কিশোরগঞ্জের মাঠে মাঠে হলুদের সমারোহ

2 months ago
8:31 pm
95
অন্যান্য পরিবেশ ও কৃষি কিশোরগঞ্জের মাঠে মাঠে হলুদের সমারোহ

শীতের আগমনী বার্তায় কিশোরগঞ্জের মাঠে মাঠে এখন হলুদের সমারোহ। সরষে ফুলের হলুদ বর্ণে বর্ণিল হয়ে উঠেছে মাঠ প্রান্তর। স্বল্প খরচ ও হালকা শ্রমে অধিক ফলন এবং ফসল বিক্রি করে ভালো দাম পাওয়ায় সরষে চাষে দিন দিন আগ্রহী হয়ে উঠছেন কিশোরগঞ্জের কৃষকরা। তাছাড়া, ধান আবাদে অব্যাহত লোকসানের কারণেও সরষে চাষে আগ্রহী হওয়ার আরেকটি কারণ।

কৃষকরা জানান, বীজ রোপণের দুই-তিন মাসের মধ্যে সরষের ফলন ঘরে তোলা সম্ভব। তাছাড়া, রোপণের পর থেকে ফসল তোলা পর্যন্ত খুব বেশি পরিশ্রমও করতে হয় না। বেশি সারেরও প্রয়োজন হয় না। শুধু ইউরিয়া সার সামান্য ব্যবহার করলেই যথেষ্ট। চারা রোপণের পরপরই আগাছা ভালোভাবে একবার পরিষ্কার করলেই হলো। এছাড়া আর অতিরিক্ত শ্রমের প্রয়োজন হয় না। করতে হয় না অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসেব অনুযায়ী চলতি মৌসুমে কিশোরগঞ্জ জেলায় ৮ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে সরষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ২ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে সরষে আবাদ হয়েছে।

চাষিরা জানান, এক সময়ে কিশোরগঞ্জে রেকর্ড পরিমাণ জমিতে সরষে আবাদ হতো। প্রযুক্তির উন্নয়নের কারণে সরষে আবাদ থেকে সরে এসে কৃষক অন্যান্য ফসল আবাদের প্রতি ঝঁুকে পড়েন। ফলে এ অঞ্চলে প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যায় সরষে আবাদ। তবে বিগত কয়েক বছর ধরে ধানের ন্যায্যমূল্যে থেকে বঞ্চিত হয়ে কৃষক এখন আবার সরষে আবাদের আগ্রহী হচ্ছেন। জেলার প্রায় সব এলাকার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন হলুদ আর সবুজ রঙের সমাহার। আমন ধান কেটে একই ক্ষেতে সরষে চাষ করে তারা লাভের আশা করছেন।

করিমগঞ্জ, বাজিতপুর ও ভৈরবের বিশাল অংশ জুড়ে সরষের আবাদ হয়েছে । জেলায় এ বছর রেকর্ড পরিমাণ সরষে আবাদ হয়েছে। জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামের মাঠে কথা হয় সরষে চাষি ইসমাইল হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমন ধান কেটে ওই জমিতে আবার সরষে চাষ করেছি। আবহাওয়া অনুকূলে হওয়ায় ফলন ভালো হয়েছে। সামনে বড় ধরণের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে বাম্পার ফলন হবে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, এ মাঠে এর আগে সরষে আবাদ হতো। কিন্তু প্রায় ১০ বছর ধরে আমরা সরষে আবাদ না করে সেখানে ধান এবং অন্যান্য ফসল আবাদ করে আসছি। কিন্তু গত তিন মৌসুমে ধান আবাদে লোকসানের কারণে আবার সরষে আবাদের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তিন বিঘা জমিতে সরষে বুনেছি।

একই কথা বলেন কৃষক আলী আকবর। তিনি বলেন, অব্যাহত ধান আবাদের কারণে জমির উর্বরতা বলতে কিছু থাকে না। তারপর ধান আবাদে কোনো লাভ নেই, উৎপাদন খরচ তোলা কঠিন। অথচ সরষে আবাদে খরচ কম ও লাভ বেশি। দুই তিনবার সেচ দিলেই চলে। একমণ সরষে ২০ হাজার থেকে ২২ হাজার টাকা বিক্রি সম্ভব। এ কারণে আমরা আর ধান আবাদ করতে চাচ্ছি না। আগামীতে সরষে আবাদের পাশাপাশি শাকসবজির চাষ করবেন বলে তিনি জানান।

একই মাঠে কথা হয়, আতিকুল নামে আরেকজন চাষির সঙ্গে। তিনি বলেন, দুই বিঘা জমিতে সরষে চাষ করেছি। ফলন আপাতত খুব ভালো মনে হচ্ছে। সরষে তুলে একই জমিতে আবার সামনে বোরো আবাদ করব। তিনি বলেন, সরষে চাষ করে একদিকে আমরা যেমন মানসম্মত ভোজ্যতেল পাব তেমনি ভালো দামে বিক্রি করে লাভবান হবো। কারণ বাজারে যেসব তেল বিক্রি হয় তার অধিকাংশ ভেজাল তেল। কিশোরগঞ্জের অন্যান্য মাঠেও এখন হলুদের সমারোহ।

কিশোরগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ ছাইফুল আলম বলেন, কৃষকের এ উদ্যোগকে আমরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছি। জমির উর্বরতা ধরে রাখার জন্য কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে শস্য নিবিড়তার জন্য কৃষককে সরষে আবাদে উৎসাহিত করা হচ্ছে বলে তিনি জানান। এজন্য অধিকাংশ কৃষক এখন সরষে আবাদের প্রতি ঝুঁকছেন। তাছাড়া অল্প পরিশ্রমে ফসল ঘরে তোলা সম্ভব।