কিশোরগঞ্জে টিসিবির পণ্য যেন সোনার হরিণ, ক্রেতাদের হাহাকার

3 months ago
8:13 pm
41
অন্যান্য বিশেষ প্রতিবেদন কিশোরগঞ্জে টিসিবির পণ্য যেন সোনার হরিণ, ক্রেতাদের হাহাকার

কিশোরগঞ্জে টিসিবির পণ্য যেন সোনার হরিণে রুপান্তরিত হয়েছে। হাহাকার দেখা যায় টিসিবির পণ্য নিতে আসা লোকজনদের মাঝে। করোনার ধাক্কা সামলাতে অনেক মধ্যবিত্তরা মুখ লুকিয়ে টিসিবির পণ্য নিতে আসে। কেউ পায় কেউ পায় না। অনেকেই হতাশ হয়ে ফিরে যায় বাড়িতে।

সরজমিনে টিসিবির পণ্য নিতে আসা ক্রেতাদের অভিযোগ ও অনুসন্ধানে জানা যায়, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের কর্মচারী ও কিছু অসাধু শ্রেণীর মানুষ লাইনে না দাঁড়িয়ে যোগসাজশ করে ডিলারদের কাছ থেকে বেশিরভাগ পণ্য নিয়ে যায়। যার ফলে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তরা টিসিবির পণ্য পায় না। এমনকি ক্ষমতাধর লোকজন ও ডিলারদের পরিচিত মানুষরা লাইনে না দাঁড়িয়েও পণ্য নিয়ে যায়। আবার এক পরিবারের চার থেকে পাঁচজন সদস্য যায় পণ্য কিনতে। লক্ষ্য করা যায় ঘুরেফিরে তারাই আসে পণ্য ক্রয় করতে। একটি অসর্মথিত সূত্র জানায়, টিসিবির ডিলাররা অর্ধেকের বেশি পণ্য ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দেয়। বাকি পণ্য নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের কাছে বিক্রি করার জন্য বিভিন্ন পয়েন্টে নিয়ে যায়।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ট্রাকে পণ্য কিনতে গেলে পরিবেশকরা শর্ত দিচ্ছেন। নির্দিষ্ট পরিমাণ পণ্য না নিলে তারা অন্য কোনও পণ্য বিক্রি করছেন না। পরিবেশকদের এমন শর্তে ক্রেতারা চরম ক্ষুব্ধ।

অন্যদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে নাভিশ্বাস সাধারণ মানুষের। চাল, ডাল, তেল, চিনিসহ নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে অসহায় ক্রেতা। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ট্রেডিং করপোরেশন (টিসিবি) থেকে তুলনামূলক কম মূল্যে নিত্যপণ্য কেনার চাহিদা বেড়েছে। কিশোরগঞ্জে টিসিবির বিভিন্ন পয়েন্টে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। চাহিদার তুলনায় পণ্য কম থাকায় দুপুরের মধ্যেই শেষ হয়ে যায় বিক্রি। শেষ মুহূর্তে টিসিবির ট্রাক থেকে পণ্য কিনতে আসা অনেকেই ফিরছেন খালি হাতে। দীর্ঘসময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও কোনো পণ্য কিনতে না পেরে অসন্তোষ জানান ক্রেতারা। আবার ডিলাররা বলছেন চাহিদার তুলনায় পণ্য কম আসে।

জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ব্যবসা বানিজ্য শাখার তথ্য মতে কিশোরগঞ্জ জেলায় মোট ৮৩ জন টিসিবির ডিলার রয়েছেন। যার মধ্যে ১৩ জন্য রয়েছে সদর উপজেলার।

এসব বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নাজমুল ইসলাম সরকারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলমের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে আমার বলতে হবে। স্যারের অনুমতি ছাড়া আমি কিছু বলতে পারবো না।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ অনুযায়ী সারাদেশে ১ কোটি মানুষকে টিসিবির পণ্য দেয়া হবে। যারা করোনার প্রণোদনা পেয়েছেন তাদের সাথে আরও ৬০ লক্ষ মানুষের জন্য রোজা এবং ঈদে কার্ড ইস্যু করা হবে। জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে এ বিষয়ে আলোচনা করেছি। কার্ড ইস্যু করলে টিসিবির পণ্য বিক্রিতে কোনো ধরনের ঝামেলা থাকবে না। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়েও কার্ড ইস্যু করা হবে। এই কার্ড দিয়ে যারা পণ্য নিবে তারা আর এক সপ্তাহের মধ্যে পণ্য পাবে না।