ঈদ বকশিসের নামে দ্বিগুণ ভাড়া আদায়, রিপোর্ট হলেই টনক নড়ে

3 weeks ago
4:12 pm
319
অন্যান্য বিশেষ প্রতিবেদন ঈদ বকশিসের নামে দ্বিগুণ ভাড়া আদায়, রিপোর্ট হলেই টনক নড়ে

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে ঈদের সপ্তম দিনেও ঈদ বকশিসের নামে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের মহোৎসব চলছে। কিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক মহাসড়কে চলাচল করা সিএনজি, অটোরিক্সার চালকরা যাত্রীদের জিম্মি করে এসব দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করছেন। ফলে এই অঞ্চলের সাধারণ যাত্রীরা দ্বিগুণ ভাড়া গুণতে বাধ্য হচ্ছেন। স্থানীয় প্রশাসনের তদারকি না থাকায় এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সড়ক পথে হরিলুট চালাচ্ছে সিএনজি চালকরা।

  • ৮০ কিলোমিটার ভাড়া ৫০০ টাকা

  • ফাঁকা সড়কে রাজত্ব করছে সিএনজি চালকরা

  • অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে : ইউএনও

জানা গেছে, প্রতি ঈদেই বকশিসের নামে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে থাকেন সিএনজি চালকরা। ঈদের দিন থেকে শুধু করে প্রায় সপ্তাহ খানেক চলে এধরণের অনৈতিক ভাড়া আদায়ের মহোৎসব। আর এসব আচরণে বিব্রত হচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা। যদিও স্থানীয় প্রশাসনের এবিষয়ে কোন মাথা ব্যথা নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কটিয়াদী থেকে কিশোরগঞ্জ দূরত্ব ২৬ কিলোমিটার। এ পথে সিএনজি’র নির্ধারিত ভাড়া ৬০ টাকা। কিন্তু ঈদ উপলক্ষে নেয়া হচ্ছে ৮০ টাকা। কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ড থেকে গাজীপুর দূরত্ব ৮০ কিলোমিটার। এখানে নির্ধারিত ভাড়া ২০০ টাকা। লকডাউনে চলাচলের কোন পরিবহণ না থাকায় যাত্রীদের জিম্মি করে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৪’শ থেকে ৫’শ টাকা। আর কটিয়াদী থেকে গচিহাটা দূরত্ব ১২ কি. মিটার। সেখানে ৩০ টাকা ভাড়া নেওয়ার কথা থাকলেও বকশিসের বাহানায় ভাড়া নিচ্ছে ৪০ টাকা।

অনুসন্ধানে বলছে, কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ড থেকে পাঁচটি স্টেশনের মাধ্যমে যাত্রীরা চলাচল করে। এদের মধ্যে ভাগলপুর-বাজিতপুর, গচিহাটা, পুলেটঘাট-বানিয়াগ্রাম, কিশোরগঞ্জ, মঠখোলা-গাজীপুর ও মানিকখালী সড়কে ঈদ এলেই সিএনজি চালকরা বকশিসের নামে দ্বিগুন ভাড়া আদায় করেন। ফলে যাত্রীদের মাঝে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হলেও প্রশাসনের কোন নজরদারী নেই।

সিএনজি চালক শাহজাহান ও নবী হোসেন জানান, ‘আমরা গচিহাটা সড়কে নিয়মিত সিএনজি চালিয়ে আসছি। এই সড়কে ঈদ উপলক্ষ্যে যাত্রীদের কাছ থেকে ১০টাকা অতিরিক্ত নিচ্ছি। তবে, এগুলো আমাদের উচিত নয়।’

গাজীপুর সড়কে নিয়মিত চলাচল করেন আবু রায়হান। তিনি জানান, লকডাউনে কোন পরিবহণ চলাচল না করায় হঠাৎ সিএনজি যোগে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। সিএনজিতে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হয়। জসিম মিয়া নামের আরেক যাত্রী জানান, ‘ঈদকে কেন্দ্র সিএনজি চালকরা দ্বিগুণ ভাড়া নিচ্ছেন। ২’শ টাকার জায়গায় গুণতে হচ্ছে ৪’শ টাকা। অনেকে গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য বাধ্য হয়েই অতিরিক্ত টাকা গুনছেন।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কটিয়াদী মডেল থানার (ওসি) এস এম শাহাদাত হোসেন জানান, ‘অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সুযোগ নেই। জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কটিয়াদী ইউএনও জ্যোতিশ্বর পাল বলেন, ‘বিষয়টি দ্রুত দেখছি। সিএনজি চালকরা যেন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করেন সে বিষয়ে সর্তক করে প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যবস্থা নিবো।’