কোভিড ও খরতাপ

কিশোরগঞ্জে রেণুপোনা উৎপাদনে কোটি টাকা ক্ষতির আশংকা

3 weeks ago
2:32 pm
153
অন্যান্য বিশেষ প্রতিবেদন কিশোরগঞ্জে রেণুপোনা উৎপাদনে কোটি টাকা ক্ষতির আশংকা

কোভিড-১৯-এর ঊর্ধ্বগতি ও বৈরী প্রকৃতির কারণে বড় ধরনের ক্ষতির আশংকা করছেন কিশোরগঞ্জের হ্যাচারি স্বত্বাধিকারীরা। গরম আবহাওয়ার সঙ্গে করোনার দ্বিতীয় দফা আঘাত অশুভ বার্তা এনেছে যেন এ অঞ্চলের হ্যাচারি ব্যবসায়। একইসঙ্গে রেণুপোনা বা চারা মাছ বিক্রিতে ধস নামায় এ বছর শোচনীয় পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছেন এই ব্যবসায় জড়িতরা।

গত বছর মার্চে পোনা উৎপাদনের ভরা মৌসুমে বৈশ্বিক করোনা পরিস্থিতির কারণে প্রচন্ড ক্ষতিতে পড়েন এ অঞ্চলের মাছচাষিরা। টানা প্রায় ছয় মাস করোনার ভয়াবহতার কারণে মাছ উৎপাদন ও বিক্রি কার্যত থমকে যায় হ্যাচারিগুলো। বেকার হয়ে পড়েন হাজার মাছচাষি। বন্ধ হয় যায় অনেক ব্যবসা। এরপর করোনা পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলে হ্যাচারি মালিক ও মাছ চাষিরা আবার পুরোদমে মাছ চাষ শুরু করেন।

কিন্তু চলতি বছর করোনার প্রাদুর্ভাব ও তীব্র খরতাপের কারণে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা। চলতি সপ্তাহজুড়ে কিশোরগঞ্জ অঞ্চলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা মোটামুটি ৩৪ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে উঠানামা করছে। দুপুরের দিকে ৩৬ থেকে ৩৭ ডিগ্রি তাপমাত্রা অনুভূত হচ্ছে। একদিকে তাপমাত্রা আর অন্যদিকে করোনার কারণে আবারও হুমকিতে পড়েছে হ্যাচারি শিল্প। একদিকে করোনার কারণে মাছ বিক্রি কমে গেছে যেমন, তীব্র খরায় রেণুপোনা উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে মাছচাষিরা এখন কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। আশংকা করছেন কোটি টাকার ক্ষতির।

জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জে ২টি সরকারিসহ মোট ১২টি হ্যাচারি রয়েছে। ৮৩ বর্গকিলোমিটার জলভাগে ১২২টি হাওর রয়েছে। এখানকার উৎপাদিত মাছ ও রেণুপোনা দেশের ৩০ ভাগ চাহিদা মিটিয়ে থাকে। আর এ শিল্পের সঙ্গে লক্ষাধিক মানুষ জড়িত রয়েছে।

হ্যাচারী মালিকরা বলছেন, অনাবৃষ্টির কারণে সব পুকুর শুকিয়ে খাঁ খাঁ করছে। যেসব হ্যাচারিতে রেণুপোনা বা চারা পোনা তৈরি করা হচ্ছে পানির অভাবে তা বিক্রিও করতে পারছি না আমরা। এরপর করোনার কারণে দ্বিতীয় দফা লকডাউনের কারণে বাইরে থেকে কোনো ক্রেতাও পাচ্ছি না। এর ফলে বড় ধরণের সংকটের কবলে পড়ার আশঙ্কা করছি। গত বছর মার্চের পর আমরা মাছ চাষে লাভ করতে পারেনি। এবার দ্বিতীয় দফা ক্ষতিতে পড়ায় আমাদের আর টিকে থাকার কোনো উপায় থাকবে না।

পাভেল এগ্রো হ্যাচারী (প্রাঃ) লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকদীর আহমেদ পাভেল বলেন- একে তো বৃষ্টি নেই, মাছের দাম কম এবং লকডাউনের ফলে মৎস্য চাষীগণ দিশেহারা হয়ে পড়েছে তদুপরি বর্তমান সরকার কতর্ৃক প্রনোদনা প্রান্তিক পর্যায়ের চাষীগণ সঠিকভাবে পাচ্ছে না ফলে মাঠ পর্যায়ের চাষীগণ মৎস্য চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে । ফলে এর নেতিবাচক প্রভাব পরোক্ষভাবে মৎস্য হ্যাচারীগুলোর উৎপাদনের উপর পড়েছে। পিজি, হরমোন ও ইথানলের অত্যধিক দাম বৃদ্ধির ফলে মৎস্য হ্যাচারীগুলোও ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট অনুরোধ যে, সরকার কতর্ৃক প্রনোদনাগুলো মাঠ পর্যায়ের চাষীগণ ও হ্যাচারী মালিকগণ পায় সেদিকে যেন সুদৃষ্টি দেয়া হয়।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা কৃষিবিদ রিপন কুমার পাল বলেন, চলমান লকডাউনে পণ্য পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা না থাকায় সমস্যা হওয়ার কথা নয়। বৃষ্টি হলে মৎস্য উৎপাদন নির্বিঘ্নে করতে পারবে।