কিশোরগঞ্জে দাওয়াত খাওয়াতে নিয়ে শিশুকে গণধর্ষণ; অপহরণের মিথ্যা অভিযোগ

2 months ago
6:07 pm
381
অন্যান্য নারী ও শিশু কিশোরগঞ্জে দাওয়াত খাওয়াতে নিয়ে শিশুকে গণধর্ষণ; অপহরণের মিথ্যা অভিযোগ

কিশোরগঞ্জে দাওয়াত খাওয়াতে নিয়ে গিয়ে ১২ বছরের এক শিশুকে গণধর্ষণ করেছে আতাউর রহমান আতিক (৪৫) ও আনিছ নামে দুই ব্যক্তি। ঘটনা ধামাচাপা দিতে র‍্যাব-১৪ সিপিসি-২ কিশোরগঞ্জ ক্যাম্পে একটি মিথ্যা অপহরণের অভিযোগও করে ধর্ষণকারী আতিক। মিথ্যা অভিযোগ করেও শেষ রক্ষা হল না আতিকের। র‍্যাবের তদন্তে বেরিয়ে আসে মূল ঘটনা। রবিবার (০৩ এপ্রিল) দিবাগত রাতে সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া এলাকা থেকে গ্রেফতার হয় আতাউর রহমান আতিক। আতিক কটিয়াদী উপজেলার বাগবের গ্রামের মৃত সুন্দর আলীর পুত্র। এ ঘটনায় অন্য আসামি আনিছকে গ্রেফতার করতে র‍্যাবের অভিযান অব্যাহত আছে।

র‍্যাব জানায়, গত ৩১ মার্চ আতিক দাওয়াত খাওয়ানোর জন্য নির্যাতিত শিশু ও তার বড় ভাইকে কিশোরগঞ্জ সদরে আনিছের বাসায় নিয়ে আসে। এদিকে আনিছ ও আতিক পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী শিশুটির সাথে অসৎ কার্য সম্পাদনের উদ্দেশ্যে প্রস্তূতি নিয়ে রাখে। আতিক বাচ্চাদেরকে নিয়ে আনিছের বাসায় যাবার পর বাচ্চাদেরকে চেতনা নাশক ঔষধ মিশ্রিত দই ও মিষ্ট খেতে দেয় আনিছ। মিষ্টি ও দই খাওয়ার পরপরই নির্যাতিত শিশু ও তার বড় ভাই অজ্ঞান হয়ে যায়।

জ্ঞান ফিরলে শিশুটি দেখে আতিক তার সাথে অসৎ কাজ করছে। শিশুটি আপত্তি জানালে আনিছ তাকে ধারালো ছুরির ভয় দেখায়। পরে আতিক ও আনিছ উভয়ই শিশুটির উপর শারীরিক নির্যাতন চালায়।

ঘটনাটি জানাজানি হয়ে গেলে গ্রাম সালিশের মাধ্যমে আতিককে তিন লক্ষ টাকা জরিমানা করে বিষয়টি সমাধান করার চেষ্টা করা হয়। আতিক টাকা পরিশোধ না করে এলাকা থেকে পালিয়ে যায়। অপরদিকে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকলে আতিকের প্রতিবেশী রুবেল তাকে নিয়ে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসে।

র‍্যাব আরও জানায়, রুবেল নির্যাতিত শিশুটির পক্ষ থেকে আতিকের কাছে জরিমানার টাকা দাবি করলে আতিক র‍্যাব-১৪, সিপিসি-২, কিশোরগঞ্জ ক্যাম্পে এসে অপহরণের একটি মিথ্যা অভিযোগ করে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত শুরু করলে বেড়িয়ে আসে থলের বিড়াল।

র‍্যাব- ১৪ (সিপিসি- ২) কিশোরগঞ্জ ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর মোঃ শাহরিয়ার মাহমুদ খান জানান, আতিক ও আনিছের বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় নারী ও শিশু দমন আইন ২০০০ সনের (সংশোধনী ২০০৩) এর ৯(৩) ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামীকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় জড়িত অপর আসামী আনিছকে ধরার জন্য র‍্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।