
114
অন্যান্য বিশেষ প্রতিবেদন কটিয়াদীতে কর্মক্ষেত্রে মজুরি বৈষম্যের শিকার ৬০ শতাংশ নারী

রেখা আক্তার (৩৬)। দীর্ঘ ১ যুগ ধরে ইটভাটায় কাজ করছেন। তিনি কটিয়াদী পৌরসভার চড়িয়াকোনার বাসিন্দা। পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে ইটভাটায় নারী শ্রমিক হিসেবে কাজে যোগদেন তিনি। দৈনিক ১০ থেকে ১১ ঘন্টা পরিশ্রম করে মজুরি পান মাত্র ২’শ থেকে আড়াই’শ টাকা। তা দিয়েই কোন রকম চলে তাদের সংসার। অথচ রেখার সাথেই কাজ করা আরেকজন পুরুষ দৈনিক ৭ ঘন্টা শ্রম দিয়ে মজুরি পান ৭-৮’শ টাকা। পরিশ্রমও করেন পুরুষের সমান সমান। কিন্তু, দিনশেষে রেখা আক্তারের মতো নারী শ্রমিকরা কোনো কোনো ক্ষেত্রে শ্রমের অর্ধের মজুরি পাচ্ছেন। তাতে বুঝা যায়, স্বাধীনতার ৫০ বছরেও মজুরি বৈষম্যে থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি নারী শ্রমিকরা।

  • ৬০ শতাংশ নারী শ্রমিক মজুরি বৈষম্যের শিকার

  • স্বাধীনতার ৫০ বছরেও মুক্তি মেলেনি

  • কোনো কোনো ক্ষেত্রে মজুরির অর্ধেক বেতন পাচ্ছেন নারী শ্রমিকরা

জানা গেছে, এ উপজেলায় প্রান্তিক নারী শ্রমিকদের মজুরি বৈষম্যে এখনো দূর হয়নি। কর্মক্ষেত্রে ৬০ শতাংশ নারী শ্রমিক মজুরি বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। পুরুষের পাশাপাশি নারী শ্রমিকরা মাটি কাটা, ইট ভাঙ্গা, কৃষি কাজ, অবকাঠামো তৈরিতে সহায়তাসহ অনেক কঠিন কাজ করছেন। এসব নারীরা কাজে সমপরিমাণ শ্রম দিলেও মজুরীর ক্ষেত্রে তারা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে দাবি সংশ্লিষ্টেদের।

নারী শ্রমিকরা বলছেন, কর্মক্ষেত্রে প্রতিদিন একজন পুরুষ যে পরিমাণ শ্রম দিয়ে কাজ করেন। তেমনি একজন নারী শ্রমিকও সে পরিমাণ শ্রম দিয়ে কাজ করছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একজন পুরুষের চেয়ে নারী শ্রমিকরা বেশিই শ্রম দিয়ে থাকেন। অথচ মজুরির বেলায় নারী শ্রমিকরা পুরুষের চেয়ে অর্ধেক মজুরি পান। শুধু তাই নয়, কখনো কখনো মানসিক হেনস্তার পাশাপাশি শারীরিক হেনস্তারও শিকার হচ্ছেন নারী শ্রমিকরা।

নারী শ্রমিক রেখা আক্তার জানান, ‘সকাল ৭টায় কাজে আসি। সন্ধ্যা ৬টায় বাড়িতে যাই। এই ১১ ঘন্টা কাজ করে মাত্র মজুরি পাই আড়াই’শ টাকা। আর একজন পুরুষ সমান পরিশ্রম করে মজুনি পান ৭’শ থেকে ৮’শ টাকা। কেন? জানতে চান তিনি…

আরেকজন নারী শ্রমিক হুসনা জানান, ‘প্রতিদিন যে পরিমাণ পরিশ্রম করা হয় সে পরিমাণ মজুরি আমাদের দেয়া হয় না। মাত্র ১৪০ টাকা বেতনে কাজ করে আমাদের লাভ হয় না।’

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আছমা আক্তার বলেন, ‘জনসংখ্যার অর্ধেক নারীকে উন্নয়নের মূলধারার পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে সম্পৃত্ত করতে হবে। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে এমন ধারণা পোষন করলেই সমাজ থেকে নারীর প্রতি বৈষম্যে দূর করা সম্ভব হবে।’