ডেস্ক রিপোর্ট
লন্ডনে অনুষ্ঠিত হাসনাতের একটি অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত আলবদর নেতা চৌধুরী মঈনুদ্দীনের উপস্থিতি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক কর্মী ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট শাহীন আরা সুলতানা।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানান।
চৌধুরী মঈনুদ্দীন ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী আলবদর বাহিনীর অন্যতম শীর্ষ সংগঠক হিসেবে অভিযুক্ত ছিলেন। ২০১৩ সালে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল একাত্তরের বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার দায়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন।
তথ্য অনুযায়ী, মুক্তিযুদ্ধের সময় মঈনুদ্দীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ছাত্র ছিলেন এবং তৎকালীন ইসলামী ছাত্রসংঘের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপিত অভিযোগে বলা হয়, সাংবাদিকতার আড়ালে তিনি আলবদর বাহিনীর জন্য বুদ্ধিজীবীদের তালিকা প্রস্তুত এবং তাদের অবস্থান শনাক্ত করার কাজে সম্পৃক্ত ছিলেন।
ট্রাইব্যুনালের রায়ে উল্লেখ করা হয়, মঈনুদ্দীন আলবদর বাহিনীর ‘অপারেশন ইনচার্জ’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। তার সহযোগী আশরাফুজ্জামান খানকে বাহিনীর ‘চিফ এক্সিকিউটর’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
রায়ে বলা হয়, ১৯৭১ সালের ১০ থেকে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী, আনোয়ার পাশা, শহীদুল্লাহ কায়সার, সেলিনা পারভীন ও ডা. ফজলে রাব্বীসহ বহু বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবীকে অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
এদিকে, লন্ডনের সাম্প্রতিক ওই অনুষ্ঠানে মঈনুদ্দীনের উপস্থিতির ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে—যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত একজন ব্যক্তির সঙ্গে একই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা সংশ্লিষ্টদের অবস্থান ও বার্তা কী।
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।
ই-মেইল: kolom24news@gmail.com