শ্রীহীন হচ্ছে কিশোরগঞ্জ

3 months ago
3:53 pm
307
অন্যান্য বিশেষ প্রতিবেদন শ্রীহীন হচ্ছে কিশোরগঞ্জ

কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের ব্যস্ততম সড়ক ধরে নেই ফুটপাত, যাও আছে তা দখলে। যানজট, শহরের বুকে অবৈধ পার্কিং, ড্রেনগুলো ঢাকনা বিহীন খোলা কোথাও বন্ধ-ভাঙা, নেই সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নেই শহরের সৌন্দযবৃদ্ধির উদ্যোগ, অনেক জায়গায় নেই ডাস্টবিন! পাবলিক টয়লেট এমন জায়গায় যেদিকে কালেভদ্রে মানুষের যাতায়াত, নেই সচেতনতা সৃষ্টির কোনো উদ্যোগ। এমনকি দূষিত শহরের তালিকায় ১০ম স্থানে রয়েছে কিশোরগঞ্জ। একটা শহরের এ অবস্থা চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে সবাই মুখ ফিরিয়ে নেবে।

সমগ্র দেশে যেখানে কিশোরগঞ্জ দ্বিতীয় ক্ষমতাধর জেলা হিসেবে সমাদ্রিত, অথচ অন্যান্য জেলার লোকজন এসে বিরুপ মনোভাব প্রকাশ করেন। পৌরবাসী সময়মত পৌরকর প্রদান করেও নাগরিক সেবা থেকে হচ্ছে বঞ্চিত। আমাদের এখানে একে অপরের প্রতি দায় চাপানোর সংস্কৃতি আর রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের পায়তারায় একটি সম্ভাবনাময় জেলা হিসেবে আজ শ্রীহীন।

শহরের ব্যস্ততম একরামপুর সড়ক থেকে গাইটাল বাসস্ট্যান্ড সড়কের অংশের প্রায় ৫ কিমি এলাকায় মানুষের আনাগোনা সবচেয়ে বেশী। প্রতিদিন ভোর থেকেই কর্মজীবি মানুষেরা বের হয়ে পড়েন জীবিকার তাগিদে, শিক্ষার্থীরা দল বেধে চলেন বিদ্যালয়, কলেজের উদ্দেশ্যে। কিন্তু চলাচলরত জনগণের পায়ে হেঁটে যাবার রাস্তা এতো মসৃণ নয়। রাস্তার পাশ দিয়ে হেটে যাবার পথ নেই বলে মানুষ হাটছে আলিক সড়ক ধরে, গাড়ির গা ঘেঁষে চলছে আর রাস্তার ধারেই মানুষ নিজের প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে হাঁটে, আর এতেই ঘটছে প্রতিনিয়ত ছোট-খাটো দুর্ঘটনা।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ‘আমাদের সম্মিলিতভাবে অভ্যাস বদলানোর বিকল্প নেই, রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার কায়দায় সবকিছুকে বিচার বিবেচনা না করে, এর থেকে বেরিয়ে এসে নাগরিক সমস্যাসহ সকল দাবী-দাওয়ার কথা তুলে ধরতে হবে এবং পৌর কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই নাগরিক সমস্যার সমাধান করতে হবে তা যে উপায়েই হোক। নগরবিদের মাধ্যমে পরিকল্পনা প্রনয়ন করে নতুনভাবে শহরকে সাজানো দরকার বলে মন্তব্য করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কিশোরগঞ্জের একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জানান, দেশের ১ম শ্রেণীভুক্ত এই পৌরসভার বর্তমান অবস্থা ও নাগরিক সেবা অত্যন্ত নাজুক। রাস্তার পাশে মানুষের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে মৌসুমী হকার ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ভাড়ায় দোকানের সামনে অবৈধ ছোট ছোট করার কারণেই মানুষ বিপদজ্জনকভাবে মূল সড়কে হাঁটতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে যানজট এখন এ শহরের নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়, ট্রাফিক পুলিশদের এ যানজট নিয়ন্ত্রণ করতে বেশ গলধঘর্ম হতে হয়। অবৈধ অটোরিক্সা ও টমটমের যাতায়াতের কারণে একটা জঞ্জালের শহরে রূপ নিয়েছে কিশোরগঞ্জ। চারিদিকে অবৈধ যানবাহন, অবৈধ স্ট্যান্ড, অবৈধ পথব্যবসায়ী, ড্রেনের দুর্গন্ধ আর অস্তাচলে নাগরিক সেবা। পুরো বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে আর নিজেরা কেন অবনতির দিকে। পৌর কর্মীদের কাজের তদারকিও চোখে পড়ে না। যে যার মতো কাজ করছে।

বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিনের আবর্জনার স্তুপ নদীর তীরে ফেলে দেয়া হয়। বাসাবাড়ি কিংবা মার্কেটের ময়লা যত্রতত্র ফেলে দেয়া হয়। অপরিকল্পিত বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য পুকুর ভরাট করা ফেলা হয় রাতের আধারে। খাটিয়া নিয়ে কিভাবে বের হবে সেটাও ভাবেনা কেউ। টয়লেটের ট্যাংকির আউটপাস লাইন সরাসরি দিয়ে দেয়া হয় পৌরসভার ড্রেনে। এরকম হাজারো অভিযোগ রয়েছে পৌরসভার উপর। এ প্রাণের শহরকে কলঙ্কের তালিকা থেকে বের করে আনতে হবে। বসবাসযোগ্য করে তুলতে হবে আমাদের জন্য।

এ ব্যাপারে কিশোরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মোঃ পারভেজ মিয়ার সঙ্গে কথা বলতে যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি।