তৃণমূল সাংবাদিকতা টিকে থাকার লড়াই

2 weeks ago
2:33 pm
8
অন্যান্য খোলামত তৃণমূল সাংবাদিকতা টিকে থাকার লড়াই

সংবাদপত্র হচ্ছে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। যাকে বলা হয় একটি রাষ্ট্রের পিলার। অথাৎ, একটি রাষ্ট্রে যখন সংবাদপত্র তার নিজস্ব স্বাধীনতা হারিয়ে ফেলে তখন ওই রাষ্ট্রে আমবশ্যার অন্ধকার নেমে আসে। সে দেশের গণতন্ত্র হয়ে পড়ে পুরোপুরি মূল্যহীন।

চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে সংবাদ মাধ্যমকে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ নিয়ে আমলা ও পুলিশকে প্রশ্ন করা, তাদের ভুল গুলো প্রকাশ্যে আনা। অনিয়ম, দুর্নীতি আর লুটপাট থেকে ভাল কাজ মানুষের সামনে তুলে ধরা। সেই প্রশ্ন করার অধিকার আমাদের সংবিধান দিয়েছে।

তৃণমূল সাংবাদিকতার একটি ঘটনার মুখোমুখি হতে চাই। যা আপনাকে একটু হলেও টিকে থাকার প্রেরণা যোগাবে। ঘটনাটি ২০২০ সনের আগষ্ট মাসে। কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার ১০ নং জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত আসনের নারী ইউপি সদস্য সাবিনা আক্তার।

অভিযোগ উঠেছে, ওই মহিলা অসহায়, অসচ্ছল ও বয়স্কদের সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার কার্ড ও সরকারি ঘর দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এলাকায় শতাধিক অসহায় ব্যক্তির কাছ থেকে হাতিয়ে নেয় লক্ষ লক্ষ টাকা। এমন দুর্নীতির খোঁজ পেয়ে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশ করে দৈনিক খোলা কাগজ। পরে অবশ্য, গোপনে এলাকার মানুষের হাতে-পায়ে ধরে ওই টাকা ফেরত দেন অভিযুক্ত সাবিনা আক্তার।

এদিকে তলে তলে সাবিনা আক্তার তার বংশের কিছুসংখক লোক নিয়ে দৈনিক খোলা কাগজ প্রতিনিধি আতিকুর রহমান কাযিন ও তৎকালীন সিএনএন টিভির রিপোর্টার মোবারক হোসেনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে মানববন্ধন করেন। ওই ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে জালালপুর আনন্দ বাজার এলাকার সুশিল সমাজের ব্যানারে একটি দীর্ঘ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে কঠোর শাস্তির ঝড় তুলে স্থানীয়রা।

যে ডিপার্টমেন্টে দুর্নীতির অভিযোগ উঠে, সেই ডিপার্টমেন্টের প্রধানকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে উপজেলা প্রশাসন। তদন্ত কমিটি গঠনের দেড় মাস পর জালালপুর ইউপি পরিষদে তদন্ত কার্যক্রম চালায়। পরে ৩ মাসেও তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করা হয়নি। কিংবা দাখিল করলেও এখন পর্যন্ত অপরাধীকে কি ধরণের শাস্তির আওতায় এনেছে প্রশাসন? নাকি শাস্তির আড়ালে অপরাধীকে লালন করা হয়েছে তা নিয়েই অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে!

সংবাদ প্রকাশের পূর্বে একজন রিপোর্টারকে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করার জন্য যা যা কৌশলে নেওয়ার প্রয়োজন সেদিন তা সবটাই করা হয়েছিল। শতশত অভিযোগ থাকার সত্ত্বেও ওই নারীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক কোন ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন। বরং নামমাত্র তদন্ত করে নারী ইউপি সদস্যকে বাঁচানোর পথ দেখানো হয়েছে এমনটাই মনে করেন ভোক্তভুগী ও স্থানীয় সচেতনমহল।

পরে সংবাদের জের ধরে ওই নারী ইউপি সদস্য প্রথমে কটিয়াদী মডেল থানায়, পরবর্তীতে কিশোরগঞ্জ সুপার বরাবরে একটি চাঁদাবাজির অভিযোগ দায়ের করে। যেখানে একজন দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত নারী ইউপি সদস্যের শাস্তি হবে, সেখানে উল্টো সংবাদ কর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ দাখিল করেন। সেপ্টেম্বর ২০ তারিখ হোসেনপুর সার্কেল অফিসে আমরা ক’জন সংবাদকর্মী হাজির হলাম। এক পর্যায়ে বাদী সাবিনা আক্তার চাঁদাবাজির বিষয়ে সঠিক প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি।

এতো গেল এক নারী জনপ্রতিনিধির অপকর্মের কথা। নিয়মিতই এরকম অপরাধের খবর আমরা লিখছি। প্রতিদিন আপনার আমার চোখের সামনের অসংগতি গুলো তুলে আনতে গিয়ে একজন সাংবাদিক প্রতিনিয়তই হেনস্তায় শিকার হচ্ছেন। তৃণমূলে একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিককে নানা ভাবে কট্টাক্ষ করা হয়। একজন সংবাদকর্মী প্রতিদিন কোন না কোন দুর্নীতি, অনিয়ম, সেচ্ছাচারী, অসংহতি কিংবা নাগরিকের দুর্ভোগের চিত্র খবরের পাতায় তুলে আনেন। তৃণমূল পর্যায়ে ওইসব সাংবাদিকরাই বিভিন্ন মামলা, হামলা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তারপরও কোন সাংবাদিক তাদের জায়গা থেকে সরে দাড়াননি। বরং, বুকভরা সাহস নিয়ে কলম চালান অপ্রতিরোধ্য।