১৬ এপ্রিল ২০২৬
preview
‘শুধু মৌলবাদ নয়, উপসংস্কৃতির অবসান ঘটাতে হবে’: অমিত রঞ্জন দে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে বলেছেন, আমরা শেকড় থেকে বিচ্ছিন্ন হতে চাই না। আমাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও চর্চার মধ্যেই রয়েছে বাঙালির আত্মপরিচয়। তাই এই শেকড়কে ধরে রেখেই সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

গেল মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) কলম২৪ ডটকমকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি শুধু মৌলবাদ নয়, সমাজে বিদ্যমান সব ধরনের কুসংস্কার ও উপসংস্কৃতির অবসানের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

অমিত রঞ্জন দে বলেন, ‘শুধু মৌলবাদ নয়, মৌলবাদ, কুসংস্কার এবং উপসংস্কৃতির অবসান ঘটাতে হবে। একটি সুস্থ, মানবিক ও প্রগতিশীল সমাজ গড়তে হলে এসব প্রতিবন্ধকতার বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে দাঁড়ানো জরুরি। তিনি মনে করেন, সংস্কৃতিচর্চা ও সচেতনতার মাধ্যমেই এসব নেতিবাচক প্রবণতা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।’

তিনি বাংলা নববর্ষ ও মঙ্গল শোভাযাত্রার গুরুত্ব তুলে ধরেন। বলেন, ‘এই নববর্ষ আমাদের যে মঙ্গল শোভাযাত্রা উপহার দিয়েছে, তা এখন আর কেবল উৎসব বা বিনোদনের অংশ নয়; এটি আমাদের ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তার মতে, এই শোভাযাত্রা বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনা, সাম্য ও মানবিকতার প্রতীক হিসেবে বিশ্বজুড়ে স্বীকৃতি পেয়েছে।’

‘মঙ্গল শোভাযাত্রা এখন আর দেশের সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই’ জানিয়ে অমিত রঞ্জন দে আরও বলেন, এটি বাংলাদেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাঙালিরাও এই আয়োজনের মাধ্যমে নিজেদের শেকড়ের সঙ্গে সংযুক্ত থাকার চেষ্টা করছেন।

তিনি মনে করেন, এই ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন নতুন প্রজন্মকে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত করাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি এটি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের ক্ষেত্রেও সহায়ক।

সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেন, সংস্কৃতির শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সমাজ থেকে বিভাজন, অসহিষ্ণুতা ও অন্ধ বিশ্বাস দূর করা সম্ভব। এজন্য রাষ্ট্র, সমাজ ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। বাঙালি তার শেকড়, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ধারণ করেই এগিয়ে যাবে এবং একটি প্রগতিশীল, মানবিক ও কুসংস্কারমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে সক্ষম হবে, বলেন তিনি্


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : এনামুল হক আরমান

ফোন : +8801609378100, ই-মেইল: kolom24news@gmail.com