স্পেশাল করেসপনডেন্ট, ঢাকা
রান্নাঘরের এক কোনে রাখা অ্যালুমিনিয়ামের পুরোনো থালা। সেই এক থালাতেই দুপুরের খাবার ভাগ করে খান পরিবারের পাঁচ সদস্য। ভাতের সঙ্গে কখনও আলু ভর্তা, কখনও শুধু ডাল। তবুও থালার চারপাশে বসে থাকে এক ধরনের নীরব বোঝাপড়া—যেন কম খাবারটুকুও সবাই মিলে ভাগ করে নিলেই ক্ষুধা কিছুটা কম লাগে।
রাজধানীর বিভিন্ন বস্তি ও নিম্নআয়ের মানুষের এলাকায় এখন এমন দৃশ্য অনেকটাই পরিচিত। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে অনেক পরিবারে আলাদা প্লেটে খাবার পরিবেশন যেন বিলাসিতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংসারের আয় কমে যাওয়ায় এক প্লেটেই চলছে বাবা-মা আর সন্তানদের খাবার ভাগাভাগি।
মিরপুরের একটি বস্তিতে বসবাসকারী রিকশাচালক হেলাল উদ্দিন বলেন, “আগে সবার জন্য আলাদা থালা ছিল। এখন একসঙ্গে খাই। এতে খাবার কম লাগে মনে হয়, বাচ্চারাও বুঝতে পারে কেমন করে চলতে হয়।”
একই চিত্র কুড়িল, মোহাম্মদপুর ও যাত্রাবাড়ীর বিভিন্ন নিম্নআয়ের পরিবারেও। অনেক মা নিজের অংশের খাবার সন্তানদের দিকে এগিয়ে দিচ্ছেন নীরবে। কোথাও কোথাও পরিবারের ছোট শিশুরা বুঝেই গেছে—একটু বেশি খেলে হয়তো রাতে আর খাবার জুটবে না।
সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি শুধু দারিদ্র্যের চিত্র নয়; বরং টিকে থাকার এক কঠিন মানসিক অভিযোজন। অভাবের সংসারে এক প্লেটে খাওয়ার মধ্যে যেমন রয়েছে পারিবারিক ঘনিষ্ঠতা, তেমনি লুকিয়ে আছে না-পারা আর না-খেতে পারার কষ্টও।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিম্নআয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর বাজার নিয়ন্ত্রণ ও খাদ্য সহায়তা বাড়ানো জরুরি। নয়তো “এক থালার জীবন” ভবিষ্যতে আরও অনেক পরিবারের বাস্তবতায় পরিণত হবে।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : এনামুল হক আরমান
ফোন : +8801609378100, ই-মেইল: kolom24news@gmail.com