কটিয়াদীতে ডাকবাংলো মাদকের আস্তানা 

2 days ago
5:49 pm
591
অন্যান্য বিশেষ প্রতিবেদন কটিয়াদীতে ডাকবাংলো মাদকের আস্তানা 

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার মসূয়া গ্রামে সত্যজিৎ রায়ের স্মৃতিবিজড়িত পৈতৃক বাড়িতে পর্যটকদের জন্য একটি দ্বিতল ডাকবাংলো নির্মাণ করে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন। ডাকবাংলো নির্মাণের ৯ বছরেও তার ১ শতাংশ সুফলও পায়নি পর্যটকরা। দ্বিতল ভবনটি দেখভাল করার জন্য সরকারি কোন কেয়ারটেকার না থাকায় ভবনটি অযত্নে-অবহেলায় পড়ে আছে। বর্তমানে ডাকবাংলোটি মাদকসেবীদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে।

  • ৫৯ লাখ টাকার ডাকবাংলো ২ টাকার মূল্য নেই
  • রাষ্ট্রের অর্থের অপচয়
  • ডাকবাংলো রক্ষাণা-বেক্ষণে উদ্যোগ নেই

জানা গেছে, বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের উদ্যোগে ২০১২ সালে ৫৯ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি দ্বিতল ভবন ডাকবাংলো নির্মাণ করে সরকার। পাশাপাশি বাড়ির সীমানা প্রাচীর ও রাস্থাঘাট সংস্কার করা হয়। ডাকবাংলো নির্মাণের পর ভবনটি উদ্বোধন করেন তৎকালীন বিমান ও পর্যটন মন্ত্রনালয়ের সচিব শফিক আলম মেহেদী। উদ্বোধনের ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও পর্যটকরা কোনো সুফল পাননি। বরং সরকারের ৫৯ লাখ টাকার ভবনটি এখন মাদকসেবীরা দখল করে রেখেছেন। বর্তমানে সত্যজিৎ রায়ের পিতামহের স্মৃতি বিজড়িত বাড়িটি সরকারের রাজস্ব বিভাগের তত্ত্বাবধায়নে থাকলেও তদারকিতে গাফিলতি রয়েছে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ডাকবাংলোর আশপাশে ময়লা আবর্জনা রাখা হয়েছে। দ্বিতল ভবনে জানালার অধিকাংশ গ্লাস গুলো ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে। সেগুলো প্রশাসনের নজরে আসলেও কার্যকর কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় বর্তমানে ডাকবাংলোটি এলাকার মাদকসেবীদের আস্তানায় পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর ডাকবাংলোতে মাদকসেবন করে স্থানীয় উঠতি বয়সের যুবকরা।

স্থানীয়রা জানান, ২০১২ সালে ভবনটি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও কোন সুবিধা পায়নি পর্যটকরা। সরকারের লাখ লাখ টাকা দিয়ে ডাকবাংলো নির্মাণ করলেও প্রশাসনের কর্মকর্তারা ভবনটিতে কোন খোঁজ রাখেন না। বরং একজন কেয়ারটেকার নিয়োগ হলে ভবনটির সুফল পেতো দূরদূরান্ত থেকে আসা ভ্রমণপিপাসুরা। বর্তমানে ভবনটি কোন কাজে না আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা।

শরসতি সাহা জানান, সন্ধ্যা হলেই ছেলেরা উৎপাত করে। মাদবসেবীরা আড্ডা দেয়। কোনো পর্যটক এখানে এসে বিশ্রাম নিতে পারে না। দর্শনার্থী সামিয়া রহমান জানান, ‘বেশ কয়েকবার ঘুরতে এসেছি। কিন্তু ডাকবাংলোতে বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ তো হয়নি। বরং হয়রানি শিকার হতে হয়েছে।’

কটিয়াদী ওসি এস এম শাহাদাৎ হোসেন জানান, ‘বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জেনেছি। খোঁজ নিয়ে দ্রুত অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

কটিয়াদী ইউএনও জ্যোতিশ্বর পাল বলেন, ‘ডাকবাংলো পরিদর্শন করেছি। শিগগিই এটি রক্ষাণা-বেক্ষণে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।’