২৫ আগস্ট ২০২৬
preview
ইব্রাহিমকে নির্যাতনের অভিযোগ, ঢাবিতে নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থীদের ৭ দফা দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রভোস্টের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী মো. ইব্রাহিমকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগের বিচার এবং ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে প্রশাসনিক হয়রানির প্রতিবাদে সমাবেশ করেছে ‘নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থীবৃন্দ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’।


রোববার (২৪ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এ প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।


সংগঠনটির অভিযোগ, গত ১৬ আগস্ট ফজলুল হক মুসলিম হলের অফিসে রোবটিক্স বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ইব্রাহিমকে ডেকে নিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেন হলের প্রভোস্ট। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পরিবর্তে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীই বর্তমানে প্রশাসনিক চাপ ও হয়রানির মুখে পড়েছেন।


প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হল অফিসে তালা লাগানোর ঘটনায় ইব্রাহিমকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।


অন্যদিকে, প্রভোস্টের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এবং সিসিটিভি ফুটেজের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ থাকার পরও তদন্ত চলাকালে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি। পাশাপাশি গঠিত তদন্ত কমিটিতে কোনো শিক্ষার্থী প্রতিনিধি না রাখায় তদন্তের নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তারা।


সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল সংসদের এজিএস তানজিনা তাম্মিম হাপসা, জগন্নাথ হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক সুদীপ্ত প্রামাণিক, ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হল সংসদের সদস্য রিয়াদুস সালেহীন, ফজলুল হক মুসলিম হল সংসদের সমাজসেবা সম্পাদক তরিকুল ইসলাম, রোবটিক্স স্টুডেন্টস ক্লাবের সভাপতি আজমাঈন ইশতিয়াক আপন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা আব্দুল্লাহ সালেহীন অয়ন এবং শহীদুল্লাহ হলের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ মাজেদুর রহমান।


সমাবেশ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে সাত দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো—


১. শিক্ষার্থী ইব্রাহিমের ওপর নির্যাতনের অভিযোগের নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করা।

২. তদন্ত চলাকালে অভিযুক্ত প্রভোস্টকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া।

৩. তদন্ত কমিটিতে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করা।

৪. ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও মানসিক হয়রানি বন্ধ করা।

৫. সুষ্ঠু তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া।

৬. বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও অভিযোগ জানানোর অধিকার নিশ্চিত করা।

৭. ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীসহ যাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে, তাদের শোকজ প্রত্যাহার করা।


সমাবেশ থেকে বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর যেকোনো ধরনের নিপীড়ন, হয়রানি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে তারা সোচ্চার থাকবেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের যেকোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী নিপীড়নের ঘটনা ঘটলে ভবিষ্যতেও প্রতিবাদ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়।



ই-মেইল: kolom24news@gmail.com