বজ্রকন্ঠ

1 year ago
2:17 pm
93
সাহিত্য বজ্রকন্ঠ

ঘুমন্ত রাজধানী, নির্বোধ হায়েনারা,
ঝাঁপিয়ে পড়ে রাতের অন্ধকারে,
কামানের গোলা, মর্টারের শেল,
মেশিন গানের আওয়াজ,
মহাপ্রলয়ের তান্ডব,
মৃত্যুর বিভীষিকা চারিদিকে।
হাজার নিরীহ নর নারীর রক্তে
রঞ্জিত ঢাকার রাজপথ।
আঁধারের বুক চিরে,
থেকে থেকে আগুনের ঝলকা
ধাঁধিয়ে দিল নিদ্রিত মানুষের
তন্দ্রালু দৃষ্টি।
বাতাস ভারী হলো, ভয়ার্ত মানুষের
গগনবিদারী আর্ত চিৎকারে।
মানুষের মুজিব হলো বন্দী,
বার শত মাইল দূরে
পিন্ডি কারাগারে।
নারকীয় পৈশাচিক নির্মমতা,
কি অভিপ্রায়?
শুদ্ধ করিবে বাংলার আকাশ মাটি
চিরতরে? কিন্তুু তা কি হয়?
এক মুজিব, এক বাংলা
এক সূত্রে গাঁথা।
কোন শক্তি নিস্তব্ধ করে
সে মৃত্যু হীন প্রানে?
তাঁকে বন্দি করা যায়,
ঝুলানো যায় ফাঁসির রজ্জুতে,
কিন্তুু সে বজ্রকন্ঠ?
“এবারের সংগ্রাম, মুক্তির সংগ্রাম,
এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।”
কোন বন্দীশালা লৌহকারাগারে
পারে আবদ্ধ করিতে?
নির্যাতিত নিপীড়িত মানুষের প্রতিভু
বন্দি মুজিব শান্ত অবিচল।
নির্বোধ হায়েনাদের আসেনি বোধে,
সে বজ্রকন্ঠ কতো দুর্নীবার।
যে কন্ঠ আকাশ ছুয়েছে,
তা কোন শক্তি পারে স্তব্ধ করিতে।
দীপ্ত কন্ঠের বজ্র আওয়াজ,
“এবারের সংগ্রাম, মুক্তির সংগ্রাম,
এবারের সংগ্রাম, সাধীনতার সংগ্রাম।”
ধ্বনিছে আকাশে, বাতাসে,
জনে জনে, মুখে মুখে, বুকে বুকে
পথে পথে, গানে গানে সুরে সুরে,
পাহাড় নদী জলে স্থলে,
লক্ষ কন্ঠ, লক্ষ মুজিব হয়ে।
তা কে পারে রুধিতে?
শান্তি প্রিয় বাঙ্গালী, সেদিন ছিলো না
কোন অস্ত্র ওদের হাতে।
নয়মাস তবু করিল যুদ্ধ বিপুল বিক্রমে
আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত পরাক্রান্ত পাক হায়েনার সম্মুখ সমরে।
বজ্রকন্ঠের সে অমোঘ বানী,
“রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেব,
এ দেশকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ ” এ মহামন্ত্র অমিত
শক্তির মহা অস্ত্রাগার।
লক্ষ্য ভেদি অপ্রতিরোধ্য বুলেট,
চেতনার বহ্নিশিখা, অব্যার্থ মৃত্যুবান।
এ মন্ত্র বক্ষে ধারণ করি,
সাতকোটি বাংগালী হলো মুক্তি পাগল দূর্বার সৈনিক, কামার কুমার জেলে তাঁতী, লেখক কবি, বুদ্ধিজীবি,
নারী পুরুষ, কর্মজীবি
শামিল হলো রনাঙ্গনে
অকাতরে জীবন দানের মহোৎসব।
বর্বর, ভীরু, কাপুরষ, পাক-হানাদার
কোথাও পেল না আশ্রয় –
তিষটিতে না পেরে
লুটিয়ে দেয় হাতের অস্ত্র,
বিজয়ী বীর, মুক্তি সেনার পদতলে।
দলে দলে করে আত্মসমর্পণ,
মাথা নিচু করে।
থোকথোক রক্ত আর শোকের
সাগর পেরিয়ে, ঊষার আকাশে
উদিত হলো লাল সূর্য,
আমার সাধীনতা,
আমার অহংকার।
ফিরে এলো ওরা মৃত্যুঞ্জয়ী হয়ে,
লেখা হলো চির গৌরব গাঁথা,
ব্রজকন্ঠের মহামন্ত্র বলে।

লিখেছেন:  মোঃ সামছুল আলম