কটিয়াদীতে স্বাধীনতার ৫০ বছরেও অরক্ষিত বধ্যভূমি ; মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষোভ

1 month ago
7:06 pm
80
অন্যান্য বিশেষ প্রতিবেদন কটিয়াদীতে স্বাধীনতার ৫০ বছরেও অরক্ষিত বধ্যভূমি ; মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষোভ

স্বাধীনতার ৫০ বছরেও অরক্ষিত রয়ে গেছে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার বেশ কয়েকটি বধ্যভূমি। এসব বধ্যভূমি সংরণের অভাবে অযত্নে-অবহেলায় পড়ে আছে। বছরের পর বছর বধ্যভূমি গুলো পরে থাকলেও খোঁজ রাখে না কেউ। ফলে শহীদ পরিবারের লোকজনের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

  • স্বাধীনতার মাস এলেই তদারকি বাড়ে প্রশাসনের

  • রক্ষণা-বেক্ষণে উদ্যোগ নেই

  • মুক্তিযোদ্ধারের ক্ষোভ

জানা গেছে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা কটিয়াদীরের স্বাধীনতাকামী ও হিন্দু ধর্মের লোক জনদের ধরে নিয়ে হত্যা করে ওই স্থানে ফেলা হতো। তারপর থেকেই স্থানগুলো বধ্যভূমি হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। এ উপজেলায় ২টি নাম মাত্র বধ্যভূমির স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে। এগুলো প্রত্যেকটি অযত্নে-অবহেলায় রয়েছে। তাদের দেখভালে প্রশাসনের কোন তদারকি নেই। অথচ বছরের পর বছর সরকারের কোটি কোটি টাকা বিভিন্ন খাতে ব্যয় হচ্ছে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কটিয়াদী পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন (আঁড়িয়াল খাঁ নদীর পাড়) পাশের বধ্যভূমিতে শুধুমাত্র নামফলক লাগানো হয়েছে। ফলকে ৭ জন শহীদের মো. আছির উদ্দিন, আবদুল মতালিব, আ. খালেক আফাজ উদ্দিন, মধু মিয়া, লাল মিয়া ও লাল মিয়া শহীদের নাম উল্লেখ থাকলেও কটিয়াদীতে আরো অনেক লোক জনকে হত্যা করেছিল পাকসেনারা। বর্তমানে বধ্যভূমিটিতে মাটি ভরাট করে বানানো হয়েছে খেলার মাঠ। বধ্যভূমি স্মৃতি ফলকের দেয়াল ব্যবহৃত হচ্ছে ব্যবসায়ীদের নির্মাণ সামগ্রী রাখার জন্য। ফলকটির আশে-পাশে ময়লার বাগাড়ে পরিনত হয়েছে।

অপরদিকে উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের কাঁঠালতলি গ্রামে একটি বধ্যভুমি রয়েছে। গ্রামবাসির উদ্যোগে বধ্যভূমিতে একটি স্মৃতি ফলক নির্মাণ করা হয়েছে। ফলকে ১৫ জন শহীদের নামের তালিকা রয়েছে। শহীদগণ হচ্ছেন, শ্রী যতীন্দ্র বণিক, মো. ইছব আলী, মো. আশ্রাব আলী, মো. নিদু মিয়া, মো. আব্দুল হাশিম, শ্রী দিপালী দত্ত, শ্রী ননী দাস, মো. ইন্নছ আলী, শ্রী মাখন চন্দ্র সরকার, শ্রী কৃষ্ণ চন্দ্র বণিক, শ্রী নিরুধ চন্দ্র সরকার, শ্রী রঞ্জিত চন্দ্র সরকার, শ্রী অজিত চন্দ্র সরকার, মো. আব্দুল রশিদ ও মো. টকু মিয়া। সেখানেও নেই কোন তদারকি। ফলে অরক্ষিতই থেকে যাচ্ছে বধ্যভূমি গুলো। সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে খোঁজ নেওয়ার দাবি শহীদ পরিবারের লোকজন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রাণ পুরুষ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেফতার হয়ে যখন পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী, তখন মুক্তিযুদ্ধকে এগিয়ে নিতে কিশোরগঞ্জের কৃতী পুরুষ অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলামের বিচণ ভূমিকা এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। এ উপজেলায় মহান মুক্তিযুদ্ধে যেমন দীর্ঘ হয়েছে বীর শহীদদের তালিকা তেমনি রয়েছে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর সেনানী যোদ্ধাদের দুঃসাহসিক অভিযান।

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের পাক-হানাদারের হাতে শহীদ মো. আব্দুল হাশিমের বড় মেয়ে আম্বিয়া আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার বাবাকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে পাক-হানাদার গুলি করে হত্যা করে। মা ও আমরা দুই বোন সরকারী ভাবে কোন সহযোগীতা পাইনি। জাতীয় দিবস আসলেই স্মরণ হয় বধ্যভূমির কথা!

স্থানীয় বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. শফিকুল হক বলেন, ‘কটিয়াদী পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন ও উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের কাঁঠালতলি গ্রামে বধ্যভুমির সরকারি ভাবে কোন রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় না। অযত্ন-অবহেলায় সেটি ব্যবসায়ীদের নির্মাণ সামগ্রী ও ময়লার বাগাড়ে পরিণত হয়েছে। উপজেলার বধ্যভূমির এখনো সংরক্ষণ করা হয়নি।’

কটিয়াদী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মো. ইসরাঈল মিয়া জানান, ‘কটিয়াদী উপজেলায় ২টি বধ্যভুমি রয়েছে। তাতে সরকারি ভাবে কোন রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় না । বধ্যভুমি নামে মাত্র, এখানে ময়লার বাগার  ও খেলার মাঠ হিসাবে ব্যবহৃত হয়।’

কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. আকতারুন নেছা জানান, ‘বর্তমান সরকার মুক্তিযুদ্ধ সংশ্লিষ্ট সব বিষয়ে আন্তরিক ও সহানুভুতিশীল। কটিয়াদী উপজেলায় দুইটি বধ্যভূমির সংস্কারের জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। দ্রুত সেগুলোর কাজ শুরু হবে বলে জানান তিনি।’