বোরো আবাদে ব্যস্ত হাওরের কৃষক

4 weeks ago
6:17 pm
42
অন্যান্য পরিবেশ ও কৃষি বোরো আবাদে ব্যস্ত হাওরের কৃষক

ধানের জেলা হিসাবে খ্যাত কিশোরগঞ্জের হাওর অঞ্চলে এখন চলছে বোরো আবাদের ধুম। তীব্র শীত উপেক্ষা করে কৃষক কোমর বেধে জমি আবাদে নেমেছেন। গোটা হাওর জনপদে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে ভোর থেকে সন্ধ্যা অবধি কৃষকের কর্মচাঞ্চল্য। সবুজ ধানের চারায় সবুজ করে তুলছেন হাওরের পর হাওর।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, জেলার ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম ও নিকলী-এ চারটি উপজেলা হাওর অধ্যুষিত। হাওর অধ্যুষিত এ চার উপজেলায় মোট আবাদি জমি রয়েছে প্রায় এক লাখ হেক্টর। চলতি মৌসুমে ইটনায় বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ হাজার ৮৩০ হেক্টর, মিঠামইনে বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬ হাজার ২০০ হেক্টর, অষ্টগ্রামে বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৩ হাজার ৫৯৫ হেক্টর, নিকলীতে বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ১৪ হাজার ২৯৫ হেক্টর, হোসেনপুরে বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার ৭৩০ হেক্টর, কিশোরগঞ্জ সদরে বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ হাজার ৪১০ হেক্টর, পাকুন্দিয়ায় বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ হাজার ৫৮৫ হেক্টর, কটিয়াদীতে বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ হাজার ৬৫ হেক্টর, করিমগঞ্জে বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ হাজার ১৩০ হেক্টর, তাড়াইলে বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ হাজার ৫৪৫ হেক্টর, বাজিতপুর বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ হাজার ৫৭৫ হেক্টর, কুলিয়ারচরে বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৬৭৫ হেক্টর ও ভৈরবে বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৮৫০ হেক্টর। জেলায় মোট ১ লাখ ৬৪ হাজার ৪৮৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ লাখ ২৬ হাজার ৬৮৭ মেট্রিক টন। কৃষকের মধ্যে চলছে বোরো আবাদের ধুম।

হাওরের বেশ কয়েকজন কৃষক জানান, তাদের আবাদকৃত ধানের মধ্যে স্থানীয় জাত, উফসী এবং হাইব্রীড জাতের ধান রয়েছে। তবে এ বছর উফসী ও হাইব্রীড ধানের ব্যাপক আবাদ হচ্ছে।

এক ফসলি এ এলাকার হাওরের মানুষের জীবন-জীবিকার একমাত্র অবলম্বন এই বোরো ফসল। কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ-দুর্বিপাকে না পড়লে এ এলাকায় উৎপাদিত ধান জেলার খাদ্যচাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে রপ্তানিও করা হয়। কিন্তু এ অঞ্চলের দরিদ্র এবং প্রান্তিক চাষীরা ঋণ ও দাদন নিয়ে যে ফসল ফলান তার সিংহভাগ চলে যায় দায় মেটাতে। ফলে ফসল তোলার মাস দুয়েকের মধ্যেই দরিদ্র, প্রান্তিক চাষী ও কৃষকের গোলা শূণ্য হয়ে যায়। শ্রমবিক্রি এবং ধার কর্জ করে পরিবার পরিজন নিয়ে তাদের অনাহারে-অর্ধাহারে দিনাতিপাত করতে হয়। তবে কৃষক আশা করছেন আবহাওয়া যেন অনুকূল থাকে। তাহলেই ধানের বাম্পার ফলন হবে। তখন ধানের হাসিতে ধার-দেনা আর কৃষি উপকরণের সংকট ভুলে হাসতে পারবে কৃষক।

সূত্র জানায়, জেলার ১৩টি উপজেলার সবক’টিতেই বোরো আবাদ হলেও ভূ-প্রাকৃতিক কারণে হাওর অধ্যূষিত ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম এবং নিকলী উপজেলায় সবার্ধিক পরিমাণ বোরো ধান উৎপাদিত হয়। প্রাকৃতিক কোন দৈব-দুর্বিপাকে না পড়লে হাওরে প্রতি বছরই বাম্পার বোরো ফলনের সম্ভাবনা থাকে। তবে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনার মধ্যেও কৃষককে ফসল ঘরে না তোলা পর্যন্ত আতঙ্কে থাকতে হয়। আগাম বন্যা আর পাহাড়ি ঢলে প্রায় সময়েই মাঠভর্তি কৃষকের সোনালী ধান তলিয়ে যায়। এত ঝুঁকির মাঝেও এখন হাওরের মাঠে সরব পদচারণায় মুখর কৃষকের একটাই চিন্তা, এক খন্ড জমিও যেন কোন অবস্থাতেই পতিত না থাকে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ ছাইফুল আলম জানান, এ বছর কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাওয়ার কারণে কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। আশা করি সরকার থেকে যে লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হয়েছে তার চেয়ে বেশি ফলন আমরা পাব।