আস্থা ফিরেছে বাজিতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে; সেবায় সন্তুষ্ট রোগী

2 weeks ago
12:48 pm
186
পজিটিভ বাংলাদেশ আস্থা ফিরেছে বাজিতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে; সেবায় সন্তুষ্ট রোগী

চিকিৎসকরা মানুষের জীবন রক্ষায় কাজ করেন। মানব সেবার শপথ নিয়েই চিকিৎসকদের চিকিৎসা পেশায় প্রবেশ করতে হয়। রোগীর পাশে বিশ্বস্ত বন্ধুর মতো দাঁড়াতে হয় চিকিৎসকদের। শুধু চিকিৎসা প্রদান নয়, মুখের একটু কথাতেও অনেক সময় রোগী সুস্থবোধ করেন। চিকিৎসক এবং রোগীর মধ্যে যোগাযোগের ঘাটতির কারণে অনেক সময় ভুল বোঝাবুঝির ঘটনা ঘটে। তখন একে অপরের প্রতি দোষারোপের ঘটনা ঘটে। রোগীরা চিকিৎসা নিতে এসে চিকিৎসক আর কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা না পেলে রোগী এবং তার পরিবারের জন্য যে তা কতটা যন্ত্রণার তা কি আমাদের চিকিৎসকরা ভাবেন? হ্যাঁ ভাবেন। ভাবেন বলেইতো মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়ার অঙ্গীকারে বদলে গেছে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

বাজিতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সিনথিয়া তাসমিনের দক্ষ ব্যবস্থাপনায় অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়েও রোগীরা এখন আন্তরিকতাপূর্ণ সেবা পাচ্ছেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ১৫ জন চিকিৎসক কর্মরত রয়েছেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে সমন্বয় করে তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে নানা সংকট মোকাবিলার মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে চলেছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগ, আন্তঃবিভাগ এবং বহিঃবিভাগের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনসহ সার্বিক কার্যক্রম তদারকির মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতের ইতিহাসে এক অনন্য সুন্দর সফলতা বয়ে এনেছেন বলে আখ্যা দিচ্ছে স্থানীয়রা। জানা গেছে, বাজিতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আওতায় উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র ও কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ এবং সকলের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন। এমনকি ৩-৪টি কমিউনিটি ক্লিনিকে বিদ্যুত সংযোগের ব্যবস্থাও করে দিয়েছেন তিনি।

সূত্র জানায়, গত বছরের অক্টোবরে ডাঃ সিনথিয়া তাসমিন বাজিতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেন। যোগদানের পরেই ইসিজি, আলট্রাসনোগ্রাফি চালু করেন। গত মাসে চুনারুঘাট ও বান্দরবান থেকে ওটি ইনস্ট্রুমেন্ট এনে চালু করেছেন বিনামূল্যে সিজার অপারেশন। একসময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থাকতো অন্ধকারাচ্ছন্ন, এখন জ্বলছে সোলারের আলো। ল্যাম্পপোস্টের আলোয় ঝলমল করে উঠে চারপাশ। রোগী এবং তাদের সাথে আসা আত্মীয় স্বজনদের সুপেয় পানি পান করার জন্য ব্যবস্থা করেছেন এক হাজার ফিটের একটি কল। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রান্না ঘরের দৃশ্যও পাল্টে গেছে। অন্যদিকে দালালদের দৌরাত্ম্যও থেমে নেই। রোগী ভর্তি থেকে শুরু করে ওষুধ কিনতে এবং বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতেও দালালের ফাঁদে পড়ছেন রোগীর স্বজনরা। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকেই টার্গেট করা হয় রোগীদের। এরপর ওয়ার্ড পর্যন্ত পিছু নেয় এসব দালাল। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার প্রলোভন দেখিয়ে ভৈরবের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে নিয়ে যায় অসহায় রোগীদের।

কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দৃশ্যপট একেবারে পাল্টে দিয়েছেন বর্তমান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। তিনি এখানে যোগদানের পর থেকে হাসপাতালে রোগীদের খাবার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ নানামুখী সৃজনশীল কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তাছাড়া রাত অবধি এই কর্মকর্তাকে হাসপাতালে কর্মব্যস্ত সময় পার করতেও দেখা গেছে। আসলে চিকিৎসকদের একটু দরদি স্পর্শ, একটু সহানুভূতি, একটু হাসিমাখা মুখের কথায় জটিল ও কঠিন ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তিকেও আশাবাদী করে তোলে, রোগযন্ত্রণা ভুলিয়ে দেয়।

বিনামূল্যে সিজার অপারেশন করা রোগী মুক্তা (২২) এর স্বজনরা জানান, বিনামূল্যে সিজার অপারেশন করতে পারায় আমরা খুব খুশি। কারণ আমাদের পক্ষে ১৫-২০ হাজার টাকা যোগাড় করা সম্ভব হতো না।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একাধিক স্বাস্থ্যকর্মী জানান, কিভাবে আরও সহজে প্রতিটি ইউনিয়ন, ওয়ার্ড এবং গ্রাম পর্যায়ে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা যায়- এ ব্যাপারে প্রতিনিয়ত সভা-সমাবেশের মাধ্যমে তাদের সঠিক দিকনির্দেশনা এবং পরামর্শ প্রদান করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সিনথিয়া তাসমিন। এখানের স্বাস্থ্যকর্মীরা তাদের কর্মকর্তার সৃজনশীল ভাবনা এবং উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।

বাজিতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সিনথিয়া তাসমিন বলেন, ‘মুজিব বর্ষে স্বাস্থ্য খাত, এগিয়ে যাবে অনেক ধাপ’। এই স্লোগানের মাধ্যমে একটি পরিকল্পনা করি কীভাবে এই হাসপাতালের পরিবর্তন আনা যায়। পরিকল্পনার অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছি।

ডাঃ সিনথিয়া তাসমিন বলেন, সকল চিকিৎসক এবং অন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা, উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সকলের সার্বিক সহযোগিতায় আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি সেবার মান বৃদ্ধিসহ হাসপাতালের উন্নয়ন এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে।