কলম২৪ প্রতিবেদক
আমি এখন পর্যন্ত দুইবার মাহফিলে গিয়েছি, বিশেষ করে কৌতূহল থেকে জানার ও বোঝার জন্য। প্রথমেই পরিষ্কার করে নিচ্ছি, আমি পীর সাহেবের মুরিদও নই, আবার তাদের দলেরও কেউ নই। শুধুই আগ্রহ থেকে তাদের বিষয়ে সঠিক ধারণা পাওয়ার জন্য সেখানে গিয়েছি। পরে যখন তাদের ভালো কাজগুলো দেখলাম, তখন থেকেই পীর সাহেবের সাথে আমার জানাশোনার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আমি প্রবল আগ্রহ নিয়ে তাদের কাজ এবং মাহফিল নিয়ে নিজস্বভাবে চিন্তা করতাম। কিন্তু মনে হলো, সরাসরি না দেখে অনুমাননির্ভর ধারণা সঠিক হবে না। তাই সরেজমিনে গিয়ে পরিদর্শন করে খুঁটিনাটি দেখে এই লেখা লিখলাম।
মাহফিলের পরিবেশ, নিরাপত্তা এবং স্বেচ্ছাসেবকদের কাজ দেখে মনে হলো যেন ভুল করে কোনো ইসলামী দেশে চলে এসেছি। সবকিছুই ধর্মীয় পরিবেশে পরিচালিত হয়। তিন দিন অবস্থান করে মানুষের সাথে কথা বলে বুঝলাম, আসলেই এটি হচ্ছে দিল পচে দুর্গন্ধ ছড়ানো মানুষকে আতরের ঘ্রাণে সাজিয়ে তোলার প্রচেষ্টা। আল্লাহ ও ইসলামবিমুখ মানুষকে ইসলাম ও দ্বীনের পথে আনার এক মহাজাগরণ।
যেভাবে ময়লা কাপড় লন্ড্রিতে ধোয়া হয়, তেমনি ওয়াজ-নসিহতের মাধ্যমে মানুষকে আল্লাহ ও ইসলামের পথে আনার চেষ্টা চলে। এবং এর মাধ্যমে মানুষের বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটে।
বরিশালের চরমোনাই ইউনিয়নে ঐতিহাসিক চরমোনাই মাহফিল চলমান রয়েছে । আশপাশের ১০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ৭টি সুবিশাল মাঠে ৩ দিনব্যাপী এই মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। মাঠের আয়তন অনুযায়ী আনুমানিক অর্ধকোটি মানুষের এক মহামিলনের সমারোহ ঘটে।
নিরাপত্তা, মাইকিং, লাইটিং থেকে শুরু করে হাসপাতাল—সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন অন্তত ২০ হাজার নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক। প্রতি বছর মাহফিলের পরিধি বেড়েই চলেছে। চরমোনাই কামিল মাদ্রাসার আয়োজনে ও বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটির তত্বাবধানে এটি অনুষ্ঠিত হয়। দেশ-বিদেশের নামকরা ইসলামী স্কলার ও আলেম-ওলামারা এতে অংশ নেন।
নদীর পাড়ের শান্ত গ্রামটি আল্লাহ আল্লাহ জিকিরে মুখরিত হয়ে ওঠে, যেন সন্ধ্যাবেলার পাখির কলকাকলি। দেশের সব জেলা-উপজেলা থেকে মানুষ জামাত নিয়ে আসেন। জীবনে একবার হলেও এই মাঠে যিনি তিন দিন অবস্থান করবেন না, তিনি ইসলামী ভাবগাম্ভীর্য ও সৌন্দর্য দেখা ও অনুধাবন থেকে বঞ্চিত হবেন।
শুক্রবার যেন মৌমাছির মতো ছুটে আসেন মানুষ। নদীপথে ট্রলার ও লঞ্চের লাইন, সড়কপথে বিরামহীন গাড়ির আগমন। টুপি-পাঞ্জাবি পরিহিত মানুষের স্রোত এসে মিশে মাহফিলের মাঠে। এ এক অন্যরকম পরিবেশ, যা নিজ চোখে না দেখলে অনুধাবন করা সম্ভব নয়।
একে অপরের প্রতি আন্তরিকতা চোখে পড়ার মতো, যেন সবাই এক মায়ের সন্তান। পথে পথে চলার সময় মানুষ আল্লাহর জিকির করতে থাকে। তিন দিনের মধ্যে নামাজ ছাড়া বাকি কোনো সময়ই যেখানে আল্লাহর জিকির বন্ধ হয় না। প্রতি ওয়াক্ত জামাতে নামাজ আদায় করা হয় মাঠে। চলে তালিম, নামাজ শিক্ষা এবং কোরআন শিক্ষা
লেখক
ছাইদুর রহমান নাঈম
গণমাধ্যমকর্মী
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : এনামুল হক আরমান
ফোন : +8801609378100, ই-মেইল: kolom24news@gmail.com