৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
preview
সালমান শাহ'র মৃত্যু নিয়ে অবাক করা তথ্য দিল সিআইডি

মো. নূর নবী শেখ

একটি মৃত্যু যে সব শেষ করে দেয় না, ৩০ বছর পরেও ভক্তদের ভালোবাসাই তার প্রমাণ করে। বলছি বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহর কথা। সিনেমায় নেমেই যিনি অল্প সময়েই তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন পুরো বাংলাদেশকে। কিন্তু ধূমকেতুর মতো এসে ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর আকাশের তারা হয়ে যান সালমান।

বারবার তদন্তে আত্মহত্যার কথা আসলেও হাল ছাড়েনি সালমানের পরিবার ও তার ভক্তরা। আর তাই পিবিআইয়ের তদন্তে নারাজি দেয় পরিবার।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর এ মামলায় সালমানের স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। স্ত্রী সামীরা ছাড়া মামলার অপর আসামিদের মধ্যে রয়েছেন শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই এবং খলনায়ক ডন। জারি করা হয় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা।

তিন দশক পর এবার একেবারেই ভিন্নভাবে এসেছে সালমানের মৃত্যুর দিনটি। গেল ৯ আগস্ট সালমান শাহ হত্যা মামলায় খল চরিত্রের অভিনেতা ডনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর তাকে পাঠানো হয় কারাগারে, মঞ্জুর করা হয় পাঁচ দিনের রিমান্ডও। নতুন মোড় নেয় সালমান শাহ হত্যা মামলা।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বর্তমান পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, আসামি ডনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা রিমান্ডে নিয়েছেন। বর্তমান সরকারের নীতি হলো, আমরা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে চাই এবং মামলার বিষয়বস্তু ও সত্য ঘটনা উদঘাটন করার জন্য যতটুকু সম্ভব, ততটুকু তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত করবেন।

সালমানের বন্ধুত্বের সুবাদে সামিরার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে মিশতেন ডন। এমন একটি ছবির ফরেনসিক পরীক্ষা করতে চেয়ে এরই মধ্যে আবেদন করেছে সালমান শাহর পরিবারের আইনজীবী। বললেন, এবার সামিরা গ্রেপ্তার হলে তারা খুশি হবেন।

তবে সালমান শাহর পরিবারের আইনজীবী ফারুক আহমেদ বলেন, তাদের (সামিরা ও ডন) যদি একটি ছবি ম্যাচিং হয়, তাহলে তার সঙ্গে তার একটা সম্পর্ক ছিল—এটা প্রমাণ হবে। সামিরা যদিও বলে যে, এটা আমার ছবি না। স্বাভাবিকভাবে আসামিরা তো সবসময় নিজের আত্মরক্ষার্থে বলবেই। এখন যদি আমরা অফিশিয়ালি, সাইন্টিফিকভাবে এটা মিলিয়ে দেখতে পারি, তাহলে আমরা একটা ক্লু পেয়ে যাব।

তিনি আরও বলেন, এই সালমান শাহ হত্যা হওয়ার পরেই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি শেষ। এটা আমার কাছে মনে হচ্ছে যে, আমাদের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে ধ্বংস করার জন্য অন্য একটা থার্ড পার্টি। তদন্ত করছি আমরা। ওই জিনিসটা হঠাৎ করে আমাদের কাছে এখন ধারণা হচ্ছে।

দৃঢ়কণ্ঠে সালমানের মা বললেন, তাঁর ছেলে আত্মহত্যা করেনি। খুনিরা যাতে দেশ ছাড়তে না পারে, সেজন্য পুলিশের নির্দেশনাও চান তিনি।

সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী জানান, আমরা মামলাই করতে পারিনি। ওরা ওদের মতো করে মামলা করে এটাকে আত্মহত্যা, তারপর অপমৃত্যু হিসেবে রেখে দিয়েছিল। আজিজ মোহাম্মদ ভাই আজকে পলাতক কেন? আজকে পলাতক তো আমাদের মামলার জন্যই। ডনকে গ্রেপ্তার করার পরে, হ্যাঁ, আমরা বলব এক ধাপ এগিয়েছে সরকার। এখনও যারা প্রধান আসামি, যেমন লুসি, সামিরার বাবা, সামিরা, তার স্ত্রী—প্রধান আসামি। এরা বাইরে রয়ে গেছে।

তবে এবার এ মামলায় বাকি আসামিদের কবে গ্রেপ্তার করে পুলিশ, তাই এখন দেখার বিষয়।


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মনিরা রওনক বুবলি

ই-মেইল: kolom24news@gmail.com