করোনা নিয়ে গ্রামীণ মানুষের ভাবনা

4 months ago
3:22 pm
163
অন্যান্য খোলামত করোনা নিয়ে গ্রামীণ মানুষের ভাবনা

সময়টা ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসের শেষের দিক। চীনের উহান শহরে হানা দেয় প্রাণঘাতী ভাইরাস করোনা। অত্যন্ত দ্রুততায় ছড়িয়ে পড়ে চীনসহ ইউরোপ আমেরিকার বিভিন্ন দেশে। কিন্তু তখনো বাংলাদেশের গ্রামের মানুষ জানতো না করোনা কি। কিছুদিনের মধ্যেই ভাইরাসটি ইউরোপ-আমেরিকায় মারাত্মক আকার ধারণ করতে থাকে। পরবর্তীতে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে আক্রমণ শুরু হয়ে যায়। যার রোষানল থেকে রক্ষা পায়নি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ৮ মার্চ প্রথম করোনা সনাক্ত হয়। তখন থেকেই গ্রামের মানুষ করোনা সম্পর্কে কিছুটা জানতে শুরু করে। কিন্তু তখনো তাদের মাঝে সচেতনতা আর কোনো প্রভাব লক্ষ করা যায়নি।

আমাদের দেশে প্রথমে ধীরগতিতে রোগীর সংখ্যা বাড়লেও পরবর্তীতে তা দ্রুত গতিতে রূপ নেয়। যদিও করোনা প্রথমে গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে অধিকহারে বিস্তার লাভ করতে থাকে। যার কারণে গ্রামের মানুষের অসচেতনতার শিকড় আরো মজবুত হয়। তারা মনে করতে থাকে ভাইরাস তো শহরে আমাদের এত আগে সচেতন হয়ে লাভ কি। গ্রামের কিছু শিক্ষিত সুশীল সমাজের লোকজন মাস্ক, গ্লাভস পরিধান করে তাদের পার্সোনাল প্রটেকশন নিশ্চিত করতে চাইলে তারাও অসচেতন মানুষের ছোবলে পড়ে। অসচেতন মানুষদের চোখের চাহনি তাদের মনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে দেয় । এক সময় করোনা সংক্রমণ কমিউনিটি ট্রান্সমিশন পর্যায়ে পৌঁছে যায়। যার ফলে করোনা গ্রাম গ্রামান্তরে ছড়াতে থাকে। কিন্তু তখনও গ্রামীণ মানুষের মনে বিভ্রান্ত ধারণা থেকেই যায়। তারা চিন্তা করে অন্য গ্রামে সংক্রমিত হয়েছে কিন্তু আমাদের গ্রামে তো সংক্রমণ হয়নি !

ধীরে ধীরে যখন নিজেদের গ্রামে সংক্রমণ পৌঁছে যায় তখন তারা বলে আল্লাহ যেভাবে মৃত্যু রেখেছেন সেভাবেই হবে। আল্লাহ আমাদের রক্ষা করবেন সেটা ঠিক আছে কিন্তু তার জন্য তো কোনো না কোনো উছিলা প্রয়োজন হয়। সেজন্য আমাদের মধ্যে ন্যূনতম সচেতনতা থাকা দরকার। এই সচেতনতার অভাবে পুরো বাংলাদেশই এখন হুমকির সম্মুখীন। কেউ জানে না কখন শেষ হবে এই তাণ্ডবলীলা, কখন আবার বাংলার মানুষ একে অপরের কাঁধে হাত রেখে নেমে পড়বে বাংলার অর্থনীতির ভিত্তি মজবুত করার কাজে, কখন আবার উন্নয়নশীল দেশের রোল মডেলে পরিণত হবে বাংলাদেশ।

লেখক:
সোহানুল ইসলাম সরকার
ফার্মেসি বিভাগ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়