নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
ফেনীতে জন্মগতভাবে পায়ের পাতা বাঁকা বা মুগুর পা (ক্লাবফুট) নিয়ে জন্মানো শিশুদের চিকিৎসার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং সামাজিক কুসংস্কার দূরীকরণে অভিভাবকদের নিয়ে এক বিশেষ সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সম্প্রতি ফেনীর তেমুহনীস্থ আলাবক্স স্পেশালাইজড ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা সেন্টারে ওয়াক ফর লাইফ প্রকল্পের অধীনে এই প্যারেন্টস গ্রুপ মিটিং অনুষ্ঠিত হয়।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইউনাইটেড পারপাস-এর বাস্তবায়নে এবং মিরাকেলফিট-এর আর্থিক সহযোগিতায় আয়োজিত এই সভায় ১০ জন আক্রান্ত শিশুর মোট ২০ জন অভিভাবক (১২ জন নারী ও ৮ জন পুরুষ) উপস্থিত থেকে তাদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, লড়াই ও আবেগঘন অনুভূতি বিনিময় করেন।
সভায় আলোচকগণ ক্লাবফুট চিকিৎসায় অভিভাবকদের মানসিক শক্তি, সঠিক সময়ে সঠিক প্রোটোকল মেনে চলা এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
সভার প্রধান ফ্যাসিলিটেটর হিসেবে সংস্থার ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর সুমিত বণিক অভিভাবকদের মানসিক শক্তি জোগাতে এবং চিকিৎসার ধারাবাহিকতা রক্ষার তাগিদ দিয়ে বলেন, "এই আলোচনা সভার মূল উদ্দেশ্য হলো ক্লাবফুট আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা ও লালন-পালনে অভিভাবকদের অভিজ্ঞতা, চ্যালেঞ্জ ও মানসিক শক্তির গল্প একে অপরের সাথে ভাগাভাগি করা। একসাথে আলোচনা করে চিকিৎসার বাধাগুলোর সম্মিলিতভাবে সমাধানের পথ খুঁজে বের করা এবং নতুন অভিভাবকদের সঠিক দিকনির্দেশনা ও সাহস জোগানো। পাশাপাশি সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধি করে ক্লাবফুট সম্পর্কে কুসংস্কার ও অবহেলা দূর করার জন্য শক্তিশালী বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, আপনাদের সম্মিলিত সচেতনতাই পারে প্রতিটি শিশুকে সুস্থ ও সুন্দর জীবন উপহার দিতে।"
সভার কারিগরি সেশনে পনসেটি মেথডের খুঁটিনাটি এবং চিকিৎসার বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব তুলে ধরে পনসেটি প্র্যাকটিশনার ও ফিজিওথেরাপিস্ট মো. সাইফুদ্দীন জুলফিকার বলেন, “ক্লাবফুট নিরাময়ে পনসেটি পদ্ধতি বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত কার্যকর ও স্বীকৃত। তবে প্লাস্টার খোলার পর নিয়মিত ব্রেস ব্যবহার ও ফলোআপ বজায় রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সামান্য অবহেলাও পুনরায় পা বেঁকে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। তাই শিশুর সুস্থ ভবিষ্যতের জন্য চিকিৎসার সব নির্দেশনা আন্তরিক ও যত্নের সাথে মেনে চলতে হবে।”
উন্মুক্ত আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্বে অভিভাবকরা দাতা সংস্থা মিরাকেলফিট ও ইউনাইটেড পারপাসকে ধন্যবাদ জানিয়ে এবং তাদের মনের না-বলা কষ্টগুলো বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। দরিদ্র পরিবারগুলোর মায়েরা জানান, একদিকে আর্থিক অনটন এবং অন্যদিকে পরিবার ও সমাজের মানুষের অসহযোগিতা ও নেতিবাচক মন্তব্য তাদের অনেক সময় মানসিকভাবে ভেঙে দেয়। প্লাস্টার পরবর্তী সময়ে শিশুকে দীর্ঘক্ষণ বিশেষ জুতা (ব্রেস) পরিয়ে রাখার চ্যালেঞ্জটির কথাও তারা উল্লেখ করেন। তবে সকল প্রতিকূলতা জয় করে উপস্থিত সকল অভিভাবকই সন্তানের সুস্থ ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে সঠিক চিকিৎসা প্রোটোকল মেনে চলার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পরিশেষে, ক্লাবফুট আক্রান্ত শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যৎ কামনায় এবং ইউনাইটেড পারপাস-এর চলমান সহায়তা কার্যক্রমের নানামুখী তথ্য প্রদানের মাধ্যমে এই বিশেষ সচেতনতামূলক সভার সমাপ্তি ঘটে। উল্লেখ্য, ওয়াক ফর লাইফ প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরে দেশব্যাপী ক্লাবফুট নির্মূলে সচেতনতা বৃদ্ধি ও সুলভে আধুনিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : এনামুল হক আরমান
ফোন : +8801609378100, ই-মেইল: kolom24news@gmail.com