কিশোরগঞ্জে জেলের জালে মা মাছ!

3 weeks ago
6:50 pm
161
অন্যান্য বিশেষ প্রতিবেদন কিশোরগঞ্জে জেলের জালে মা মাছ!

দেশের বৃহত্তম ও মৎস্য ভান্ডার হিসেবে খ্যাত কিশোরগঞ্জের নদী, হাওর ও খাল-বিলে এখনো আসেনি নতুন পানি। কিন্তু পানি না আসলেও মা মাছ শিকারে নেমে পড়েছেন জেলেরা। নিষিদ্ধ বিভিন্ন জাল দিয়ে মাছ শিকার করছেন তারা। এই মা এবং ডিমওয়ালা মাছ নিধন বন্ধে স্থানীয় প্রশাসন কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও অজ্ঞাত কারণে বন্ধ হচ্ছে না মা মাছ শিকার। যার ফলে আগামী দিনে কিশোরগঞ্জে মাছ উৎপাদনে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ জেলার ১৩টি উপজেলা নিয়ে গঠিত দেশের অন্যতম হাওরাঞ্চল, নদী ও খাল-বিলে এখন চলছে অবৈধ নানা উপায়ে মা মাছ শিকার। আর এক শ্রেণির অসাধু জেলেরা বিলের বিভিন্ন পয়েন্টে বাদাই ও কারেন্ট জালসহ মাছ ধরার বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে দিনে ও রাতে মা মাছ শিকার করে হাট-বাজারে প্রকাশ্যে বিক্রি করলেও দেখার কেউ নেই।

গত কয়েকদিনে কিশোরগঞ্জ সদর, করিমগঞ্জ, ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম, তাড়াইল, কটিয়াদী, পাকুন্দিয়া, ভৈরব উপজেলার নদী, হাওর ও খাল-বিলে পানি আসায় বিভিন্ন হাট বাজার ও মৎস্য আড়তে দেখা গেছে ডিমে পেট ভরপুর টেংরা, বাতাসি, পুঁটি, মলা, বোয়াল, শোল, গজার, পাবদা, গুলসা, কৈ, শিং, মাগুড়সহ বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির ডিমওয়ালা মা মাছ প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে।

স্থানীয় মৎস্য অফিস সূত্র জানায়, সাধারণত মে-জুলাই মাসে ডিম ছাড়ে মা মাছগুলো। এ সময়টাতে মাছ ধরা একেবারেই নিষিদ্ধ। ১৯৫০ সালের মৎস্য আইন অনুযায়ী, ডিম এবং মা মাছগুলো শিকার আইনগতভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু পানি আসার সঙ্গে সঙ্গে মাছ শিকারে নেমে পড়েন জেলেরা। এতে জেলেদের জালে ধরা পড়ে নষ্ট হচ্ছে ডিমগুলো। চলতি বছরে মাছ উৎপাদনের চাহিদা ছিল ৭০ হাজার ৫৩০ মেট্রিক টন। লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে উৎপাদন হয়েছে ৮২ হাজার ২৮৩ মেট্রিক টন। যদি মা মাছ অবাধে শিকার না হতো তাহলে উৎপাদন আরও বেশি হতো বলে ধারণা করছে মৎস্য অফিস কর্মকর্তারা।

জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন মৎস্য আড়তে প্রতি কেজি টেংরা ৩০০ টাকা, বাতাসি ৭০০ টাকা, মলা ৪০০ টাকা, বোয়াল ক্ষেত্র বিশেষে এক হাজার টাকা, শিং মাছ ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ১৩টি উপজেলাই মৎস্য আহরণের অভয়াশ্রম। কিন্তু বিভিন্ন পয়েন্টে বাদাই, কারেন্ট, খোরা জালসহ বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে মা মাছ ধরা হচ্ছে। ডিমে ভরপুর টেংরা, বাতাসি, রুই, মৃগেল, ঘনিয়া, কালবাউস, কার্প, শিং, মাগুর, শোল, পুঁটি, সরপুঁটি, মলা, বোয়াল, টাকি, শিংসহ দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মা মাছ প্রকাশ্যে নিধন করছেন এক শ্রেণির অসাধু জেলে ও ব্যবসায়ীরা।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা কৃষিবিদ রিপন কুমার পাল বলেন, আড়ৎদার ও জেলেদের সচেতন করতে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। উপজেলা ওয়ারী সচেতন করতে মাইকিং করা হচ্ছে। গত মাসে ১২১টি অভিযান পরিচালনা ও ২টি মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মা মাছ রক্ষার কোনো বিকল্প নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।