কটিয়াদীতে মাথা গোজার ঠাঁই চান গৃহহীন মুক্তিযোদ্ধা পরিবার

4 weeks ago
8:50 pm
259
অন্যান্য বিশেষ প্রতিবেদন কটিয়াদীতে মাথা গোজার ঠাঁই চান গৃহহীন মুক্তিযোদ্ধা পরিবার

কল্পনা আক্তার (৪২)। তার বাবা প্রয়াত ওয়াহিদ খান ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। শুধু তাই নয়, তিনি অত্র অঞ্চলে একজন চৌকষ কমান্ডার হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। একসময় মেয়ে কল্পনাও নানা স্বপ্ন দেখতেন। কিন্তু সে স্বপ্নগুলো হঠাৎ ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। গত ২৬ বছর পূর্বে তার বাবা প্রয়াত ওয়াহিদুজ্জামান খান অসুস্থতাজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। এরপর থেকেই অভাব-অনটনে দিন কাটে এ পরিবারটির।

  • অবহেলিত মুক্তিযোদ্ধা পরিবার

  • বছর শেষে দুই প্যাকেট বিরিয়ানি তাদের উপহার

  • মাথা গোজার ঠাঁই পরিবারটির স্বপ্ন

জানা গেছে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে জীবন বাজি রেখে দেশের হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন টগবগে যুবক ওয়াহিদুজ্জামান খান। ২৬ বছর আগে অসুস্থতাজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা। দেশ স্বাধীনের ৫০ বছর পরেও মাথা গোজার ঠাঁই মেলেনি প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের। নিজস্ব কোনো ভিটেবাড়ি না থাকায় অস্থায়ীভাবে কটিয়াদী পৌরসভায় আওয়ামী লীগ অফিসের পাশে একটি জরাজীর্ণ টিনের ঘরে বসবাস করছেন তারা।

ওয়াহিদুজ্জামানের স্ত্রী মিনা আক্তার জানান, নিজস্ব ভিটেবাড়ি না থাকায় কটিয়াদী পৌরসভার আওয়ামী লীগ অফিসের পাশে অস্থায়ী জমিতে দুচালা একটি টিনের ঘরে বসবাস করছেন তারা। স্বামী মৃত্যুর পর মুক্তিযোদ্ধা ভাতার টাকা দিয়ে কোনো রকম সংসার চলছে তার। চার ছেলে-মেয়ের মধ্যে তিনজনের বিয়ে হয়ে গেছে। বর্তমানে তার ছোট মেয়ে কল্পনা আক্তারকে নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে মিনা আক্তারের। প্রয়াত কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা ওয়াহিদুজ্জামান খানের কথা শুনেই হাউ মাউ করে কান্না শুরু করেন তিনি। তার মৃত্যুর পর এ পরিবারটির খোঁজ রাখেনি কেউ। বর্তমানে একটি ঘরের অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ওয়াহিদুজ্জামানের পরিবার।

স্থানীয়রা বলছেন, দুচালা টিনের ঘরটিও বর্তমানে বসবাসের অনুপযোগী। কয়েকদিনের বৃষ্টিপাত হলে সেটি বেহাল দশায় পরিণত হয়। কল্পনার বাবা মৃত্যুর পর কেউ তাদের খোঁজও নেননি। বর্তমানে তার বাবার সরকারি সম্মানীর টাকায় কোনো রকম খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে তাদের। তারা জানান, নিজস্ব কোনো ভিটেবাড়ি না থাকায় মা মিনা আক্তারকে নিয়ে অনিশ্চয়তায় মধ্যে দিন কাটে।

কল্পনা আক্তারের মা ও মুক্তিযোদ্ধা ওয়াহিদুজ্জামান খানের স্ত্রী মিনা আক্তার বলেন, ‘২৬ বছর আগে আমার স্বামী মৃত্যুবরণ করেন। আমাদের কোনো বাড়িঘর নেই। অস্থায়ী জায়গায় একটি ছোট ঘর তুলে কোনো রকমে বসবাস করছি। বৃষ্টি হলে ঘরের ভেতরে পানি ওঠে। সরকারিভাবে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ও বছরে দুটি অনুষ্ঠানে সামান্য উপহার ও বিরিয়ানি প্যাকেট ছাড়া আর কিছুই পাই না।’

সরকারের প্রতি আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি জানান, ‘আমাদের খোঁজখবরও কেউ নেয় না। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমি একটি সরকারি ঘর ও আমার মেয়ের ব্যবসা করার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা চাই।’

মুক্তিযোদ্ধা কন্যা কল্পনা আক্তার বলেন, ‘আমাদের ভিটেবাড়ি নেই। একটি ঘর দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান তিনি।’

স্থানীয় বাসিন্দা জায়েদ আলী বলেন, ‘ওয়াহিদুজ্জামান খান যুদ্ধকালীন কমান্ডার ও প্রথম নির্বাচিত কটিয়াদী থানা কমান্ডার ছিলেন। তার পরিবারের কোনো বাড়িঘর নেই।’

বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান ও শহিদুল্লাহ জানান, ‘ওয়াহিদুজ্জামান একজন চৌকষ থানা কমান্ডার ছিলেন। তার পরিবারের এখন দুরবস্থা। তার ভিটেবাড়ি নেই। এই পরিবারকে একটি সরকারি জায়গা ও বাড়ি তৈরি করে দেওয়ার দাবি জানান তারা।’

কটিয়াদী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ডা. মুশতাকুর রহমান জানান, ‘বিশেষ বিবেচনায় প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা ওয়াহিদুজ্জামানের পরিবারটিকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে।’