দুশ্চিন্তায় কিশোরগঞ্জের পাট চাষিরা

3 weeks ago
7:52 pm
104
অন্যান্য পরিবেশ ও কৃষি দুশ্চিন্তায় কিশোরগঞ্জের পাট চাষিরা

প্রচন্ড খরা ও প্রত্যাশিত বৃষ্টি না হওয়ায় পাট চাষ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কিশোরগঞ্জের কৃষকরা। গত বছর পাটের ভালো দাম পেয়ে চলতি বছর অধিক লাভের আশায় সাধ্যমতো পাট আবাদ করেছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা। কিন্তু তীব্র তাপদাহে ক্ষেতে পাট গজানো ও বেড়ে ওঠা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আর এভাবে আবহাওয়ার বৈরিতা আরও কয়েক দিন ধরে চললে উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। পাশাপাশি নাম না জানা ভাইরাসের কারণে পাট গাছের পাতা হলুদ হয়ে যাচ্ছে। চিন্তার ছাপ কৃষকের চোখে মুখে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, এ বছর পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৭ হাজার ৪৩০ হেক্টর। এর মধ্যে দেশী ১ হাজার ৮৫০ হেক্টর, তোষা ৭ হাজার ৫৫০ হেক্টর, কেনাফ ৭ হাজার ৪৫০ হেক্টর, মেস্তা ৫৮০ হেক্টর। পাট চাষে অগ্রগতি দেশী ১ হাজার ৬৩০ হেক্টর, তোষা ৭ হাজার ২১৫ হেক্টর, কেনাফ ৭ হাজার ১৮০ হেক্টর ও মেস্তা ৭৫৫ হেক্টর।

সূত্র জানায়, পাট চাষের মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় শুরুর দিকে তেমন কোনো সমস্যা হয়নি। তবে ক্ষেতের পাট বড় হওয়ার সময়ে এসে এ অঞ্চলে দেখা দেয় দীর্ঘ অনাবৃষ্টি ও তাপপ্রবাহ। এতে বেশিরভাগ জমিতে সেচ নির্ভর হন কৃষকরা। পাটের পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার পিছনে ভারতীয় বীজকে দায়ী করছেন পাট গবেষণা ইন্সটিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তারা।

jute

কৃষকরা জানান, বিগত কয়েক বছর আগেও দাম পড়ে যাওয়ায় কৃষকরা পাট চাষাবাদ প্রায় ছেড়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু গত কয়েক বছর তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়ায় এ বছর তারা বেশি করে পাট চাষ করেছেন। কিন্তু তীব্র তাপদাহে ক্ষেতে পাট গজানো ও বেড়ে ওঠা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পাটের পাতা হলুদ হয়ে যাওয়া।

সদর উপজেলার কাশোরারচর গ্রামের কৃষক আবুল কাশেম বলেন, চলতি বছর তিনি এক বিঘা জমিতে পাট আবাদ করেছেন। প্রথম দিকে আবহাওয়া ভালো থাকায় ক্ষেতে পাটের চারা বেশ সুন্দর হয়েছে। তবে গাছ বড় হওয়ার সঠিক সময়ে এসে কম বৃষ্টির পাশাপাশি তীব্র খরার কারণে পাটের চারার ক্ষতি হচ্ছে। এ মুহুর্তে ভারি বৃষ্টি না হলে পাট গাছ লম্বা হবে না। আর আকৃতি ছোট হলে ফলনও কম হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক মোঃ সাইফুল আলম জানান, অন্য বছরের চেয়ে এ বছর বৃষ্টি কম হয়েছে। সঙ্গে রয়েছে বাড়তি তাপমাত্রা। এজন্য পাট চাষে কিছু সমস্যা হয়েছে। তবে সোমবার রাতের বৃষ্টিতে সমস্যা কিছুটা কমবে। যদি আরও বৃষ্টি হয় তাহলে আর সমস্যা থাকবে না।
তিনি আরও বলেন, পাটের ফলনের জন্য বৃষ্টি ও খরা দুই-ই প্রয়োজন। মাঝে মধ্যে খরা হবে আবার মাঝে মধ্যে বৃষ্টি হবে। কিন্তু এবার এর কিছুটা ছন্দপতন হচ্ছে।

পাট গবেষণা ইন্সটিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোঃ আশরাফুল আলম বলেন, প্রচন্ড খরায় পাট চাষ বাধাগ্রস্থ হয়েছে। আবার নাম না জানা ভাইরাসটি ভারতীয় বীজ বপন করায় হয়েছে। যারা শুধুমাত্র ভারতীয় বীজ বপন করেছে তাদের ক্ষেতেই এই ভাইরাসটি ধরা পড়েছে। প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। আশা করছি এ থেকে দ্রুত পরিত্রান পাব।

ছবি- গবেষণার জন্য সেম্পল কালেকশনে ব্যস্ত বিজ্ঞানী।