প্রথাগত বিচার ব্যবস্থার বাইরে বিকল্প পদ্ধতিতে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ

1 month ago
4:14 pm
68
পজিটিভ বাংলাদেশ প্রথাগত বিচার ব্যবস্থার বাইরে বিকল্প পদ্ধতিতে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ

শেরপুর জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির নির্দেশনায় ইউএসএআইডি’র প্রমোটিং পিস এন্ড জাস্টিস (পিপিজে) এ্যাক্টিভিটির অর্থায়নে এবং ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল এর বাস্তবায়নে শ্রীবরদী উপজেলা লিগ্যাল এইড কমিটি এবং ডেমোক্রেসি ওয়াচ এর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় সরকারি খরচে আইনগত সহায়তা প্রদান বিষয়ক মতবিনিময় সভা ও প্রাতিষ্ঠানিক গণশুনানী শ্রীবরদী উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত শনিবার (০৫ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় ও প্রাতিষ্ঠানিক গণশুনানীতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেরপুর জেলা ও দায়রা জজ এবং জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আল মামুন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ তোফায়েল আহমেদ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিলুফা আক্তার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মঞ্জুর আহসান, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মুখলেছুর রহমান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আনোয়ার হোসেন প্রমুখ। অনুষ্ঠানটিতে সভাপতিত্ব করেন শ্রীবরদী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এবং উপজেলা লিগ্যাল এইড কমিটি এ. ডি. এম শহিদুল ইসলাম।

সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সহকারী জজ এবং জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির সদস্য সচিব মোঃ জুলফিকার হোসাইন রনি। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার অসহায় ও অসচ্ছল ব্যক্তিদের দ্রুততম সময়ে ন্যায় বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০ প্রণয়ন করেছেন। এই আইনের সুফল জনগণ পেতে শুরু করেছে। প্রথাগত সাংঘর্ষিক বিচার ব্যবস্থায় না গিয়ে বিকল্প পদ্ধতিতে বিরোধ নিষ্পতিতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখছে জেলা লিগ্যাল এইড অফিস। তিনি আরও জানান, বিগত ০১/০৪/২০১৯ হতে ০৩/১২/২০২০ খ্রিঃ পর্যন্ত শেরপুর জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে মামলার জন্য আবেদন এসছে ৫১৯ টি, মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে ১৯৭ টি। পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে ১২৭৬ জন কে। এডিআর এর আবেদন এসেছে ৪৫৫ টি, এডিআর সফল হয়েছে ৩০৫ টি, নথিজাত হয়েছে ৭৩ টি। ৭৭ টি আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এডিআর এর ফলে মামলা মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে ৪৫৩ টি। এছাড়া এডিআর এর মাধ্যমে মোট ২,৫২,২৫,০০০/- (দুই কোটি বায়ান্ন লক্ষ পঁচিশ হাজার) টাকা আদায় করে পক্ষগণের মধ্যে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। উল্লেখিত সময়ে বিজ্ঞ প্যানেল আইনজীবীদের মামলা পরিচালনার ফি পরিশোধ করা হয় মোট ৫,৭০,২৫০/- (পাঁচ লক্ষ সত্তর হাজার দুইশত পঞ্চাশ) টাকা।

প্রধান অতিথি জেলা ও দায়রা জজ এবং জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আল মামুন বলেন, উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় দুর্নিবার গতিতে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। সে অগ্রযাত্রায় বিচার বিভাগও সামিল হয়েছে। প্রথাগত বিচার ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে বিকল্প পদ্ধতিতে বিরোধ নিষ্পত্তির যে সুযোগ বা ক্ষেত্র তৈরী হয়েছে তা সময়োপযোগী। যার সুফল ইতিমধ্যে শেরপুরবাসী পেতে শুরু করেছে।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এই মতবিনিময় সভা এবং প্রাতিষ্ঠানিক গণশুনানীর মাধ্যমে এ আয়োজনের সাথে যারা যুক্ত হয়েছেন তারা প্রায় সকলেই যদি দায়িত্ববান হন তাহলে অধিক জনগোষ্ঠীর মাঝে লিগ্যাল এইড বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি সম্ভব। তিনি আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

এ সময় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ তোফায়েল আহমেদ লিগ্যাল এইড অফিসের কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে লিগ্যাল এইড সংক্রান্তে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং উপজেলা লিগ্যাল এইড কমিটির সদস্য সচিব নিলুফা আক্তার লিগ্যাল এইড বিষয়ে প্রচারণার উপর গুরুত্বারোপ করেন এবং এ মতবিনিময় সভার মাধ্যমে উপজেলা এবং ইউনিয়ন লিগ্যাল এইড কমিটির কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে মর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।